রাজনৈতিক কৌশল ও ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণে ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রদান সংক্রান্ত ইস্যুতে চরম বিভ্রান্তির মুখে পড়েছেন বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা। দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে স্পষ্ট বার্তার অভাব এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার সঙ্গে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের সমন্বয়হীনতাকে এই বিভ্রান্তির প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে বিএনপির অভ্যন্তরে এমন দোদুল্যমান অবস্থা বিরাজ করলেও তাদের দীর্ঘদিনের মিত্র জামায়াতে ইসলামী এবং এনসিপি (ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি) এই প্রক্রিয়ার প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি বিশেষ প্রক্রিয়ায় ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার বিষয়টি সামনে আসার পর থেকেই তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের অনেক নেতার মতে, পর্যাপ্ত আলাপ-আলোচনা ছাড়াই এ ধরনের সিদ্ধান্ত মাঠপর্যায়ে কর্মীদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে সাধারণ ভোটারদের কাছে এই সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা তুলে ধরা নিয়ে তারা এক ধরনের অস্বস্তিতে রয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জেলা পর্যায়ের নেতা জানিয়েছেন, কেন্দ্রের অস্পষ্ট নির্দেশনার কারণে তারা সাধারণ সমর্থকদের প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারছেন না।
এদিকে, বিএনপির প্রধান রাজনৈতিক মিত্র জামায়াতে ইসলামী এই ইস্যুতে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমান রাজনৈতিক সংকট উত্তরণে এবং বৃহত্তর স্বার্থে তারা এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। একই সুর শোনা গেছে এনসিপি-র কণ্ঠেও। দল দুটির শীর্ষ নেতারা মনে করছেন, এই মুহূর্তে ঐক্যবদ্ধভাবে লক্ষ্য অর্জনে ‘হ্যাঁ’ ভোটের কোনো বিকল্প নেই।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মিত্র দলগুলোর সমর্থন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের জন্য স্বস্তিদায়ক হলেও তৃণমূলের এই সংশয় দলের অভ্যন্তরীণ সংহতির জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হতে পারে। মাঠপর্যায়ের কর্মীদের আস্থা অর্জন করতে না পারলে যেকোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি সফল করা কঠিন হয়ে পড়বে। তবে বিএনপির কেন্দ্রীয় হাই কমান্ডের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, দলের ভেতরে কোনো বড় ধরনের বিভেদ নেই। কৌশলগত কারণেই কিছু বিষয়ে গোপনীয়তা রক্ষা করা হচ্ছে, যা খুব শীঘ্রই নেতা-কর্মীদের কাছে স্পষ্ট করা হবে।
সার্বিক পরিস্থিতিতে তৃণমূলের এই দ্বিধা কাটাতে বিএনপি আগামীতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেয় এবং মিত্রদের সাথে এই ঐক্য কতটা সুদৃঢ় থাকে, তা-ই এখন দেখার বিষয়।
রিপোর্টারের নাম 
























