ঢাকা ০৪:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

কবি মামার কাব্য বিড়ম্বনা: যখন মঞ্চে হারিয়ে গেল শব্দ

ঋদ্ধির ছোট মামা কবির হোসেন এলাকায় ‘কবি মামা’ নামেই সমধিক পরিচিত। তার জীবনের ধ্যান-জ্ঞান শুধুই কবিতা। সারাদিন কবিতা লেখা, ঘষামাজা করা আর কবিতার মাঝেই ডুবে থাকা তার স্বভাব। মাঝে মাঝে অন্যমনস্ক হয়ে চশমা ফ্রিজে রেখে দেওয়া কিংবা কবিতার খাতা বালিশের নিচে রেখে ঘুমিয়ে পড়ার মতো মজার সব কাণ্ড তিনি ঘটিয়ে থাকেন। তার এই সরলতা আর কবিতার প্রতি নিখাদ প্রেম পরিবারের সবার কাছেই বেশ প্রিয়।

সম্প্রতি জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত এক কবিতা উৎসবে কবিতা আবৃত্তির আমন্ত্রণ পান তিনি। বড় আয়োজনে নিজের সৃষ্টি তুলে ধরার সুযোগ পেয়ে কবির হোসেন ছিলেন দারুণ উচ্ছ্বসিত। অনুষ্ঠানের দিন নতুন সাদা পাঞ্জাবি পরে অত্যন্ত প্রস্তুতি নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে তিনি অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান। তার নীল মলাটের কবিতার খাতাটি যেন হারিয়ে না যায়, সে জন্য সেটি তিনি ঋদ্ধির ব্যাগে গচ্ছিত রাখেন।

তবে বিপত্তি বাঁধে যখন মঞ্চে তার নাম ঘোষণা করা হয়। হাজারো শ্রোতার সামনে দাঁড়িয়ে প্রথম কয়েক লাইন আবৃত্তি করার পর হঠাৎ করেই তিনি খেই হারিয়ে ফেলেন। এক অদ্ভুত জড়তা তাকে গ্রাস করে এবং পরবর্তী শব্দগুলো তার স্মৃতি থেকে মুছে যায়। কবির এই সহজ-সরল জীবনের এক অনাকাঙ্ক্ষিত অথচ স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে রইল এই মঞ্চ বিভ্রাট।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির পরোয়ানা গায়েব: বিচারিক প্রক্রিয়ায় অনিয়ম নাকি ঘুষের লেনদেন?

কবি মামার কাব্য বিড়ম্বনা: যখন মঞ্চে হারিয়ে গেল শব্দ

আপডেট সময় : ০২:৩০:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

ঋদ্ধির ছোট মামা কবির হোসেন এলাকায় ‘কবি মামা’ নামেই সমধিক পরিচিত। তার জীবনের ধ্যান-জ্ঞান শুধুই কবিতা। সারাদিন কবিতা লেখা, ঘষামাজা করা আর কবিতার মাঝেই ডুবে থাকা তার স্বভাব। মাঝে মাঝে অন্যমনস্ক হয়ে চশমা ফ্রিজে রেখে দেওয়া কিংবা কবিতার খাতা বালিশের নিচে রেখে ঘুমিয়ে পড়ার মতো মজার সব কাণ্ড তিনি ঘটিয়ে থাকেন। তার এই সরলতা আর কবিতার প্রতি নিখাদ প্রেম পরিবারের সবার কাছেই বেশ প্রিয়।

সম্প্রতি জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত এক কবিতা উৎসবে কবিতা আবৃত্তির আমন্ত্রণ পান তিনি। বড় আয়োজনে নিজের সৃষ্টি তুলে ধরার সুযোগ পেয়ে কবির হোসেন ছিলেন দারুণ উচ্ছ্বসিত। অনুষ্ঠানের দিন নতুন সাদা পাঞ্জাবি পরে অত্যন্ত প্রস্তুতি নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে তিনি অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান। তার নীল মলাটের কবিতার খাতাটি যেন হারিয়ে না যায়, সে জন্য সেটি তিনি ঋদ্ধির ব্যাগে গচ্ছিত রাখেন।

তবে বিপত্তি বাঁধে যখন মঞ্চে তার নাম ঘোষণা করা হয়। হাজারো শ্রোতার সামনে দাঁড়িয়ে প্রথম কয়েক লাইন আবৃত্তি করার পর হঠাৎ করেই তিনি খেই হারিয়ে ফেলেন। এক অদ্ভুত জড়তা তাকে গ্রাস করে এবং পরবর্তী শব্দগুলো তার স্মৃতি থেকে মুছে যায়। কবির এই সহজ-সরল জীবনের এক অনাকাঙ্ক্ষিত অথচ স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে রইল এই মঞ্চ বিভ্রাট।