ঢাকা ০৪:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

নিপীড়িতদের আশ্রয় ও মানবিকতার প্রতীক হিজরত: নিউইয়র্ক মেয়রের কণ্ঠে মহানবীর জীবনের উপাখ্যান

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৩৭:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি নিয়ে এক ভিন্নধর্মী ব্যাখ্যা তুলে ধরতে গিয়ে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র এরিক অ্যাডামস মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর হিজরতের ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্মরণ করেছেন। তিনি বলেন, ইসলাম কেবল একটি ধর্মই নয়, বরং এটি অভিবাসন ও আশ্রয়ের এক গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের ওপর প্রতিষ্ঠিত। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) এক আন্তধর্মীয় প্রাতরাশ সভায় মেয়র অ্যাডামস এই মন্তব্য করেন, যেখানে তিনি অভিবাসন প্রশ্নে মানবিকতা, সহমর্মিতা এবং বিপন্ন মানুষকে আশ্রয় দেওয়ার পক্ষে তার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।

মেয়র অ্যাডামস বলেন, “আমি ইসলামকে দেখি একটি অভিবাসন কাহিনির ওপর প্রতিষ্ঠিত ধর্ম হিসেবে।” তিনি উল্লেখ করেন যে, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) নিজেও একসময় মক্কায় নিপীড়নের শিকার হয়ে স্বদেশ ত্যাগ করে মদিনায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। এই ঐতিহাসিক ঘটনা আজও আমাদের মানবিকতা, সহানুভূতি এবং যারা বিপদে আছেন তাদের পাশে দাঁড়ানোর শিক্ষা দেয়।

এই প্রসঙ্গে, মেয়র অ্যাডামস অভিবাসীদের সুরক্ষা জোরদার করার জন্য নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসনের নেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের কথাও জানান। তিনি একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন, যা সিটি সম্পত্তিতে ফেডারেল অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কার্যক্রমকে সীমিত করবে। মেয়রের ভাষায়, এই আদেশ অভিবাসী সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং সামগ্রিক জননিরাপত্তা রক্ষায় সিটির অঙ্গীকারের প্রতিফলন। তিনি আরও বলেন, এই সিদ্ধান্ত কেবল অভিবাসীদের নয়, বরং নিউইয়র্কের সকল বাসিন্দাকে অবৈধ ও নিপীড়নমূলক অভিবাসন তৎপরতা থেকে সুরক্ষা দেবে।

নতুন নির্বাহী আদেশ অনুযায়ী, এখন থেকে বিচারিক ওয়ারেন্ট ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) নিউইয়র্ক সিটির কোনো সম্পত্তিতে প্রবেশ করতে পারবে না। মেয়র অ্যাডামস জানান, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো অভিবাসন অবস্থান নির্বিশেষে সকল বাসিন্দা যেন ভয়মুক্ত পরিবেশে শহরের সেবা গ্রহণ করতে পারেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, কোনো নিউইয়র্কবাসী যেন কেবল অভিবাসী পরিচয়ের কারণে শিশু যত্নসহ প্রয়োজনীয় সামাজিক সেবার জন্য আবেদন করতে ভয় না পান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কাউখালীতে ভাঙা সড়কে বাঁশের সাঁকো: পাঁচ গ্রামের মানুষের চরম ভোগান্তি

নিপীড়িতদের আশ্রয় ও মানবিকতার প্রতীক হিজরত: নিউইয়র্ক মেয়রের কণ্ঠে মহানবীর জীবনের উপাখ্যান

আপডেট সময় : ০২:৩৭:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি নিয়ে এক ভিন্নধর্মী ব্যাখ্যা তুলে ধরতে গিয়ে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র এরিক অ্যাডামস মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর হিজরতের ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্মরণ করেছেন। তিনি বলেন, ইসলাম কেবল একটি ধর্মই নয়, বরং এটি অভিবাসন ও আশ্রয়ের এক গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের ওপর প্রতিষ্ঠিত। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) এক আন্তধর্মীয় প্রাতরাশ সভায় মেয়র অ্যাডামস এই মন্তব্য করেন, যেখানে তিনি অভিবাসন প্রশ্নে মানবিকতা, সহমর্মিতা এবং বিপন্ন মানুষকে আশ্রয় দেওয়ার পক্ষে তার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।

মেয়র অ্যাডামস বলেন, “আমি ইসলামকে দেখি একটি অভিবাসন কাহিনির ওপর প্রতিষ্ঠিত ধর্ম হিসেবে।” তিনি উল্লেখ করেন যে, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) নিজেও একসময় মক্কায় নিপীড়নের শিকার হয়ে স্বদেশ ত্যাগ করে মদিনায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। এই ঐতিহাসিক ঘটনা আজও আমাদের মানবিকতা, সহানুভূতি এবং যারা বিপদে আছেন তাদের পাশে দাঁড়ানোর শিক্ষা দেয়।

এই প্রসঙ্গে, মেয়র অ্যাডামস অভিবাসীদের সুরক্ষা জোরদার করার জন্য নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসনের নেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের কথাও জানান। তিনি একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন, যা সিটি সম্পত্তিতে ফেডারেল অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কার্যক্রমকে সীমিত করবে। মেয়রের ভাষায়, এই আদেশ অভিবাসী সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং সামগ্রিক জননিরাপত্তা রক্ষায় সিটির অঙ্গীকারের প্রতিফলন। তিনি আরও বলেন, এই সিদ্ধান্ত কেবল অভিবাসীদের নয়, বরং নিউইয়র্কের সকল বাসিন্দাকে অবৈধ ও নিপীড়নমূলক অভিবাসন তৎপরতা থেকে সুরক্ষা দেবে।

নতুন নির্বাহী আদেশ অনুযায়ী, এখন থেকে বিচারিক ওয়ারেন্ট ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) নিউইয়র্ক সিটির কোনো সম্পত্তিতে প্রবেশ করতে পারবে না। মেয়র অ্যাডামস জানান, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো অভিবাসন অবস্থান নির্বিশেষে সকল বাসিন্দা যেন ভয়মুক্ত পরিবেশে শহরের সেবা গ্রহণ করতে পারেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, কোনো নিউইয়র্কবাসী যেন কেবল অভিবাসী পরিচয়ের কারণে শিশু যত্নসহ প্রয়োজনীয় সামাজিক সেবার জন্য আবেদন করতে ভয় না পান।