ঢাকা ১১:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুটবল খেলা নিয়ে রণক্ষেত্র ধূপখোলা মাঠ: ভিসির সামনেই সাংবাদিককে পিটিয়ে জখম, আহত ৩০

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৪১:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) আন্তঃবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলাকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষের উপস্থিতিতেই এক ক্যাম্পাস সাংবাদিককে বেধড়ক মারধর করেছে একদল উগ্র শিক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর ধূপখোলা মাঠে আয়োজিত টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ শেষে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, টুর্নামেন্টের ফাইনালে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ ও গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ মুখোমুখি হয়। নির্ধারিত সময়ে খেলা ড্র হওয়ার পর টাইব্রেকারে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ জয়লাভ করে। জয়ের পরপরই মাঠের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ উঠেছে, বিজয়ী দলের একদল শিক্ষার্থী হঠাৎ প্রতিপক্ষ বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হয়। এ সময় এক নারী শিক্ষককে ধাক্কা দেওয়ার ঘটনা ঘটলে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়, যা দ্রুতই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়।

সংঘর্ষ চলাকালে পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের ওপরও হামলা চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ব্যক্তিগত ক্ষোভের জেরে ২০-২৫ জনের একটি দল এক সাংবাদিককে টার্গেট করে উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষের সামনেই ঘেরাও করে ফেলে। এরপর তাকে পৈশাচিকভাবে পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। হামলায় আরও বেশ কয়েকজন সংবাদকর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে পুরান ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এই হামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর মোহাম্মদ সালেহ উদ্দীন, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ খাইরুল ইসলাম ও নাজমুস সাকিবসহ বেশ কয়েকজন সাধারণ শিক্ষার্থী আহত হন। আহত সাংবাদিকদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

আক্রান্ত সাংবাদিক অভিযোগ করে বলেন, “ম্যাচ শেষে হঠাৎ করেই সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা শুরু হয়। মূলত পূর্ব শত্রুতার জেরে আমাকে পরিকল্পিতভাবে টার্গেট করা হয়েছে। প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের সামনেই ২০-২৫ জন মিলে আমাকে পৈশাচিকভাবে পিটিয়েছে।” এই ঘটনায় তিনি নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তার ইন্ধন রয়েছে বলে দাবি করেন।

এদিকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বহিরাগত এবং রাজনৈতিক ইন্ধনদাতাদের যোগসাজশে খেলার মাঠকে রণক্ষেত্রে পরিণত করা হয়েছে। লাঠিসোঁটা সরবরাহ করে হামলা উসকে দেওয়ার পেছনে সুনির্দিষ্ট কয়েকজনের নামও উঠে এসেছে।

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক বলেন, “অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি আমাদের সামনেই ঘটেছে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে জরুরি সভায় বসছি। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পদত্যাগ করলেন সদ্যবিদায়ী গভর্নরের উপদেষ্টা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুটবল খেলা নিয়ে রণক্ষেত্র ধূপখোলা মাঠ: ভিসির সামনেই সাংবাদিককে পিটিয়ে জখম, আহত ৩০

আপডেট সময় : ০৭:৪১:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) আন্তঃবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলাকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষের উপস্থিতিতেই এক ক্যাম্পাস সাংবাদিককে বেধড়ক মারধর করেছে একদল উগ্র শিক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর ধূপখোলা মাঠে আয়োজিত টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ শেষে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, টুর্নামেন্টের ফাইনালে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ ও গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ মুখোমুখি হয়। নির্ধারিত সময়ে খেলা ড্র হওয়ার পর টাইব্রেকারে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ জয়লাভ করে। জয়ের পরপরই মাঠের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ উঠেছে, বিজয়ী দলের একদল শিক্ষার্থী হঠাৎ প্রতিপক্ষ বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হয়। এ সময় এক নারী শিক্ষককে ধাক্কা দেওয়ার ঘটনা ঘটলে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়, যা দ্রুতই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়।

সংঘর্ষ চলাকালে পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের ওপরও হামলা চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ব্যক্তিগত ক্ষোভের জেরে ২০-২৫ জনের একটি দল এক সাংবাদিককে টার্গেট করে উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষের সামনেই ঘেরাও করে ফেলে। এরপর তাকে পৈশাচিকভাবে পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। হামলায় আরও বেশ কয়েকজন সংবাদকর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে পুরান ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এই হামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর মোহাম্মদ সালেহ উদ্দীন, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ খাইরুল ইসলাম ও নাজমুস সাকিবসহ বেশ কয়েকজন সাধারণ শিক্ষার্থী আহত হন। আহত সাংবাদিকদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

আক্রান্ত সাংবাদিক অভিযোগ করে বলেন, “ম্যাচ শেষে হঠাৎ করেই সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা শুরু হয়। মূলত পূর্ব শত্রুতার জেরে আমাকে পরিকল্পিতভাবে টার্গেট করা হয়েছে। প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের সামনেই ২০-২৫ জন মিলে আমাকে পৈশাচিকভাবে পিটিয়েছে।” এই ঘটনায় তিনি নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তার ইন্ধন রয়েছে বলে দাবি করেন।

এদিকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বহিরাগত এবং রাজনৈতিক ইন্ধনদাতাদের যোগসাজশে খেলার মাঠকে রণক্ষেত্রে পরিণত করা হয়েছে। লাঠিসোঁটা সরবরাহ করে হামলা উসকে দেওয়ার পেছনে সুনির্দিষ্ট কয়েকজনের নামও উঠে এসেছে।

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক বলেন, “অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি আমাদের সামনেই ঘটেছে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে জরুরি সভায় বসছি। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”