ঢাকা ১০:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

ঘুষ কেলেঙ্কারিতে নির্বাচন কমিশনের দুই কর্মকর্তা বরখাস্ত ও অপসারণ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:০৮:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে ঘুষ গ্রহণ ও দাবির অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দুই কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত ও অপসারণ করা হয়েছে। জনস্বার্থে এই কঠোর সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে বলে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ফরিদপুরের অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমানকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে এনআইডি-তে জন্ম তারিখ সংশোধনের জন্য আবেদনকারীর কাছে প্রথমে ২ লক্ষ টাকা ঘুষ দাবি এবং পরে দর কষাকষির মাধ্যমে তা ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকায় নির্ধারণের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। দাবিকৃত অর্থ না পাওয়ায় তিনি আবেদনটি বাতিল করে দেন। অভিযোগকারীর দাখিল করা ঘুষ দাবির অডিও রেকর্ডের ফরেনসিক পরীক্ষায় মাহফুজুর রহমানের কণ্ঠস্বর নিশ্চিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়। বিভাগীয় তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী তাকে ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, কুমিল্লায় কর্মরত থাকাকালীন ঘুষ গ্রহণের দায়ে অভিযুক্ত সিনিয়র সহকারী সচিব শুধাংসু কুমার সাহাকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়েছে। তিনি এনআইডি সেবা প্রদানের নামে অবৈধ অর্থ গ্রহণের সময় এক গণমাধ্যমকর্মীর ভিডিও ধারণে ধরা পড়েন। পরবর্তীতে ভিডিও প্রকাশ না করার শর্তে তিনি ওই গণমাধ্যমকর্মীকে ২৯ হাজার টাকা উৎকোচ প্রদান করেন। এই ঘটনায় তার নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তা অভিযোগ উত্থাপন করলে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগে একটি বিভাগীয় মামলা (নম্বর-০৪/২০২৫) রুজু করা হয়। বিভাগীয় তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এবং দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর জবাবে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না পাওয়ায় বিধিমালা অনুযায়ী তাকে চাকরি থেকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে।

উভয় কর্মকর্তার ক্ষেত্রেই সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুসরণ করে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের পরামর্শ গ্রহণ এবং মহামান্য রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয় জানিয়েছে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনস্বার্থ রক্ষায় এই আদেশ জারি করা হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩ অধ্যাদেশের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে সংসদে

ঘুষ কেলেঙ্কারিতে নির্বাচন কমিশনের দুই কর্মকর্তা বরখাস্ত ও অপসারণ

আপডেট সময় : ০৮:০৮:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে ঘুষ গ্রহণ ও দাবির অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দুই কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত ও অপসারণ করা হয়েছে। জনস্বার্থে এই কঠোর সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে বলে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ফরিদপুরের অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমানকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে এনআইডি-তে জন্ম তারিখ সংশোধনের জন্য আবেদনকারীর কাছে প্রথমে ২ লক্ষ টাকা ঘুষ দাবি এবং পরে দর কষাকষির মাধ্যমে তা ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকায় নির্ধারণের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। দাবিকৃত অর্থ না পাওয়ায় তিনি আবেদনটি বাতিল করে দেন। অভিযোগকারীর দাখিল করা ঘুষ দাবির অডিও রেকর্ডের ফরেনসিক পরীক্ষায় মাহফুজুর রহমানের কণ্ঠস্বর নিশ্চিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়। বিভাগীয় তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী তাকে ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, কুমিল্লায় কর্মরত থাকাকালীন ঘুষ গ্রহণের দায়ে অভিযুক্ত সিনিয়র সহকারী সচিব শুধাংসু কুমার সাহাকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়েছে। তিনি এনআইডি সেবা প্রদানের নামে অবৈধ অর্থ গ্রহণের সময় এক গণমাধ্যমকর্মীর ভিডিও ধারণে ধরা পড়েন। পরবর্তীতে ভিডিও প্রকাশ না করার শর্তে তিনি ওই গণমাধ্যমকর্মীকে ২৯ হাজার টাকা উৎকোচ প্রদান করেন। এই ঘটনায় তার নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তা অভিযোগ উত্থাপন করলে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগে একটি বিভাগীয় মামলা (নম্বর-০৪/২০২৫) রুজু করা হয়। বিভাগীয় তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এবং দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর জবাবে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না পাওয়ায় বিধিমালা অনুযায়ী তাকে চাকরি থেকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে।

উভয় কর্মকর্তার ক্ষেত্রেই সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুসরণ করে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের পরামর্শ গ্রহণ এবং মহামান্য রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয় জানিয়েছে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনস্বার্থ রক্ষায় এই আদেশ জারি করা হয়েছে।