চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার হাইভোল্টেজ ম্যাচকে কেন্দ্র করে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোয় এখন সাজ সাজ রব। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এই মহারণ ঘিরে সমর্থকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে অভূতপূর্ব উদ্দীপনা। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য এই ম্যাচের ৩৫ হাজার টিকিটের সবকটিই এরই মধ্যে শেষ হয়ে গেছে, যা এই দ্বৈরথের আবেদনকে আরও একবার বিশ্বমঞ্চে প্রমাণ করল।
মাঠের লড়াই শুরুর আগেই কলম্বোর পর্যটন ও বিমান খাতে বইছে ঝোড়ো হাওয়া। ভারত-পাক ম্যাচকে কেন্দ্র করে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় কলম্বোমুখী ভ্রমণের খরচ এখন আকাশছোঁয়া। আন্তর্জাতিক সংবাদসূত্রে জানা গেছে, সাধারণ সময়ে যেসব হোটেলের কক্ষ ১০০ থেকে ১৫০ ডলারে পাওয়া যেত, বর্তমানে সেগুলোর ভাড়া বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৬০ ডলারে। জনপ্রিয় বুকিং সাইটগুলোতে অনুসন্ধান করে দেখা গেছে, শেষ মুহূর্তের চাপে অধিকাংশ হোটেলেই এখন আর কোনো কক্ষ খালি নেই।
বিমানের টিকিটের ক্ষেত্রেও দেখা গেছে একই চিত্র। চেন্নাই থেকে কলম্বোর মাত্র দেড় ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে সমর্থকদের গুনতে হচ্ছে ৬২৩ থেকে ৭৫৬ ডলার। দিল্লি-কলম্বো রুটেও ভাড়া বেড়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ, যা সর্বোচ্চ ৬৬৬ ডলারে ঠেকেছে। স্থানীয় ট্রাভেল এজেন্সিগুলো জানিয়েছে, ম্যাচ আয়োজনের চূড়ান্ত ঘোষণা আসার পরপরই বিশেষ করে চেন্নাই ও দিল্লি থেকে বুকিংয়ের ঢল নামে।
শ্রীলঙ্কা ইনবাউন্ড ট্যুর অপারেটরসের সভাপতি নালিন জয়াসুন্দেরা জানান, বিপুল সংখ্যক বিদেশি সমর্থক ১,৫০০ থেকে ২,০০০ ডলারের ‘অল-ইনক্লুসিভ’ প্যাকেজ নিয়ে শ্রীলঙ্কায় আসছেন। এই প্যাকেজগুলোতে টিকিট, হোটেল এবং যাতায়াত সুবিধা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তার মতে, ভারত-পাক ম্যাচের প্রভাবেই কলম্বোর হোটেলগুলো এখন কানায় কানায় পূর্ণ।
শ্রীলঙ্কার ভঙ্গুর অর্থনীতিতে পর্যটন খাত বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস। সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অর্থনৈতিক ধাক্কা সামলে ওঠার লড়াইয়ে এই ক্রিকেট উৎসবকে বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে দেশটির সরকার। শ্রীলঙ্কা ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বুদ্ধিকা হেওয়াসাম জানান, মাসের প্রথম ১০ দিনে আগত প্রায় ১ লাখ পর্যটকের মধ্যে ২০ শতাংশই এসেছেন শুধুমাত্র এই ম্যাচটি উপভোগ করতে। এটি নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে শ্রীলঙ্কার সক্ষমতারই বহিঃপ্রকাশ।
ম্যাচ দেখতে লাহোর থেকে কলম্বোয় আসা মিয়া সুলতান আশাবাদী যে, এই জয়ে পাকিস্তান পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে আসবে। তার এক বন্ধু গ্যালারির সামনের সারিতে বসে খেলা দেখার জন্য ৮০০ ডলার দিয়ে টিকিট কিনেছেন। সুলতানের মতে, এটি হবে তাদের জীবনের অন্যতম সেরা এক অভিজ্ঞতা।
সব মিলিয়ে, মাঠের লড়াইয়ে জয়-পরাজয় যাই হোক না কেন, অর্থনৈতিকভাবে এরই মধ্যে বড় জয় তুলে নিয়েছে আয়োজক শ্রীলঙ্কা। আর সমর্থকদের কাছে ভারত-পাকিস্তান লড়াই মানেই সীমানা ছাড়িয়ে যাওয়া এক পশলা আবেগ আর বাঁধভাঙা উন্মাদনা।
রিপোর্টারের নাম 
























