ঢাকা ১২:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অরক্ষিত অংশে দ্রুত কাঁটাতারের বেড়া বসানোর নির্দেশ দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্ট।

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৪৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের অরক্ষিত অংশগুলোতে কাঁটাতারের বেড়া বসানোর দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্ট। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) এক শুনানিতে আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, সীমান্তবর্তী এলাকায় যেসব জমি অধিগ্রহণের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যে অর্থ বরাদ্দ করেছে, সেই সব জমি যেন অবিলম্বে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে (বিএসএফ) হস্তান্তর করা হয়।

জমি হস্তান্তরের জন্য পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারকে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছেন আদালত। হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে বিএসএফ-কে প্রয়োজনীয় সমস্ত জমি বুঝিয়ে দিতে হবে।

আদালতের পর্যবেক্ষণ ও উদ্বেগ: বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের একটি বিস্তৃত অঞ্চল এখনও কাঁটাতারবিহীন থাকায় চোরাচালান ও অনুপ্রবেশের ঝুঁকি বাড়ছে। এই অরক্ষিত অংশে বেড়া দেওয়ার জন্য জমি অধিগ্রহণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে ‘জটিলতা’ চলছিল। মামলার শুনানিতে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্য সরকারের ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

প্রধান বিচারপতি রাজ্য সরকারের আইনজীবীকে প্রশ্ন করেন, “জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন জড়িত থাকা সত্ত্বেও রাজ্য কেন নিজস্ব ক্ষমতায় জমি অধিগ্রহণ করছে না? প্রয়োজনে ভূমি অধিগ্রহণ আইনের ‘জরুরি’ ধারা (ধারা ৪০) কেন ব্যবহার করা হচ্ছে না?” বেঞ্চের অপর বিচারপতি পার্থসারথি সেন মন্তব্য করেন যে, আন্তর্জাতিক সীমানার অংশীদার হয়েও রাজ্যের পক্ষ থেকে উদ্যোগের অভাব অত্যন্ত উদ্বেগজনক। জমি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ‘সোশ্যাল ইম্প্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট’ বা সামাজিক প্রভাব মূল্যায়নের অজুহাত দেখিয়ে কাজ ফেলে রাখা ঠিক নয় বলেও আদালত পর্যবেক্ষণ দিয়েছে।

১৮০ কিলোমিটার সীমান্তে হবে কাজ: আদালতের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৮০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় জমি অধিগ্রহণের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে প্রয়োজনীয় অর্থ ইতিমধ্যে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু প্রশাসনিক জটিলতায় সেই জমি বিএসএফ-এর হাতে পৌঁছায়নি। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, যেসব জমির ক্ষেত্রে রাজ্য মন্ত্রিসভার অনুমোদন এখনও মেলেনি, সেখানে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে জরুরি ভিত্তিতে অধিগ্রহণ সম্ভব কি না—সে বিষয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য উভয় পক্ষকেই হলফনামা জমা দিতে হবে।

আগামী ২ এপ্রিল এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন কলকাতা হাইকোর্ট। এই রায়ের ফলে দীর্ঘ দিন ধরে ঝুলে থাকা সীমান্ত সুরক্ষা প্রকল্পটি গতি পাবে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

পোপের ‘সাহসী’ অবস্থানের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ইরানের স্পিকার

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অরক্ষিত অংশে দ্রুত কাঁটাতারের বেড়া বসানোর নির্দেশ দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্ট।

আপডেট সময় : ১১:৪৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের অরক্ষিত অংশগুলোতে কাঁটাতারের বেড়া বসানোর দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্ট। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) এক শুনানিতে আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, সীমান্তবর্তী এলাকায় যেসব জমি অধিগ্রহণের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যে অর্থ বরাদ্দ করেছে, সেই সব জমি যেন অবিলম্বে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে (বিএসএফ) হস্তান্তর করা হয়।

জমি হস্তান্তরের জন্য পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারকে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছেন আদালত। হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে বিএসএফ-কে প্রয়োজনীয় সমস্ত জমি বুঝিয়ে দিতে হবে।

আদালতের পর্যবেক্ষণ ও উদ্বেগ: বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের একটি বিস্তৃত অঞ্চল এখনও কাঁটাতারবিহীন থাকায় চোরাচালান ও অনুপ্রবেশের ঝুঁকি বাড়ছে। এই অরক্ষিত অংশে বেড়া দেওয়ার জন্য জমি অধিগ্রহণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে ‘জটিলতা’ চলছিল। মামলার শুনানিতে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্য সরকারের ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

প্রধান বিচারপতি রাজ্য সরকারের আইনজীবীকে প্রশ্ন করেন, “জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন জড়িত থাকা সত্ত্বেও রাজ্য কেন নিজস্ব ক্ষমতায় জমি অধিগ্রহণ করছে না? প্রয়োজনে ভূমি অধিগ্রহণ আইনের ‘জরুরি’ ধারা (ধারা ৪০) কেন ব্যবহার করা হচ্ছে না?” বেঞ্চের অপর বিচারপতি পার্থসারথি সেন মন্তব্য করেন যে, আন্তর্জাতিক সীমানার অংশীদার হয়েও রাজ্যের পক্ষ থেকে উদ্যোগের অভাব অত্যন্ত উদ্বেগজনক। জমি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ‘সোশ্যাল ইম্প্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট’ বা সামাজিক প্রভাব মূল্যায়নের অজুহাত দেখিয়ে কাজ ফেলে রাখা ঠিক নয় বলেও আদালত পর্যবেক্ষণ দিয়েছে।

১৮০ কিলোমিটার সীমান্তে হবে কাজ: আদালতের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৮০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় জমি অধিগ্রহণের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে প্রয়োজনীয় অর্থ ইতিমধ্যে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু প্রশাসনিক জটিলতায় সেই জমি বিএসএফ-এর হাতে পৌঁছায়নি। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, যেসব জমির ক্ষেত্রে রাজ্য মন্ত্রিসভার অনুমোদন এখনও মেলেনি, সেখানে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে জরুরি ভিত্তিতে অধিগ্রহণ সম্ভব কি না—সে বিষয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য উভয় পক্ষকেই হলফনামা জমা দিতে হবে।

আগামী ২ এপ্রিল এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন কলকাতা হাইকোর্ট। এই রায়ের ফলে দীর্ঘ দিন ধরে ঝুলে থাকা সীমান্ত সুরক্ষা প্রকল্পটি গতি পাবে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।