ঢাকা ০৯:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

গুমের পর মুক্তির শর্ত: হাসিনা-আওয়ামী লীগ ও ভারত নিয়ে নীরব থাকার নির্দেশ ছিল, ট্রাইব্যুনালে লে. কর্নেল হাসিনুর

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৪১:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

আওয়ামী লীগের দেড় দশকের শাসনামলে বীরপ্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসিনুর রহমান দুই দফা গুমের শিকার হয়েছিলেন। দ্বিতীয় দফায় গুম থেকে মুক্তির আগে তাকে শর্ত দেওয়া হয়েছিল যে তিনি শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগ, ডিজিএফআই ও ভারত সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে পারবেন না। এই শর্ত মানলে শেখ হাসিনার অনুমতি সাপেক্ষে মুক্তি মিলবে। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ আয়নাঘরে গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় দ্বিতীয় সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন হাসিনুর রহমান। এর আগে গত ২৫ জানুয়ারি তার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হলেও অসম্পূর্ণ থাকায় মঙ্গলবার তিনি পুনরায় জবানবন্দি দেন।

নিজের গুম ও নির্যাতনের বর্ণনা দিতে গিয়ে হাসিনুর রহমান ট্রাইব্যুনালকে জানান, একদিন তাকে পূর্বের ন্যায় হাত ও চোখ বেঁধে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইন্টারোগেশন সেলে নেওয়া হয়। দ্বিতীয় দফায় মুক্তির আট-দশ দিন পূর্বে নতুন একজন কর্মকর্তা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। ওই কর্মকর্তা তাকে জানান, তার পরিবার তাদের নজরদারিতে রয়েছে এবং তার মুক্তির দাবিতে সাংবাদিক সম্মেলনসহ সেনাপ্রধানসহ বিশিষ্টজনদের সঙ্গে দেখা করেছে। ওই কর্মকর্তা হাসিনুরকে বলেন, তিনি যদি সর্বাত্মক সহযোগিতা করেন, তবে শেখ হাসিনার অনুমতি সাপেক্ষে তাকে মুক্তির ব্যবস্থা করা হবে। মুক্তির দিন তাকে স্পষ্টভাবে সতর্ক করে দেওয়া হয় যে তিনি ফেসবুক ব্যবহার করতে পারবেন না এবং ডিজিএফআইতে কর্মরত ছিলেন, এ কথা কাউকে বলতে পারবেন না। শর্ত ভঙ্গ করলে তাকে আবারও গুম করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়।

মুক্তির প্রক্রিয়া বর্ণনা করে হাসিনুর বলেন, একদিন দায়িত্বরত সুপারিনটেনডেন্ট তার জন্য পোশাক নিয়ে আসেন। তাকে সেই পোশাক পরিয়ে চোখ বেঁধে ও হাতকড়া পরিয়ে একটি গাড়িতে ওঠানো হয়। গাড়িটি একটি নির্দিষ্ট সড়কে থামার পর আনুমানিক ১০ মিনিট পর তার হাতকড়া ও চোখের বাঁধন খুলে দেওয়া হয় এবং গাড়িটি দ্রুত চলে যায়। ওই সময় তিনি চোখ বন্ধ করে দাঁড়িয়েছিলেন এবং ভেবেছিলেন তাকে হত্যা করা হবে। পরে তার মেয়েরা এসে তাকে জড়িয়ে ধরে। তার বাসা থেকে প্রায় একশ গজ দূরে তাকে রেখে চলে যাওয়া হয়। পরে তার স্ত্রী জানান, ডিজিএফআই থেকে তাদের ফোন করে নিচে নেমে তাকে নিয়ে যেতে বলা হয়েছিল। হাসিনুর জানান, ২০২০ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আনুমানিক রাত সাড়ে ১১টা থেকে ১২টার দিকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

মুক্তি পাওয়ার পর হাসিনুর রহমান জানান, তিনি কিছুদিন পর আয়নাঘরে ব্রিগেডিয়ার আজমিকে দেখার বিষয়টি তার বড় ভাইকে অবহিত করেন। এরপর তিনি দেশীয় মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’, আইন ও সালিশ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থাকে বিষয়টি জানান। পরবর্তীতে আল জাজিরা ও নেত্রনিউজকে আয়নাঘরসহ সার্বিক ঘটনা সম্পর্কে অবগত করেন। ২০২২ সালের জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে নেত্র নিউজের মাধ্যমে আয়নাঘরের বিষয়টি প্রচারিত হলে ডিজিএফআইয়ের কর্নেল হাফিজ তার বন্ধুর সঙ্গে দেখা করে তাকে খালেদা জিয়ার মতো ডিওএইচএস এলাকা থেকে উচ্ছেদের হুমকি দেন। এরপর একটি মোটরসাইকেল নিয়মিত তার বাসার সামনে টহল দিতো। পরবর্তীতে ডিজিএফআই তার বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে দেশের বিভিন্ন জেলায় ১০টি মামলা দায়ের করে। হাসিনুর রহমান এই বিষয়ে মার্কিন দূতাবাস, জাতিসংঘ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদেরও অবহিত করেন। একটি মামলায় অভিযোগ করা হয় যে, আয়নাঘরের বিষয়টি প্রকাশ করায় সরকারের ৫০ হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে।

হাসিনুর রহমান তার জবানবন্দিতে আরও উল্লেখ করেন যে, ৫ আগস্ট ২০২৪ এর ‘জুলাই বিপ্লব’ এর আগ পর্যন্ত তিনি মানবেতর জীবন যাপন করেছেন। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করার পর তিনি ব্রিগেডিয়ার হাসান, কর্নেল ফেরদৌস আজিজসহ ‘মায়ের ডাক’ এর ১৫-২০ জন সদস্যকে নিয়ে আয়নাঘর ঘেরাও করার উদ্দেশ্যে কচুক্ষেত চেকপোস্টে অবস্থান নেন। এই বিষয়টি ডিজিএফআইয়ের হামিদ বঙ্গভবনে জানান। এরপর ডিজিএফআইয়ের দুজন ব্রিগেডিয়ার তাকে জানান যে তারা আয়নাঘরের বন্দিদের ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তিনি জানান, ৫ আগস্টের পর মুক্তিযোদ্ধা ইকবাল চৌধুরী, মারুফ জামান চৌধুরী এবং তিনি একজন তদন্তকারী কর্মকর্তার সঙ্গে আয়নাঘর পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের সময় তিনি আয়নাঘরে ব্রিগেডিয়ার আজমি ও ইকবাল চৌধুরীকে যে বাথরুমে দেখেছিলেন, তা শনাক্ত করেন। ওই সময় তারা দেখতে পান যে আয়নাঘরের অনেক কিছু ভেঙে ফেলা হয়েছে, পরিবর্তন করা হয়েছে এবং দেয়াল থেকে রক্তের চিহ্ন মুছে ফেলা হয়েছে।

এই মামলা কোনো প্রতিশোধের জন্য নয়, বরং এই ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধ করাই তার মূল উদ্দেশ্য বলে হাসিনুর রহমান উল্লেখ করেন। তিনি চান সমগ্র জাতি আয়নাঘর সম্পর্কে জানুক এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত হোক। তার এই কষ্ট ও ক্ষতির জন্য তিনি শেখ হাসিনা, তারেক সিদ্দিকী, ডিজিএফআইয়ের তৎকালীন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাইফুল আবেদিন এবং অন্যান্য কর্মকর্তাদের দায়ী করেন। তিনি তাদের বিচার ও ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।

বুধবার (আজ) তার অবশিষ্ট জেরা করা হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আজমিরীগঞ্জে অকাল বৃষ্টিতে ১৬০০ হেক্টর বোরো ধান পানির নিচে: দিশেহারা হাজারো কৃষক

গুমের পর মুক্তির শর্ত: হাসিনা-আওয়ামী লীগ ও ভারত নিয়ে নীরব থাকার নির্দেশ ছিল, ট্রাইব্যুনালে লে. কর্নেল হাসিনুর

আপডেট সময় : ০৯:৪১:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

আওয়ামী লীগের দেড় দশকের শাসনামলে বীরপ্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসিনুর রহমান দুই দফা গুমের শিকার হয়েছিলেন। দ্বিতীয় দফায় গুম থেকে মুক্তির আগে তাকে শর্ত দেওয়া হয়েছিল যে তিনি শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগ, ডিজিএফআই ও ভারত সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে পারবেন না। এই শর্ত মানলে শেখ হাসিনার অনুমতি সাপেক্ষে মুক্তি মিলবে। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ আয়নাঘরে গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় দ্বিতীয় সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন হাসিনুর রহমান। এর আগে গত ২৫ জানুয়ারি তার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হলেও অসম্পূর্ণ থাকায় মঙ্গলবার তিনি পুনরায় জবানবন্দি দেন।

নিজের গুম ও নির্যাতনের বর্ণনা দিতে গিয়ে হাসিনুর রহমান ট্রাইব্যুনালকে জানান, একদিন তাকে পূর্বের ন্যায় হাত ও চোখ বেঁধে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইন্টারোগেশন সেলে নেওয়া হয়। দ্বিতীয় দফায় মুক্তির আট-দশ দিন পূর্বে নতুন একজন কর্মকর্তা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। ওই কর্মকর্তা তাকে জানান, তার পরিবার তাদের নজরদারিতে রয়েছে এবং তার মুক্তির দাবিতে সাংবাদিক সম্মেলনসহ সেনাপ্রধানসহ বিশিষ্টজনদের সঙ্গে দেখা করেছে। ওই কর্মকর্তা হাসিনুরকে বলেন, তিনি যদি সর্বাত্মক সহযোগিতা করেন, তবে শেখ হাসিনার অনুমতি সাপেক্ষে তাকে মুক্তির ব্যবস্থা করা হবে। মুক্তির দিন তাকে স্পষ্টভাবে সতর্ক করে দেওয়া হয় যে তিনি ফেসবুক ব্যবহার করতে পারবেন না এবং ডিজিএফআইতে কর্মরত ছিলেন, এ কথা কাউকে বলতে পারবেন না। শর্ত ভঙ্গ করলে তাকে আবারও গুম করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়।

মুক্তির প্রক্রিয়া বর্ণনা করে হাসিনুর বলেন, একদিন দায়িত্বরত সুপারিনটেনডেন্ট তার জন্য পোশাক নিয়ে আসেন। তাকে সেই পোশাক পরিয়ে চোখ বেঁধে ও হাতকড়া পরিয়ে একটি গাড়িতে ওঠানো হয়। গাড়িটি একটি নির্দিষ্ট সড়কে থামার পর আনুমানিক ১০ মিনিট পর তার হাতকড়া ও চোখের বাঁধন খুলে দেওয়া হয় এবং গাড়িটি দ্রুত চলে যায়। ওই সময় তিনি চোখ বন্ধ করে দাঁড়িয়েছিলেন এবং ভেবেছিলেন তাকে হত্যা করা হবে। পরে তার মেয়েরা এসে তাকে জড়িয়ে ধরে। তার বাসা থেকে প্রায় একশ গজ দূরে তাকে রেখে চলে যাওয়া হয়। পরে তার স্ত্রী জানান, ডিজিএফআই থেকে তাদের ফোন করে নিচে নেমে তাকে নিয়ে যেতে বলা হয়েছিল। হাসিনুর জানান, ২০২০ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আনুমানিক রাত সাড়ে ১১টা থেকে ১২টার দিকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

মুক্তি পাওয়ার পর হাসিনুর রহমান জানান, তিনি কিছুদিন পর আয়নাঘরে ব্রিগেডিয়ার আজমিকে দেখার বিষয়টি তার বড় ভাইকে অবহিত করেন। এরপর তিনি দেশীয় মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’, আইন ও সালিশ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থাকে বিষয়টি জানান। পরবর্তীতে আল জাজিরা ও নেত্রনিউজকে আয়নাঘরসহ সার্বিক ঘটনা সম্পর্কে অবগত করেন। ২০২২ সালের জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে নেত্র নিউজের মাধ্যমে আয়নাঘরের বিষয়টি প্রচারিত হলে ডিজিএফআইয়ের কর্নেল হাফিজ তার বন্ধুর সঙ্গে দেখা করে তাকে খালেদা জিয়ার মতো ডিওএইচএস এলাকা থেকে উচ্ছেদের হুমকি দেন। এরপর একটি মোটরসাইকেল নিয়মিত তার বাসার সামনে টহল দিতো। পরবর্তীতে ডিজিএফআই তার বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে দেশের বিভিন্ন জেলায় ১০টি মামলা দায়ের করে। হাসিনুর রহমান এই বিষয়ে মার্কিন দূতাবাস, জাতিসংঘ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদেরও অবহিত করেন। একটি মামলায় অভিযোগ করা হয় যে, আয়নাঘরের বিষয়টি প্রকাশ করায় সরকারের ৫০ হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে।

হাসিনুর রহমান তার জবানবন্দিতে আরও উল্লেখ করেন যে, ৫ আগস্ট ২০২৪ এর ‘জুলাই বিপ্লব’ এর আগ পর্যন্ত তিনি মানবেতর জীবন যাপন করেছেন। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করার পর তিনি ব্রিগেডিয়ার হাসান, কর্নেল ফেরদৌস আজিজসহ ‘মায়ের ডাক’ এর ১৫-২০ জন সদস্যকে নিয়ে আয়নাঘর ঘেরাও করার উদ্দেশ্যে কচুক্ষেত চেকপোস্টে অবস্থান নেন। এই বিষয়টি ডিজিএফআইয়ের হামিদ বঙ্গভবনে জানান। এরপর ডিজিএফআইয়ের দুজন ব্রিগেডিয়ার তাকে জানান যে তারা আয়নাঘরের বন্দিদের ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তিনি জানান, ৫ আগস্টের পর মুক্তিযোদ্ধা ইকবাল চৌধুরী, মারুফ জামান চৌধুরী এবং তিনি একজন তদন্তকারী কর্মকর্তার সঙ্গে আয়নাঘর পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের সময় তিনি আয়নাঘরে ব্রিগেডিয়ার আজমি ও ইকবাল চৌধুরীকে যে বাথরুমে দেখেছিলেন, তা শনাক্ত করেন। ওই সময় তারা দেখতে পান যে আয়নাঘরের অনেক কিছু ভেঙে ফেলা হয়েছে, পরিবর্তন করা হয়েছে এবং দেয়াল থেকে রক্তের চিহ্ন মুছে ফেলা হয়েছে।

এই মামলা কোনো প্রতিশোধের জন্য নয়, বরং এই ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধ করাই তার মূল উদ্দেশ্য বলে হাসিনুর রহমান উল্লেখ করেন। তিনি চান সমগ্র জাতি আয়নাঘর সম্পর্কে জানুক এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত হোক। তার এই কষ্ট ও ক্ষতির জন্য তিনি শেখ হাসিনা, তারেক সিদ্দিকী, ডিজিএফআইয়ের তৎকালীন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাইফুল আবেদিন এবং অন্যান্য কর্মকর্তাদের দায়ী করেন। তিনি তাদের বিচার ও ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।

বুধবার (আজ) তার অবশিষ্ট জেরা করা হবে।