ঢাকা ০৬:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

নির্বাচনে জয়ী বিএনপি নেতার ‘তালামুক্ত’ করলেন প্রতিপক্ষের দলীয় কার্যালয়

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:০৭:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

পঞ্চগড় সদর উপজেলায় স্থানীয় নির্বাচনে জয়লাভের পর এক অপ্রত্যাশিত ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর পঞ্চগড় সদর উপজেলা শাখার সভাপতি আবু দাউদ প্রধান, যিনি সম্প্রতি নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন, তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি দলীয় কার্যালয়ের তালা খুলে দিয়েছেন। শুক্রবার সকালে সদর উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যালয়টি খুলে দিয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের পাশে থাকার আশ্বাস প্রদান করেন। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পক্ষে-বিপক্ষে নানা মন্তব্য ও আলোচনার জন্ম দেয়।

চাকলাহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বুলেট এই ঘটনাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু দাউদ প্রধান তৃণমূল আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সংগঠনকে ‘তালামুক্ত’ করে একটি নজির স্থাপন করেছেন। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন অভিযোগ করেন যে, তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা থেকে মুক্তি পেতে তারা আবু দাউদ প্রধানের সহায়তা চেয়েছেন। সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আনিসুজ্জমান স্বপন বলেন, তারা দল-মত নির্বিশেষে এলাকায় শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান চান।

নিজস্ব প্রতিক্রিয়ায় আবু দাউদ প্রধান জানান, তিনি পূর্বে কার্যালয়টিতে তালাবদ্ধ থাকার বিষয়টি অবগত ছিলেন না। অবগত থাকলে তিনি আগেই ব্যবস্থা নিতেন। দীর্ঘ সময় পর এই বিজয়কে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই কার্যালয়টি খুলে দেওয়া হয়েছে। তিনি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক। কোনো অন্যায় করবেন না। কেউ অন্যায় আচরণ করলে আমাকে জানাবেন।” মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন আরও জানান, কার্যালয়টি পূর্বে জামায়াত-শিবির কর্মীরা তালাবদ্ধ করে রেখেছিল। এখন মুক্তিযোদ্ধারা সেখানে বসবেন, তবে আপাতত আওয়ামী লীগের কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রম সেখানে পরিচালিত হবে না।

অন্যদিকে, এই ঘটনা স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. জাহিরুল ইসলাম কাচ্চু জানান, আওয়ামী লীগের কার্যালয় অবমুক্ত করার বিষয়ে দলীয়ভাবে কোনো সিদ্ধান্ত বা নির্দেশনা দেওয়া হয়নি, এমনকি কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকেও কোনো অনুমোদন ছিল না। জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ইউনুস শেখও এই ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং জানান যে এ বিষয়ে সাংগঠনিকভাবে কোনো অনুমোদন ছিল না। এই অপ্রত্যাশিত পদক্ষেপ স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দুই দশক পর এম. সাইফুর রহমানের নামে ফিরছে সিলেট অডিটোরিয়াম

নির্বাচনে জয়ী বিএনপি নেতার ‘তালামুক্ত’ করলেন প্রতিপক্ষের দলীয় কার্যালয়

আপডেট সময় : ০৮:০৭:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পঞ্চগড় সদর উপজেলায় স্থানীয় নির্বাচনে জয়লাভের পর এক অপ্রত্যাশিত ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর পঞ্চগড় সদর উপজেলা শাখার সভাপতি আবু দাউদ প্রধান, যিনি সম্প্রতি নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন, তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি দলীয় কার্যালয়ের তালা খুলে দিয়েছেন। শুক্রবার সকালে সদর উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যালয়টি খুলে দিয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের পাশে থাকার আশ্বাস প্রদান করেন। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পক্ষে-বিপক্ষে নানা মন্তব্য ও আলোচনার জন্ম দেয়।

চাকলাহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বুলেট এই ঘটনাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু দাউদ প্রধান তৃণমূল আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সংগঠনকে ‘তালামুক্ত’ করে একটি নজির স্থাপন করেছেন। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন অভিযোগ করেন যে, তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা থেকে মুক্তি পেতে তারা আবু দাউদ প্রধানের সহায়তা চেয়েছেন। সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আনিসুজ্জমান স্বপন বলেন, তারা দল-মত নির্বিশেষে এলাকায় শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান চান।

নিজস্ব প্রতিক্রিয়ায় আবু দাউদ প্রধান জানান, তিনি পূর্বে কার্যালয়টিতে তালাবদ্ধ থাকার বিষয়টি অবগত ছিলেন না। অবগত থাকলে তিনি আগেই ব্যবস্থা নিতেন। দীর্ঘ সময় পর এই বিজয়কে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই কার্যালয়টি খুলে দেওয়া হয়েছে। তিনি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক। কোনো অন্যায় করবেন না। কেউ অন্যায় আচরণ করলে আমাকে জানাবেন।” মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন আরও জানান, কার্যালয়টি পূর্বে জামায়াত-শিবির কর্মীরা তালাবদ্ধ করে রেখেছিল। এখন মুক্তিযোদ্ধারা সেখানে বসবেন, তবে আপাতত আওয়ামী লীগের কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রম সেখানে পরিচালিত হবে না।

অন্যদিকে, এই ঘটনা স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. জাহিরুল ইসলাম কাচ্চু জানান, আওয়ামী লীগের কার্যালয় অবমুক্ত করার বিষয়ে দলীয়ভাবে কোনো সিদ্ধান্ত বা নির্দেশনা দেওয়া হয়নি, এমনকি কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকেও কোনো অনুমোদন ছিল না। জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ইউনুস শেখও এই ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং জানান যে এ বিষয়ে সাংগঠনিকভাবে কোনো অনুমোদন ছিল না। এই অপ্রত্যাশিত পদক্ষেপ স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।