ঢাকা ১০:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা জোরদারে নবম ল্যান্ড ফোর্সেস টকস সম্পন্ন

ঢাকা সেনানিবাসে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর মধ্যে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী (২৬-২৭ জানুয়ারি) নবম ল্যান্ড ফোর্সেস টকস (এলএফটি) সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এই বৈঠকে উভয় দেশের সামরিক প্রতিনিধিরা পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং কৌশলগত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেন। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই আলোচনা পূর্ববর্তী সামরিক সংলাপের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে পরিচালিত হয়েছে। বৈঠকে উভয় দেশের সেনাবাহিনীর প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

বাংলাদেশের ২২ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সামরিক প্রশিক্ষণ পরিদপ্তরের লেফট্যানেন্ট কর্নেল মোহাম্মদ বদরুল হক। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক আর্মি কমান্ডের (ইউএসএআরপিএসি) নিরাপত্তা সহযোগিতা বিভাগের মেজর মাইকেল জেকব ওসটারের নেতৃত্বে চার সদস্যের প্রতিনিধিদল বৈঠকে অংশ নেয়। উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠানে সামরিক প্রশিক্ষণ পরিদপ্তরের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. হুমায়ূন কবীর উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা পর্বে সামরিক সহযোগিতা, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কৌশলগত সমন্বয়ের বিভিন্ন দিক বিস্তারিতভাবে উঠে আসে। উভয় পক্ষ প্রশিক্ষণ আদান-প্রদান, উন্নত প্রযুক্তি ও সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহারের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে।

বিশেষ করে, সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে একাধিক যৌথ প্রশিক্ষণ ও মহড়ার আয়োজন এবং উদ্ভাবনী প্রশিক্ষণ পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রতিনিধিরা উভয় দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে চলমান কৌশলগত সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার আগ্রহ পুনর্ব্যক্ত করেন। এছাড়াও, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কার্যকর অবদান রাখা এবং প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবিলায় সম্মিলিত প্রস্তুতি গ্রহণের বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত পোষণ করে।

নানাবিধ বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রযুক্তিগত সহায়তা ও প্রস্তুতির ওপর জোর দেওয়া হয়, যা ভবিষ্যতে আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৪ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র অষ্টম ল্যান্ড ফোর্সেস টকস (এলএফটি) অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন সমাপ্ত: ২৫ কার্যদিবসে রেকর্ড ৯৪ বিল পাস

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা জোরদারে নবম ল্যান্ড ফোর্সেস টকস সম্পন্ন

আপডেট সময় : ০২:৪৮:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

ঢাকা সেনানিবাসে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর মধ্যে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী (২৬-২৭ জানুয়ারি) নবম ল্যান্ড ফোর্সেস টকস (এলএফটি) সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এই বৈঠকে উভয় দেশের সামরিক প্রতিনিধিরা পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং কৌশলগত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেন। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই আলোচনা পূর্ববর্তী সামরিক সংলাপের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে পরিচালিত হয়েছে। বৈঠকে উভয় দেশের সেনাবাহিনীর প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

বাংলাদেশের ২২ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সামরিক প্রশিক্ষণ পরিদপ্তরের লেফট্যানেন্ট কর্নেল মোহাম্মদ বদরুল হক। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক আর্মি কমান্ডের (ইউএসএআরপিএসি) নিরাপত্তা সহযোগিতা বিভাগের মেজর মাইকেল জেকব ওসটারের নেতৃত্বে চার সদস্যের প্রতিনিধিদল বৈঠকে অংশ নেয়। উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠানে সামরিক প্রশিক্ষণ পরিদপ্তরের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. হুমায়ূন কবীর উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা পর্বে সামরিক সহযোগিতা, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কৌশলগত সমন্বয়ের বিভিন্ন দিক বিস্তারিতভাবে উঠে আসে। উভয় পক্ষ প্রশিক্ষণ আদান-প্রদান, উন্নত প্রযুক্তি ও সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহারের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে।

বিশেষ করে, সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে একাধিক যৌথ প্রশিক্ষণ ও মহড়ার আয়োজন এবং উদ্ভাবনী প্রশিক্ষণ পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রতিনিধিরা উভয় দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে চলমান কৌশলগত সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার আগ্রহ পুনর্ব্যক্ত করেন। এছাড়াও, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কার্যকর অবদান রাখা এবং প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবিলায় সম্মিলিত প্রস্তুতি গ্রহণের বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত পোষণ করে।

নানাবিধ বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রযুক্তিগত সহায়তা ও প্রস্তুতির ওপর জোর দেওয়া হয়, যা ভবিষ্যতে আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৪ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র অষ্টম ল্যান্ড ফোর্সেস টকস (এলএফটি) অনুষ্ঠিত হয়েছিল।