বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত লড়াই, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ, আয়োজনের পথ সুগম হয়েছে। বাংলাদেশের বিশ্বকাপ খেলতে না পারার প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে সম্প্রতি লাহোরে অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় বৈঠক এই আশার আলো দেখিয়েছে। আইসিসি, বিসিবি এবং পিসিবির সমন্বিত প্রচেষ্টায় একটি ইতিবাচক সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে, যা ক্রিকেটের স্বার্থেই অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা।
মূলত, বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ভেন্যু ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরের দাবিতে অনড় থাকার ফলে সৃষ্ট অচলাবস্থা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছিল। এই টানাপোড়েনের জেরে বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ার উপক্রম হয়েছিল, এবং তাদের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে সুযোগ দেওয়ার গুঞ্জন উঠেছিল। এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তান বাংলাদেশের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে ভারতের আধিপত্যবাদ এবং আইসিসির দ্বৈতনীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছিল। তারা বিশ্বকাপে অংশ নিলেও ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দিয়েছিল। তবে, লাহোরের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের পর পাকিস্তান সেই অবস্থান থেকে সরে এসে জানিয়েছে, তারা আগামীকাল কলম্বোয় ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামবে।
এই বৈঠকের অন্যতম প্রধান কারিগর ছিলেন বিসিবি সভাপতি। আইসিসির সাবেক মিডিয়া ম্যানেজার ও পাকিস্তানের সাংবাদিক সামি উল হাসান এই প্রসঙ্গে বলেন, “ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ক্রিকেটের স্বার্থেই অত্যন্ত জরুরি। এই ম্যাচ মাঠে না গড়ালে কেবল আর্থিক ক্ষতিই হতো না, বরং ছোট দেশগুলোর ক্রিকেট পরিচালনাও কঠিন হয়ে পড়ত।”
লাহোরের বৈঠকে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট হয়েছে। বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেলতে না পারলেও কোনো শাস্তির মুখে পড়বে না। উপরন্তু, ২০৩১ সাল পর্যন্ত নির্ধারিত আইসিসি ইভেন্টগুলো আয়োজনের সুযোগও তারা বজায় রাখবে। সামি উল হাসানের মতে, আইসিসির ইতিবাচক ভূমিকার কারণেই এই সমাধান সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, “আইসিসি যখন তাদের ভাইস প্রেসিডেন্টকে লাহোরে পাঠানোর উদ্যোগ নেয়, তখন থেকেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে শুরু করে। আইসিসি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে এবং একটি ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেছে। পিসিবি তাদের সমর্থন দিয়েছে এবং আইসিসি ও বিসিবি একসঙ্গে বসে একটি কার্যকরী সমাধান খুঁজে পেয়েছে, যা ক্রিকেটের জন্য অত্যন্ত শুভ।”
সামি উল হাসান আরও যোগ করেন, “পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড এবং পাকিস্তান সরকার সবসময়ই বিসিবির পাশে দাঁড়িয়েছে। তাদের এই সংহতি আইসিসির বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিফলিত হয়েছে। বাংলাদেশের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা আসছে না, বরং ২০৩০ সাল পর্যন্ত তাদের বাড়তি কিছু টুর্নামেন্ট আয়োজনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।”
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ আয়োজনের বিষয়ে আইসিসির আগ্রহের কারণ ব্যাখ্যা করে সামি উল হাসান বলেন, “এই ম্যাচ কেবল মিডিয়া রাইটস সংক্রান্ত নয়, এর সঙ্গে আরও অনেক বিষয় জড়িত। যদি এই ম্যাচ অনুষ্ঠিত না হতো, তবে আইসিসি তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতো।” তিনি আরও বলেন, “এই অর্থ যদি ছোট দেশগুলোতে না পৌঁছায়, তবে তাদের খেলা চালিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ত। তাই ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের প্রভাব অনেক গভীর। এই কারণেই আমরা নিয়মিত এই দুই দলের ম্যাচ দেখি, এবং দুই দলের একই গ্রুপে থাকা স্পনসরদের কাছেও এটি গুরুত্বপূর্ণ।”
—
রিপোর্টারের নাম 
























