আগামী বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকে বসছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই বৈঠককে কেন্দ্র করে ইরান পরিস্থিতি নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে গভীর আলোচনা প্রত্যাশিত। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে রোববার এই তথ্য জানানো হয়েছে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত শুক্রবার ওমানের রাজধানী মাস্কাটে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। উভয় পক্ষই ভবিষ্যতে এই ধরনের আলোচনা অব্যাহত রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
ইসরায়েলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত দিয়েছেন। শর্তগুলো হলো:
১. সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়ামের ৪০০ কেজি মজুত অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া।
২. ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামোর ধ্বংস সাধন।
৩. ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার বিলোপ।
৪. ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রাখা।
৫. সিরিয়া, ইয়েমেন, ইরাক ও লেবাননের মতো দেশগুলোতে তাদের সশস্ত্র মিত্রদের সহায়তা প্রদান বন্ধ করা।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান চাথাম হাউসের পরিচালক ব্রোনওয়েন ম্যাডোক্স মনে করেন, ট্রাম্পের দেওয়া শর্তগুলোর মধ্যে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংসের দাবিটি সবচেয়ে সংবেদনশীল এবং ইরানের জন্য গ্রহণ করা কঠিন। তিনি উল্লেখ করেন, এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলোই ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি কার্যকর অংশ, যা শত্রুপক্ষের আক্রমণ থেকে দেশকে রক্ষা করে।
ম্যাডোক্স সতর্ক করে বলেন, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা হারানো হলে ইরান কার্যত অরক্ষিত হয়ে পড়বে এবং ইসরায়েলের বিমান শক্তি ও যুক্তরাষ্ট্রের স্টিলথ বোম্বারের মতো উন্নত প্রযুক্তির মুখে উন্মুক্ত হয়ে যাবে। তার মতে, এমন শর্ত কোনো ইরানি সরকারের পক্ষে মেনে টিকে থাকা সম্ভব নয়।
তিনি আরও মন্তব্য করেন যে, ইরানকে দেওয়া এই পাঁচটি শর্ত বাস্তবসম্মত নয় এবং সম্ভবত এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যাতে তেহরান তা প্রত্যাখ্যান করে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই প্রত্যাখ্যান যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক পদক্ষেপের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
রিপোর্টারের নাম 

























