ঢাকা ০৯:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

দুই বছরের জন্য কেনেডি সেন্টার বন্ধের ঘোষণা: মার্কিন সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৪২:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান জন এফ কেনেডি মেমোরিয়াল সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টস (কেনেডি সেন্টার) আগামী জুলাই থেকে টানা দুই বছর বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সংস্কার ও পুনর্গঠনের অজুহাতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তবে, এই আকস্মিক ঘোষণাকে ঘিরে দেশটির সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। শিল্পী ও সাংস্কৃতিক মহলের একাংশ এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করছেন।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৪ জুলাই থেকে কেনেডি সেন্টার বন্ধ কার্যকর হতে পারে। এই দিনটি যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবসও বটে। তবে, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য কেনেডি সেন্টারের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন প্রয়োজন হবে, যাদের বেশিরভাগ সদস্যই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কর্তৃক মনোনীত।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ এক পোস্টে জানিয়েছেন, প্রায় দুই বছর ধরে কেনেডি সেন্টারের সকল বিনোদনমূলক কার্যক্রম বন্ধ রাখাই কেন্দ্রটিকে সাফল্য, সৌন্দর্য ও জাঁকজমকের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার দ্রুততম উপায়। তাঁর দাবি, এই সাময়িক বন্ধের ফলে সংস্কারকাজ দ্রুত সম্পন্ন হবে এবং উন্নত মানের ফল পাওয়া যাবে।

ট্রাম্পের মতে, কনসার্ট, অপেরা, মিউজিক্যাল, ব্যালে এবং অন্যান্য শিল্পকলার কার্যক্রম চলমান থাকলে নির্মাণ ও সংস্কারকাজে বিলম্ব হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই, পুরো কেন্দ্রটি বন্ধ রেখে পুনর্গঠন করাই সবচেয়ে কার্যকর সমাধান বলে তিনি মনে করেন। তিনি আরও বলেন যে, সংস্কার কাজ শেষে এই কেন্দ্রটি বিশ্বের সেরা পারফর্মিং আর্টস ভেন্যুতে পরিণত হতে পারে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গর্বের কারণ হবে।

এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এল যখন কেনেডি সেন্টারের পূর্ববর্তী নেতৃত্ব সরিয়ে দেওয়া এবং ভবনের সঙ্গে ট্রাম্পের নাম যুক্ত করার প্রতিবাদে অনেক খ্যাতনামা শিল্পী, সংগীতশিল্পী ও সাংস্কৃতিক দল তাদের পূর্বনির্ধারিত পরিবেশনা বাতিল করেছে। যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর ঘোষণায় এই প্রতিবাদের বিষয়গুলো সরাসরি উল্লেখ করেননি।

কেনেডি সেন্টারের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, ১৯৬৪ সালে প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির হত্যাকাণ্ডের পর কংগ্রেস তাঁর স্মরণে এই কেন্দ্রটিকে একটি ‘জীবন্ত স্মৃতিসৌধ’ হিসেবে নামকরণ করে। ১৯৭১ সালে উদ্বোধনের পর থেকে এটি ন্যাশনাল সিম্ফনি অর্কেস্ট্রাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক সংগঠনের নিয়মিত মঞ্চ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মনোনীত বোর্ডের চেয়ারম্যান হওয়ার পর তাঁর নীতির প্রতিবাদে অনেক শিল্পী কেনেডি সেন্টারে অনুষ্ঠান বাতিল করেছেন। সম্প্রতি ওয়াশিংটন ন্যাশনাল অপেরা কর্তৃপক্ষও ঘোষণা দিয়েছে যে, তারা কেনেডি সেন্টার ছেড়ে যাবে—যদিও উদ্বোধনের পর থেকেই এটি তাদের স্থায়ী ঠিকানা ছিল। এই সব ঘটনা কেনেডি সেন্টারকে ঘিরে চলমান বিতর্কের প্রেক্ষাপটকে আরও জটিল করে তুলেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দুই বছরের জন্য কেনেডি সেন্টার বন্ধের ঘোষণা: মার্কিন সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক

আপডেট সময় : ০২:৪২:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান জন এফ কেনেডি মেমোরিয়াল সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টস (কেনেডি সেন্টার) আগামী জুলাই থেকে টানা দুই বছর বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সংস্কার ও পুনর্গঠনের অজুহাতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তবে, এই আকস্মিক ঘোষণাকে ঘিরে দেশটির সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। শিল্পী ও সাংস্কৃতিক মহলের একাংশ এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করছেন।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৪ জুলাই থেকে কেনেডি সেন্টার বন্ধ কার্যকর হতে পারে। এই দিনটি যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবসও বটে। তবে, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য কেনেডি সেন্টারের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন প্রয়োজন হবে, যাদের বেশিরভাগ সদস্যই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কর্তৃক মনোনীত।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ এক পোস্টে জানিয়েছেন, প্রায় দুই বছর ধরে কেনেডি সেন্টারের সকল বিনোদনমূলক কার্যক্রম বন্ধ রাখাই কেন্দ্রটিকে সাফল্য, সৌন্দর্য ও জাঁকজমকের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার দ্রুততম উপায়। তাঁর দাবি, এই সাময়িক বন্ধের ফলে সংস্কারকাজ দ্রুত সম্পন্ন হবে এবং উন্নত মানের ফল পাওয়া যাবে।

ট্রাম্পের মতে, কনসার্ট, অপেরা, মিউজিক্যাল, ব্যালে এবং অন্যান্য শিল্পকলার কার্যক্রম চলমান থাকলে নির্মাণ ও সংস্কারকাজে বিলম্ব হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই, পুরো কেন্দ্রটি বন্ধ রেখে পুনর্গঠন করাই সবচেয়ে কার্যকর সমাধান বলে তিনি মনে করেন। তিনি আরও বলেন যে, সংস্কার কাজ শেষে এই কেন্দ্রটি বিশ্বের সেরা পারফর্মিং আর্টস ভেন্যুতে পরিণত হতে পারে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গর্বের কারণ হবে।

এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এল যখন কেনেডি সেন্টারের পূর্ববর্তী নেতৃত্ব সরিয়ে দেওয়া এবং ভবনের সঙ্গে ট্রাম্পের নাম যুক্ত করার প্রতিবাদে অনেক খ্যাতনামা শিল্পী, সংগীতশিল্পী ও সাংস্কৃতিক দল তাদের পূর্বনির্ধারিত পরিবেশনা বাতিল করেছে। যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর ঘোষণায় এই প্রতিবাদের বিষয়গুলো সরাসরি উল্লেখ করেননি।

কেনেডি সেন্টারের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, ১৯৬৪ সালে প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির হত্যাকাণ্ডের পর কংগ্রেস তাঁর স্মরণে এই কেন্দ্রটিকে একটি ‘জীবন্ত স্মৃতিসৌধ’ হিসেবে নামকরণ করে। ১৯৭১ সালে উদ্বোধনের পর থেকে এটি ন্যাশনাল সিম্ফনি অর্কেস্ট্রাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক সংগঠনের নিয়মিত মঞ্চ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মনোনীত বোর্ডের চেয়ারম্যান হওয়ার পর তাঁর নীতির প্রতিবাদে অনেক শিল্পী কেনেডি সেন্টারে অনুষ্ঠান বাতিল করেছেন। সম্প্রতি ওয়াশিংটন ন্যাশনাল অপেরা কর্তৃপক্ষও ঘোষণা দিয়েছে যে, তারা কেনেডি সেন্টার ছেড়ে যাবে—যদিও উদ্বোধনের পর থেকেই এটি তাদের স্থায়ী ঠিকানা ছিল। এই সব ঘটনা কেনেডি সেন্টারকে ঘিরে চলমান বিতর্কের প্রেক্ষাপটকে আরও জটিল করে তুলেছে।