ঢাকা ০২:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

জাতীয় নির্বাচনে আসন সমঝোতা: রংপুর-৪ আসনে বিএনপি-জাতীয় পার্টি ছেড়ে এনসিপিতে অর্ধশতাধিক যোগদান

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৩:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রংপুর-৪ (কাউনিয়া-পীরগাছা) আসনে রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গত দুদিনে বিএনপি ও জাতীয় পার্টির প্রায় দেড় শতাধিক নেতাকর্মী দল ত্যাগ করে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগদান করেছেন। এই ঘটনাটি আসনটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

শুক্রবার সকালে কাউনিয়া উপজেলার ডোবাপাড়া এলাকায় অনুষ্ঠিত এক উঠান বৈঠকে বিএনপি ছেড়ে আসা প্রায় ৭০ জন নেতাকর্মী আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিতে যোগ দেন। এর একদিন পূর্বে, বৃহস্পতিবার পীরগাছা উপজেলায়ও বিএনপি ও জাতীয় পার্টির অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী একই ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

সর্বশেষ যোগদানকারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য রয়েছেন হারাগাছ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইদ্রিস আলী, ৩ নম্বর ওয়ার্ড হারাগাছ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আসাদ মিয়া এবং ইউনিয়ন কৃষক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পল্লী চিকিৎসক মো. আনারুল ইসলাম।

দল ত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সদ্য যোগদানকারী নেতা ইদ্রিস আলী বলেন, “বর্তমান বিএনপির স্থানীয় নেতৃত্বের কার্যক্রমে আমরা অত্যন্ত হতাশ। আমরা মনে করি, ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই একটি গোষ্ঠী লুটপাটে লিপ্ত হয়েছে। এতদিন আমরা ভুল আদর্শের মধ্যে ছিলাম। জামায়াত এবং এনসিপির আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে কোনো রকম লোভ ছাড়াই আমরা এনসিপিতে যোগ দিয়েছি।”

বিএনপির সাবেক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আফজাল হোসেন অভিযোগ করেন যে, বর্তমানে বিএনপি মামলাবাজ, চাঁদাবাজ এবং ভূমিদস্যুদের আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে বিএনপিকে আর্থিক সহায়তা প্রদানকারী আনারুল ইসলাম জানান, এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেনের শিক্ষা, ব্যক্তিত্ব এবং মার্জিত আচরণ তাকে দল পরিবর্তনে উদ্বুদ্ধ করেছে।

নতুন যোগদানকারীদের ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এবং এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তিনি বলেন, “দেশের সুশাসন, সংস্কার এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমরা ঐক্যবদ্ধ। সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে জনগণ এখন পরিবর্তন চায়। ‘শাপলা কলি’ প্রতীকের বিজয় নিশ্চিত করতে আমাদের সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে।” এই যোগদানগুলো আসনটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাবির নতুন কোষাধ্যক্ষ হিসেবে অধ্যাপক সোহেল রানার দায়িত্ব গ্রহণ; ফুলেল শুভেচ্ছা জানাতে নিষেধ

জাতীয় নির্বাচনে আসন সমঝোতা: রংপুর-৪ আসনে বিএনপি-জাতীয় পার্টি ছেড়ে এনসিপিতে অর্ধশতাধিক যোগদান

আপডেট সময় : ০৬:৫৩:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রংপুর-৪ (কাউনিয়া-পীরগাছা) আসনে রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গত দুদিনে বিএনপি ও জাতীয় পার্টির প্রায় দেড় শতাধিক নেতাকর্মী দল ত্যাগ করে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগদান করেছেন। এই ঘটনাটি আসনটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

শুক্রবার সকালে কাউনিয়া উপজেলার ডোবাপাড়া এলাকায় অনুষ্ঠিত এক উঠান বৈঠকে বিএনপি ছেড়ে আসা প্রায় ৭০ জন নেতাকর্মী আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিতে যোগ দেন। এর একদিন পূর্বে, বৃহস্পতিবার পীরগাছা উপজেলায়ও বিএনপি ও জাতীয় পার্টির অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী একই ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

সর্বশেষ যোগদানকারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য রয়েছেন হারাগাছ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইদ্রিস আলী, ৩ নম্বর ওয়ার্ড হারাগাছ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আসাদ মিয়া এবং ইউনিয়ন কৃষক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পল্লী চিকিৎসক মো. আনারুল ইসলাম।

দল ত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সদ্য যোগদানকারী নেতা ইদ্রিস আলী বলেন, “বর্তমান বিএনপির স্থানীয় নেতৃত্বের কার্যক্রমে আমরা অত্যন্ত হতাশ। আমরা মনে করি, ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই একটি গোষ্ঠী লুটপাটে লিপ্ত হয়েছে। এতদিন আমরা ভুল আদর্শের মধ্যে ছিলাম। জামায়াত এবং এনসিপির আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে কোনো রকম লোভ ছাড়াই আমরা এনসিপিতে যোগ দিয়েছি।”

বিএনপির সাবেক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আফজাল হোসেন অভিযোগ করেন যে, বর্তমানে বিএনপি মামলাবাজ, চাঁদাবাজ এবং ভূমিদস্যুদের আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে বিএনপিকে আর্থিক সহায়তা প্রদানকারী আনারুল ইসলাম জানান, এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেনের শিক্ষা, ব্যক্তিত্ব এবং মার্জিত আচরণ তাকে দল পরিবর্তনে উদ্বুদ্ধ করেছে।

নতুন যোগদানকারীদের ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এবং এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তিনি বলেন, “দেশের সুশাসন, সংস্কার এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমরা ঐক্যবদ্ধ। সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে জনগণ এখন পরিবর্তন চায়। ‘শাপলা কলি’ প্রতীকের বিজয় নিশ্চিত করতে আমাদের সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে।” এই যোগদানগুলো আসনটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।