ঢাকা ০৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

পার্বত্য চট্টগ্রামে অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকি: একটি গভীর বিশ্লেষণ

পার্বত্য চট্টগ্রাম, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং মিয়ানমার সীমান্তজুড়ে গড়ে ওঠা অবৈধ অস্ত্রের নেটওয়ার্ক বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তার জন্য এক বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থান, জটিল ভূরাজনীতি এবং দুর্গম সীমান্ত ব্যবস্থাপনার সুযোগ নিয়ে এই অঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো তাদের তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণে দেখা যায়, সত্তরের দশকে গঠিত পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি ও তাদের সশস্ত্র শাখা ‘শান্তিবাহিনী’ দীর্ঘ দুই দশক ধরে এই অঞ্চলে অস্থিরতা বজায় রেখেছিল। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ১৯৭৬ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত চলা এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে প্রায় ১০ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, আশির ও নব্বইয়ের দশকে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে বিদ্যমান অস্থিতিশীলতার সুযোগে বিপুল পরিমাণ আধুনিক অস্ত্র এই অঞ্চলে প্রবেশ করে। তৎকালীন সময়ে ৭.৬২ মিমি রাইফেল এবং এসএলআর-এর মতো ভারী অস্ত্রের ব্যবহার এই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সক্ষমতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিভিন্ন সময় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে এই অপতৎপরতা দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

১৯৯৭ সালের ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তির সুবাতাস বইয়ে দিলেও, পরবর্তী সময়ে সেখান থেকে অনেকগুলো সেনাক্যাম্প প্রত্যাহার করা হয়। এই প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা শূন্যতার সুযোগ নিয়ে বর্তমানে নতুন নতুন সশস্ত্র গোষ্ঠীর উত্থান ঘটছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং অবৈধ অস্ত্রের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সমন্বিত নিরাপত্তা কৌশল গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন সমাপ্ত: ২৫ কার্যদিবসে রেকর্ড ৯৪ বিল পাস

পার্বত্য চট্টগ্রামে অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকি: একটি গভীর বিশ্লেষণ

আপডেট সময় : ০৯:৩৬:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬

পার্বত্য চট্টগ্রাম, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং মিয়ানমার সীমান্তজুড়ে গড়ে ওঠা অবৈধ অস্ত্রের নেটওয়ার্ক বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তার জন্য এক বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থান, জটিল ভূরাজনীতি এবং দুর্গম সীমান্ত ব্যবস্থাপনার সুযোগ নিয়ে এই অঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো তাদের তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণে দেখা যায়, সত্তরের দশকে গঠিত পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি ও তাদের সশস্ত্র শাখা ‘শান্তিবাহিনী’ দীর্ঘ দুই দশক ধরে এই অঞ্চলে অস্থিরতা বজায় রেখেছিল। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ১৯৭৬ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত চলা এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে প্রায় ১০ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, আশির ও নব্বইয়ের দশকে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে বিদ্যমান অস্থিতিশীলতার সুযোগে বিপুল পরিমাণ আধুনিক অস্ত্র এই অঞ্চলে প্রবেশ করে। তৎকালীন সময়ে ৭.৬২ মিমি রাইফেল এবং এসএলআর-এর মতো ভারী অস্ত্রের ব্যবহার এই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সক্ষমতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিভিন্ন সময় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে এই অপতৎপরতা দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

১৯৯৭ সালের ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তির সুবাতাস বইয়ে দিলেও, পরবর্তী সময়ে সেখান থেকে অনেকগুলো সেনাক্যাম্প প্রত্যাহার করা হয়। এই প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা শূন্যতার সুযোগ নিয়ে বর্তমানে নতুন নতুন সশস্ত্র গোষ্ঠীর উত্থান ঘটছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং অবৈধ অস্ত্রের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সমন্বিত নিরাপত্তা কৌশল গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।