ঢাকা ০৬:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

ময়মনসিংহে বিএনপির আধিপত্য: ১১ আসনের ৮টিতে জয়, ২টিতে জামায়াত ও ১টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:০২:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

ময়মনসিংহের সংসদীয় আসনগুলোতে বড় জয় পেয়েছে বিএনপি। জেলার মোট ১১টি আসনের মধ্যে ৮টি আসনেই দলটির প্রার্থীরা বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। বাকি তিনটি আসনের মধ্যে দুটিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট এবং একটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়লাভ করেছেন। শুক্রবার সকালে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ীদের হাতে ফলাফল তুলে দেন।

নির্বাচনি ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ময়মনসিংহের রাজনীতিতে বিএনপি তাদের শক্তিশালী অবস্থান বজায় রাখলেও কিছু আসনে স্বতন্ত্র ও জোট প্রার্থীদের কাছে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়েছে। বিশেষ করে ময়মনসিংহ-১ আসনে বড় ধরনের চমক দেখিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী।

আসনভিত্তিক ফলাফল:
ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া): এই আসনে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সকে পরাজিত করে জয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমর রুবেল। তিনি পেয়েছেন ১,০৮,২৬৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রিন্স পেয়েছেন ১,০১,৯২৬ ভোট। এই আসনে ভোটারের উপস্থিতির হার ছিল ৫৬.৮৭ শতাংশ।

ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা): জামায়াত জোটের প্রার্থী মুহাম্মদুল্লাহ ১,৪৬,২০২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি বিএনপির মোতাহার হোসেন তালুকদারকে পরাজিত করেন। এখানে ভোটের হার ৫৬.৮২ শতাংশ।

ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর): বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এম ইকবাল হোসেন ৭৫,৩২০ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। এই আসনে ৫৮.৬০ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।

ময়মনসিংহ-৪ (সদর): জেলা সদরের এই গুরুত্বপূর্ণ আসনে বিএনপির আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ ১,৭৯,৬৬৮ ভোট পেয়ে বড় ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন। এখানে ভোটের হার ছিল ৫৪.৫০ শতাংশ।

ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা): এই আসনে বিএনপির মোহাম্মদ জাকির হোসেন ১,২৮,৮৯৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। মুক্তাগাছায় ভোটার উপস্থিতির হার ছিল ৬২.১১ শতাংশ, যা জেলায় সর্বোচ্চ।

ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া): জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী মো. কামরুল হাসান মিলন ৭৭,৩২৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির প্রার্থী। এখানে ৫৭.১১ শতাংশ ভোট পড়েছে।

ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল): বিএনপির ডা. মাহাবুবুর রহমান ৯৯,০৪৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এই আসনে ভোটের হার ৫৬.৭৭ শতাংশ।

ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ): বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছেন বিএনপির লুৎফুল্লাহেল মাজেদ। তার প্রাপ্ত ভোট ১,০৮,৬৮৫। এখানে ৫৫.৮৭ শতাংশ ভোট সংগৃহীত হয়েছে।

ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল): বিএনপির ইয়াসের খান চৌধুরী ৮৫,৭৬১ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। এই আসনে ভোটের হার ছিল ৫১.৬৭ শতাংশ।

ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও): এই আসনে বিএনপির মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান ৭৫,৫৮৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী ঘোষিত হয়েছেন।

ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা): বিএনপির ফখর উদ্দিন আহমেদ ১,১১,২৩০ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। এখানে ৫৬.৬৯ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছেন।

সামগ্রিক ফলাফলে ময়মনসিংহে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাধিক্য থাকলেও ময়মনসিংহ-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিজয় এবং ময়মনসিংহ-২ ও ৬ আসনে জামায়াত জোটের সাফল্য জেলার রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় বিশ্লেষকরা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দুই দশক পর এম. সাইফুর রহমানের নামে ফিরছে সিলেট অডিটোরিয়াম

ময়মনসিংহে বিএনপির আধিপত্য: ১১ আসনের ৮টিতে জয়, ২টিতে জামায়াত ও ১টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী

আপডেট সময় : ০৯:০২:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ময়মনসিংহের সংসদীয় আসনগুলোতে বড় জয় পেয়েছে বিএনপি। জেলার মোট ১১টি আসনের মধ্যে ৮টি আসনেই দলটির প্রার্থীরা বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। বাকি তিনটি আসনের মধ্যে দুটিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট এবং একটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়লাভ করেছেন। শুক্রবার সকালে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ীদের হাতে ফলাফল তুলে দেন।

নির্বাচনি ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ময়মনসিংহের রাজনীতিতে বিএনপি তাদের শক্তিশালী অবস্থান বজায় রাখলেও কিছু আসনে স্বতন্ত্র ও জোট প্রার্থীদের কাছে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়েছে। বিশেষ করে ময়মনসিংহ-১ আসনে বড় ধরনের চমক দেখিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী।

আসনভিত্তিক ফলাফল:
ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া): এই আসনে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সকে পরাজিত করে জয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমর রুবেল। তিনি পেয়েছেন ১,০৮,২৬৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রিন্স পেয়েছেন ১,০১,৯২৬ ভোট। এই আসনে ভোটারের উপস্থিতির হার ছিল ৫৬.৮৭ শতাংশ।

ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা): জামায়াত জোটের প্রার্থী মুহাম্মদুল্লাহ ১,৪৬,২০২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি বিএনপির মোতাহার হোসেন তালুকদারকে পরাজিত করেন। এখানে ভোটের হার ৫৬.৮২ শতাংশ।

ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর): বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এম ইকবাল হোসেন ৭৫,৩২০ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। এই আসনে ৫৮.৬০ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।

ময়মনসিংহ-৪ (সদর): জেলা সদরের এই গুরুত্বপূর্ণ আসনে বিএনপির আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ ১,৭৯,৬৬৮ ভোট পেয়ে বড় ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন। এখানে ভোটের হার ছিল ৫৪.৫০ শতাংশ।

ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা): এই আসনে বিএনপির মোহাম্মদ জাকির হোসেন ১,২৮,৮৯৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। মুক্তাগাছায় ভোটার উপস্থিতির হার ছিল ৬২.১১ শতাংশ, যা জেলায় সর্বোচ্চ।

ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া): জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী মো. কামরুল হাসান মিলন ৭৭,৩২৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির প্রার্থী। এখানে ৫৭.১১ শতাংশ ভোট পড়েছে।

ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল): বিএনপির ডা. মাহাবুবুর রহমান ৯৯,০৪৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এই আসনে ভোটের হার ৫৬.৭৭ শতাংশ।

ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ): বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছেন বিএনপির লুৎফুল্লাহেল মাজেদ। তার প্রাপ্ত ভোট ১,০৮,৬৮৫। এখানে ৫৫.৮৭ শতাংশ ভোট সংগৃহীত হয়েছে।

ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল): বিএনপির ইয়াসের খান চৌধুরী ৮৫,৭৬১ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। এই আসনে ভোটের হার ছিল ৫১.৬৭ শতাংশ।

ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও): এই আসনে বিএনপির মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান ৭৫,৫৮৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী ঘোষিত হয়েছেন।

ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা): বিএনপির ফখর উদ্দিন আহমেদ ১,১১,২৩০ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। এখানে ৫৬.৬৯ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছেন।

সামগ্রিক ফলাফলে ময়মনসিংহে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাধিক্য থাকলেও ময়মনসিংহ-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিজয় এবং ময়মনসিংহ-২ ও ৬ আসনে জামায়াত জোটের সাফল্য জেলার রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় বিশ্লেষকরা।