ঢাকা ০৬:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

নাটোরের জাতীয় নির্বাচনে ১৯ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত, সব আসনে বিজয়ী বিএনপি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৯:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাটোরে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী মোট ২৭ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৯ জনই তাদের জামানত হারিয়েছেন। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী যদি মোট প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ বা সাড়ে ১২ শতাংশ ভোট পেতে ব্যর্থ হন, তবে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। এই বিধানের আওতায় ১৯ জন প্রার্থী প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভোট না পাওয়ায় তাদের জামানত আর ফেরত পাচ্ছেন না।

নাটোরের জেলা প্রশাসক এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা আসমা শাহীন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, চারটি সংসদীয় আসনে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ১৯ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্যের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নাটোরের চারটি আসনে বিএনপি প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থীরা। তবে, বিএনপি, জামায়াত এবং নাটোর-১ আসনের একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী ছাড়া অন্য সকল প্রার্থীই ন্যূনতম ভোট পেতে ব্যর্থ হয়েছেন, যার ফলে তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

আসনভিত্তিক ফলাফল:

নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া): মোট ভোটার ২,৭৪,৪০৯ জন। জামানত রক্ষার জন্য প্রয়োজন ছিল ৩৪,৩০১ ভোট। এই আসনে ৭ জন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন: ডা. ইয়াসির আরশাদ (স্বতন্ত্র), আনছার আলী (বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি), আব্দুল্লাহিল বাকী (ইসলামী আন্দোলন), মেহেদী হাসান (গণঅধিকার পরিষদ), মোয়াজ্জেম হোসেন (স্বতন্ত্র), সাহেদ আলী জিন্নাহ (জাতীয় পার্টি), এবং সেন্টু আলী (গণসংহতি আন্দোলন)। এই আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত ফারজানা শারমিন পুতুল।

নাটোর-২ (সদর-নলডাঙ্গা): মোট ভোটার ৩,০৫,৩৫০ জন। জামানত রক্ষার জন্য প্রয়োজন ছিল ৩৮,১৬৯ ভোট। এই আসনে ৪ জন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন: নুরুন্নবী মৃধা (স্বতন্ত্র), তাহামিদা ইসলাম তানিয়া (গণসংহতি আন্দোলন), মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), এবং রকিব উদ্দিন কমল (জাতীয় পার্টি)। এই আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু।

নাটোর-৩ (সিংড়া): মোট ভোটার ২,৩৩,৫৮১ জন। জামানত রক্ষার জন্য প্রয়োজন ছিল ২৯,১৯৮ ভোট। এই আসনে ৪ জন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন: এস এম জারজিস কাদির (এনসিপি), আশিক ইকবাল (জাতীয় পার্টি), খলিলুর রহমান (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), এবং দেলোয়ার হোসেন (স্বতন্ত্র)। এই আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত আনোয়ারুল ইসলাম আনু।

নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম): মোট ভোটার ৩,১৯,১৪১ জন। জামানত রক্ষার জন্য প্রয়োজন ছিল ৩৯,৮৯৩ ভোট। এই আসনে ৩ জন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন: এম ইউসুফ আহমদ (জাতীয় পার্টি), মো. এমদাদুল্লাহ (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), এবং মোকসেদুল মোমিন (এবি পার্টি)। এই আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত আব্দুল আজিজ।

উল্লেখ্য, নাটোরের চারটি সংসদীয় আসনের সবকটিতেই বিএনপি প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দুই দশক পর এম. সাইফুর রহমানের নামে ফিরছে সিলেট অডিটোরিয়াম

নাটোরের জাতীয় নির্বাচনে ১৯ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত, সব আসনে বিজয়ী বিএনপি

আপডেট সময় : ০৯:৪৯:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাটোরে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী মোট ২৭ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৯ জনই তাদের জামানত হারিয়েছেন। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী যদি মোট প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ বা সাড়ে ১২ শতাংশ ভোট পেতে ব্যর্থ হন, তবে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। এই বিধানের আওতায় ১৯ জন প্রার্থী প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভোট না পাওয়ায় তাদের জামানত আর ফেরত পাচ্ছেন না।

নাটোরের জেলা প্রশাসক এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা আসমা শাহীন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, চারটি সংসদীয় আসনে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ১৯ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্যের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নাটোরের চারটি আসনে বিএনপি প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থীরা। তবে, বিএনপি, জামায়াত এবং নাটোর-১ আসনের একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী ছাড়া অন্য সকল প্রার্থীই ন্যূনতম ভোট পেতে ব্যর্থ হয়েছেন, যার ফলে তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

আসনভিত্তিক ফলাফল:

নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া): মোট ভোটার ২,৭৪,৪০৯ জন। জামানত রক্ষার জন্য প্রয়োজন ছিল ৩৪,৩০১ ভোট। এই আসনে ৭ জন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন: ডা. ইয়াসির আরশাদ (স্বতন্ত্র), আনছার আলী (বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি), আব্দুল্লাহিল বাকী (ইসলামী আন্দোলন), মেহেদী হাসান (গণঅধিকার পরিষদ), মোয়াজ্জেম হোসেন (স্বতন্ত্র), সাহেদ আলী জিন্নাহ (জাতীয় পার্টি), এবং সেন্টু আলী (গণসংহতি আন্দোলন)। এই আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত ফারজানা শারমিন পুতুল।

নাটোর-২ (সদর-নলডাঙ্গা): মোট ভোটার ৩,০৫,৩৫০ জন। জামানত রক্ষার জন্য প্রয়োজন ছিল ৩৮,১৬৯ ভোট। এই আসনে ৪ জন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন: নুরুন্নবী মৃধা (স্বতন্ত্র), তাহামিদা ইসলাম তানিয়া (গণসংহতি আন্দোলন), মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), এবং রকিব উদ্দিন কমল (জাতীয় পার্টি)। এই আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু।

নাটোর-৩ (সিংড়া): মোট ভোটার ২,৩৩,৫৮১ জন। জামানত রক্ষার জন্য প্রয়োজন ছিল ২৯,১৯৮ ভোট। এই আসনে ৪ জন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন: এস এম জারজিস কাদির (এনসিপি), আশিক ইকবাল (জাতীয় পার্টি), খলিলুর রহমান (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), এবং দেলোয়ার হোসেন (স্বতন্ত্র)। এই আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত আনোয়ারুল ইসলাম আনু।

নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম): মোট ভোটার ৩,১৯,১৪১ জন। জামানত রক্ষার জন্য প্রয়োজন ছিল ৩৯,৮৯৩ ভোট। এই আসনে ৩ জন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন: এম ইউসুফ আহমদ (জাতীয় পার্টি), মো. এমদাদুল্লাহ (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), এবং মোকসেদুল মোমিন (এবি পার্টি)। এই আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত আব্দুল আজিজ।

উল্লেখ্য, নাটোরের চারটি সংসদীয় আসনের সবকটিতেই বিএনপি প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন।