দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে আমূল পরিবর্তন আনতে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে (বেবিচক) ভেঙে পৃথক দুটি সংস্থা গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এর ফলে এখন থেকে বিমান চলাচলের নিয়ন্ত্রণ (রেগুলেটর) এবং বিমানবন্দর পরিচালনা (অপারেটর) সংক্রান্ত কার্যক্রম দুটি আলাদা স্বতন্ত্র সংস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হবে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় গত বুধবার (২৮ জানুয়ারি) এক দাপ্তরিক পত্রের মাধ্যমে বেবিচককে সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে বেবিচক একই সঙ্গে দুটি ভিন্নধর্মী ভূমিকা পালন করে আসছে। একদিকে সংস্থাটি রেগুলেটর হিসেবে আকাশপথের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা কার্যক্রম তদারকি করে, অন্যদিকে অপারেটর হিসেবে বিমানবন্দরগুলোর ব্যবস্থাপনা ও এয়ার নেভিগেশন সেবা প্রদান করে। একই সংস্থার হাতে নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার দায়িত্ব থাকায় দীর্ঘকাল ধরে স্বার্থের সংঘাত (Conflict of Interest) তৈরি হচ্ছিল, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের পরিপন্থী।
আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (আইসিএও) তাদের বিভিন্ন সময়ের অডিটে বেবিচকের এই দ্বৈত সত্তা পৃথক করার তাগিদ দিয়ে আসছিল। এছাড়া গত বছরের ১৮ অক্টোবর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আমদানি কার্গো কমপ্লেক্সে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সিনিয়র সচিবের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটিও তাদের প্রতিবেদনে বেবিচককে বিভক্ত করার সুপারিশ করেছিল।
সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে এখন থেকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় আইন ও বিধিমালা সংশোধন করা হবে। এরপর এয়ার নেভিগেশন ও বিমানবন্দর পরিচালনার জন্য পৃথক অপারেটর সংস্থা গঠন করা হবে। আর বেবিচক কেবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে আকাশপথের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা তদারকি করবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা পূরণের পাশাপাশি দেশের বিমানবন্দরগুলোর সেবার মান বৃদ্ধি পাবে এবং বিমান পরিচালনাসংক্রান্ত কার্যক্রমে আরও স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আসবে।
রিপোর্টারের নাম 
























