ঢাকা ০৯:৪০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

পোস্টাল ব্যালট বাতিল: ইসি’র কঠোর নির্দেশনা, যেসব কারণে ভোট গণ্য হবে না

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৩৩:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে দেওয়া ভোট বাতিল হওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণগুলো জানিয়ে কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসির উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি চিঠি ইতোমধ্যে সকল রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। এই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কয়েকটি নির্দিষ্ট কারণে পোস্টাল ব্যালট বাতিল বলে গণ্য হবে এবং সেগুলো গণনার অন্তর্ভুক্ত হবে না।

নির্দেশনা অনুযায়ী, বৈধ ব্যালট পেপারসমূহ জাতীয় সংসদের ক্ষেত্রে প্রার্থীভিত্তিক এবং গণভোটের ক্ষেত্রে ‘হ্যাঁ’/‘না’ ভিত্তিক আলাদা করার পর তা গণনা করতে হবে। তবে, নিম্নলিখিত কারণগুলোতে ইস্যুকৃত পোস্টাল ব্যালট বাতিল বলে গণ্য হবে বা গণনা করা হবে না:

খামের মধ্যে প্রয়োজনীয় ঘোষণাপত্র না থাকলে।
ঘোষণাপত্রে ভোটারের স্বাক্ষর না থাকলে।
একাধিক প্রতীকে টিক বা ক্রস চিহ্ন দেওয়া হলে।
কোনো প্রতীকে টিক বা ক্রস চিহ্ন দেওয়া না হলে।
এমনভাবে টিক বা ক্রস চিহ্ন দেওয়া হয়েছে যে ভোটটি কোনো প্রার্থী বা প্রতীকের পক্ষে দেওয়া হয়েছে তা যুক্তিসঙ্গতভাবে নিশ্চিত করা না গেলে।
প্রবাসী ভোটারদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রতীক ব্যতীত অন্য প্রতীকে টিক বা ক্রস চিহ্ন দেওয়া হলে।
ব্যালট পেপারে টিক বা ক্রস চিহ্ন ব্যতীত অন্য কোনো চিহ্ন প্রদান করা হলে।

রিটার্নিং কর্মকর্তাদের পাঠানো চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, গণনার সময় উপরিউক্ত কারণে ঘোষিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের অবৈধ বা বাতিল ব্যালট পেপারসমূহ একত্রে একটি নির্ধারিত খামে রেখে খামের ওপর সংখ্যা উল্লেখ করতে হবে। এছাড়া, মোট অবৈধ বা বাতিল ব্যালটের সংখ্যা ফলাফল বিবরণীর নির্ধারিত স্থানে লিপিবদ্ধ করে ফলাফল বিবরণী প্রস্তুত করতে হবে।

অন্যদিকে, কোনো আসনের পোস্টাল ব্যালট ভোট গণনা শুরুর আগে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের নিকট না পৌঁছালে উক্ত পোস্টাল ব্যালট গণনার অন্তর্ভুক্ত হবে না। এছাড়া, কোনো আদালতের আদেশে কোনো নির্দিষ্ট নির্বাচনি আসনের প্রার্থী তালিকায় পরিবর্তন ঘটলে উক্ত আসনের পোস্টাল ব্যালট গণনার প্রয়োজন হবে না। এখানে ‘যথাসময়’ বলতে ভোটগ্রহণের দিনসহ পূর্ববর্তী ৪ দিন অর্থাৎ মোট পাঁচ দিন সময়কে বোঝানো হয়েছে।

বাতিল হওয়া ব্যালটগুলো কিউআর কোড (QR Code) ডুপ্লিকেট হওয়ার কারণে এবং ভোটার কর্তৃক পোস্টাল ব্যালট পাওয়ার পর খামের কিউআর কোড স্ক্যান না করার কারণে বাতিল হওয়া ব্যালটের খামের সঙ্গে আলাদাভাবে সংরক্ষণ করতে হবে এবং তার হিসাব প্রকাশ করতে হবে।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে দেশের ভেতর থেকে ভোটের দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারি চাকরিজীবী, কয়েদি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এবং প্রবাসীরা মিলে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন সমাপ্ত: ২৫ কার্যদিবসে রেকর্ড ৯৪ বিল পাস

পোস্টাল ব্যালট বাতিল: ইসি’র কঠোর নির্দেশনা, যেসব কারণে ভোট গণ্য হবে না

আপডেট সময় : ১০:৩৩:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে দেওয়া ভোট বাতিল হওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণগুলো জানিয়ে কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসির উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি চিঠি ইতোমধ্যে সকল রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। এই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কয়েকটি নির্দিষ্ট কারণে পোস্টাল ব্যালট বাতিল বলে গণ্য হবে এবং সেগুলো গণনার অন্তর্ভুক্ত হবে না।

নির্দেশনা অনুযায়ী, বৈধ ব্যালট পেপারসমূহ জাতীয় সংসদের ক্ষেত্রে প্রার্থীভিত্তিক এবং গণভোটের ক্ষেত্রে ‘হ্যাঁ’/‘না’ ভিত্তিক আলাদা করার পর তা গণনা করতে হবে। তবে, নিম্নলিখিত কারণগুলোতে ইস্যুকৃত পোস্টাল ব্যালট বাতিল বলে গণ্য হবে বা গণনা করা হবে না:

খামের মধ্যে প্রয়োজনীয় ঘোষণাপত্র না থাকলে।
ঘোষণাপত্রে ভোটারের স্বাক্ষর না থাকলে।
একাধিক প্রতীকে টিক বা ক্রস চিহ্ন দেওয়া হলে।
কোনো প্রতীকে টিক বা ক্রস চিহ্ন দেওয়া না হলে।
এমনভাবে টিক বা ক্রস চিহ্ন দেওয়া হয়েছে যে ভোটটি কোনো প্রার্থী বা প্রতীকের পক্ষে দেওয়া হয়েছে তা যুক্তিসঙ্গতভাবে নিশ্চিত করা না গেলে।
প্রবাসী ভোটারদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রতীক ব্যতীত অন্য প্রতীকে টিক বা ক্রস চিহ্ন দেওয়া হলে।
ব্যালট পেপারে টিক বা ক্রস চিহ্ন ব্যতীত অন্য কোনো চিহ্ন প্রদান করা হলে।

রিটার্নিং কর্মকর্তাদের পাঠানো চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, গণনার সময় উপরিউক্ত কারণে ঘোষিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের অবৈধ বা বাতিল ব্যালট পেপারসমূহ একত্রে একটি নির্ধারিত খামে রেখে খামের ওপর সংখ্যা উল্লেখ করতে হবে। এছাড়া, মোট অবৈধ বা বাতিল ব্যালটের সংখ্যা ফলাফল বিবরণীর নির্ধারিত স্থানে লিপিবদ্ধ করে ফলাফল বিবরণী প্রস্তুত করতে হবে।

অন্যদিকে, কোনো আসনের পোস্টাল ব্যালট ভোট গণনা শুরুর আগে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের নিকট না পৌঁছালে উক্ত পোস্টাল ব্যালট গণনার অন্তর্ভুক্ত হবে না। এছাড়া, কোনো আদালতের আদেশে কোনো নির্দিষ্ট নির্বাচনি আসনের প্রার্থী তালিকায় পরিবর্তন ঘটলে উক্ত আসনের পোস্টাল ব্যালট গণনার প্রয়োজন হবে না। এখানে ‘যথাসময়’ বলতে ভোটগ্রহণের দিনসহ পূর্ববর্তী ৪ দিন অর্থাৎ মোট পাঁচ দিন সময়কে বোঝানো হয়েছে।

বাতিল হওয়া ব্যালটগুলো কিউআর কোড (QR Code) ডুপ্লিকেট হওয়ার কারণে এবং ভোটার কর্তৃক পোস্টাল ব্যালট পাওয়ার পর খামের কিউআর কোড স্ক্যান না করার কারণে বাতিল হওয়া ব্যালটের খামের সঙ্গে আলাদাভাবে সংরক্ষণ করতে হবে এবং তার হিসাব প্রকাশ করতে হবে।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে দেশের ভেতর থেকে ভোটের দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারি চাকরিজীবী, কয়েদি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এবং প্রবাসীরা মিলে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন।