ঢাকা ০৫:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

অভিষেকেই অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী স্টারস: সেনাবাহিনীকে হারিয়ে শিরোপা জয়

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১৪:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

দেশের নারী ফুটবলে নতুন শক্তির উত্থান ঘটল। প্রথমবারের মতো অংশ নিয়েই নারী ফুটবল লিগের সপ্তম আসরে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে রাজশাহী স্টারস। লিগের শেষ ম্যাচে আজ শক্তিশালী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে শিরোপা উল্লাসে মেতে ওঠে দলটি। ১০ ম্যাচের সবকটিতে জিতে পূর্ণ ৩০ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে থেকে মিশন শেষ করলেন ঋতুপর্ণা-আলপিরা। অন্যদিকে, সমান ম্যাচে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে রানার্সআপ হয়েছে সেনাবাহিনী।

ঢাকার কমলাপুরস্থ বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে আজ শিরোপা নির্ধারণী সমীকরণের মুখে দাঁড়িয়েছিল দুই দল। চ্যাম্পিয়ন হতে রাজশাহীর প্রয়োজন ছিল মাত্র ১ পয়েন্ট, আর লিগটিকে প্লে-অফে টেনে নিতে সেনাবাহিনীর সামনে জয়ের কোনো বিকল্প ছিল না। তবে মাঠের লড়াইয়ে আধিপত্য বিস্তার করে দাপুটে জয়েই মাঠ ছাড়ে রাজশাহীর মেয়েরা।

খেলার প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে খেই হারিয়ে ফেলে সেনাবাহিনীর রক্ষণভাগ। ৪৭ মিনিটে ডেডলক ভাঙেন আলপি আক্তার। সৌরভী আকন্দের নিখুঁত পাস থেকে বল জালে জড়িয়ে দলকে লিড এনে দেন তিনি। ব্যবধান দ্বিগুণ করতে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। ৫৮ মিনিটে ঋতুপর্ণা চাকমার ক্রস থেকে দুর্দান্ত এক শটে গোল করেন শাহেদা আক্তার রিপা। ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে (৮৮ মিনিট) সেনাবাহিনীর কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন ঋতুপর্ণা নিজেই। বাঁ পায়ের কোণাকুণি শটে গোল করে দলের ৩-০ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন এই তারকা ফরোয়ার্ড।

ম্যাচ শেষে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে ঋতুপর্ণা চাকমা বলেন, “আগে বড় তারকাদের সবাই এক দলে থাকায় লিগে লড়াই হতো না। এবার ‘পুল সিস্টেম’ চালু হওয়ায় প্রতিটি দলই শক্তিশালী হয়েছে এবং লিগটি অনেক বেশি প্রতিযোগিতামূলক হয়েছে। এমন কঠিন পথ পাড়ি দিয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়া আমাদের জন্য বড় অর্জন।”

রাজশাহীর ঐতিহাসিক এই সাফল্যের নেপথ্যে ছিল সুশৃঙ্খল পরিকল্পনা। দলের কোচ মাহমুদা শরীফা অদিতি জানান, তাদের লক্ষ্য ছিল প্রতিটি ম্যাচ থেকে পূর্ণ ৩ পয়েন্ট আদায় করা। ড্র করার কোনো মানসিকতা নিয়ে তারা মাঠে নামেননি। অন্যদিকে, অধিনায়ক শিউলি আজিম প্রতিপক্ষ সেনাবাহিনীর প্রশংসা করে বলেন, তারা বেশ ভারসাম্যপূর্ণ দল ছিল, তাই জয় পেতে সর্বোচ্চ শ্রম দিতে হয়েছে।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ দেড় বছর পর গত ২৯ ডিসেম্বর মাঠে গড়িয়েছিল নারী ফুটবল লিগের এই আসর। ১১ দলের এই টুর্নামেন্ট মাঠের অব্যবস্থাপনা ও সূচি নিয়ে কিছুটা বিতর্কের মুখে পড়লেও শেষ পর্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এবারের লিগে অংশ নেয়নি গত তিন আসরের চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস। অন্যদিকে, গতবারের শিরোপাধারী নাসরিন স্পোর্টস একাডেমি ১০ ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটিতে জয় পেয়ে পয়েন্ট টেবিলের তলানির দিকে থেকে আসর শেষ করেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাঁশখালীতে শঙ্খ নদীর তীব্র ভাঙন: মুহূর্তেই বিলীন ৪ বসতঘর

অভিষেকেই অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী স্টারস: সেনাবাহিনীকে হারিয়ে শিরোপা জয়

আপডেট সময় : ১০:১৪:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দেশের নারী ফুটবলে নতুন শক্তির উত্থান ঘটল। প্রথমবারের মতো অংশ নিয়েই নারী ফুটবল লিগের সপ্তম আসরে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে রাজশাহী স্টারস। লিগের শেষ ম্যাচে আজ শক্তিশালী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে শিরোপা উল্লাসে মেতে ওঠে দলটি। ১০ ম্যাচের সবকটিতে জিতে পূর্ণ ৩০ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে থেকে মিশন শেষ করলেন ঋতুপর্ণা-আলপিরা। অন্যদিকে, সমান ম্যাচে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে রানার্সআপ হয়েছে সেনাবাহিনী।

ঢাকার কমলাপুরস্থ বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে আজ শিরোপা নির্ধারণী সমীকরণের মুখে দাঁড়িয়েছিল দুই দল। চ্যাম্পিয়ন হতে রাজশাহীর প্রয়োজন ছিল মাত্র ১ পয়েন্ট, আর লিগটিকে প্লে-অফে টেনে নিতে সেনাবাহিনীর সামনে জয়ের কোনো বিকল্প ছিল না। তবে মাঠের লড়াইয়ে আধিপত্য বিস্তার করে দাপুটে জয়েই মাঠ ছাড়ে রাজশাহীর মেয়েরা।

খেলার প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে খেই হারিয়ে ফেলে সেনাবাহিনীর রক্ষণভাগ। ৪৭ মিনিটে ডেডলক ভাঙেন আলপি আক্তার। সৌরভী আকন্দের নিখুঁত পাস থেকে বল জালে জড়িয়ে দলকে লিড এনে দেন তিনি। ব্যবধান দ্বিগুণ করতে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। ৫৮ মিনিটে ঋতুপর্ণা চাকমার ক্রস থেকে দুর্দান্ত এক শটে গোল করেন শাহেদা আক্তার রিপা। ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে (৮৮ মিনিট) সেনাবাহিনীর কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন ঋতুপর্ণা নিজেই। বাঁ পায়ের কোণাকুণি শটে গোল করে দলের ৩-০ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন এই তারকা ফরোয়ার্ড।

ম্যাচ শেষে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে ঋতুপর্ণা চাকমা বলেন, “আগে বড় তারকাদের সবাই এক দলে থাকায় লিগে লড়াই হতো না। এবার ‘পুল সিস্টেম’ চালু হওয়ায় প্রতিটি দলই শক্তিশালী হয়েছে এবং লিগটি অনেক বেশি প্রতিযোগিতামূলক হয়েছে। এমন কঠিন পথ পাড়ি দিয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়া আমাদের জন্য বড় অর্জন।”

রাজশাহীর ঐতিহাসিক এই সাফল্যের নেপথ্যে ছিল সুশৃঙ্খল পরিকল্পনা। দলের কোচ মাহমুদা শরীফা অদিতি জানান, তাদের লক্ষ্য ছিল প্রতিটি ম্যাচ থেকে পূর্ণ ৩ পয়েন্ট আদায় করা। ড্র করার কোনো মানসিকতা নিয়ে তারা মাঠে নামেননি। অন্যদিকে, অধিনায়ক শিউলি আজিম প্রতিপক্ষ সেনাবাহিনীর প্রশংসা করে বলেন, তারা বেশ ভারসাম্যপূর্ণ দল ছিল, তাই জয় পেতে সর্বোচ্চ শ্রম দিতে হয়েছে।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ দেড় বছর পর গত ২৯ ডিসেম্বর মাঠে গড়িয়েছিল নারী ফুটবল লিগের এই আসর। ১১ দলের এই টুর্নামেন্ট মাঠের অব্যবস্থাপনা ও সূচি নিয়ে কিছুটা বিতর্কের মুখে পড়লেও শেষ পর্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এবারের লিগে অংশ নেয়নি গত তিন আসরের চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস। অন্যদিকে, গতবারের শিরোপাধারী নাসরিন স্পোর্টস একাডেমি ১০ ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটিতে জয় পেয়ে পয়েন্ট টেবিলের তলানির দিকে থেকে আসর শেষ করেছে।