চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য বরাদ্দকৃত প্রায় ৮৫০ একর জমি বাতিল করে সেখানে একটি বৃহৎ প্রতিরক্ষা শিল্প পার্ক বা ‘ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক’ তৈরির নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। সোমবার (২৭ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) গভর্নিং বোর্ডের সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। মূলত দেশের সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ ব্যবস্থা স্বয়ংসম্পূর্ণ করা এবং আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বাজারে বাংলাদেশের প্রবেশ নিশ্চিত করতেই জি-টু-জি (সরকার-টু-সরকার) কাঠামোর এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।
বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন জানান, বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা শিল্প বর্তমানে দ্রুত বিকশিত হচ্ছে এবং এই খাতে বাংলাদেশের বড় সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি সাম্প্রতিক যুদ্ধের উদাহরণ টেনে বলেন, রণক্ষেত্রে কেবল অত্যাধুনিক বিমান নয়, বরং বুলেট ও ট্যাংকের খুচরা যন্ত্রাংশের মতো মৌলিক সরঞ্জামের সংকট যুদ্ধের ফলাফল বদলে দেয়। তাই দেশের সামরিক সাপ্লাই চেইন নিরাপদ করতে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দীর্ঘ আলোচনার পর এই সমরাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পটি এখন বেজার মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাস্তবায়িত হবে।
একই সভায় চট্টগ্রামের আনোয়ারায় দেশের প্রথম মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল স্থাপন এবং কুষ্টিয়া চিনিকলকে একটি আধুনিক শিল্প পার্কে রূপান্তরেরও নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে একদিকে যেমন বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা যাবে, অন্যদিকে নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রাও সাশ্রয় হবে। সভায় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিবসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন, যারা এই পরিবর্তনকে দেশের সার্বভৌমত্ব ও শিল্পায়নের পথে একটি কৌশলগত মাইলফলক হিসেবে দেখছেন।
রিপোর্টারের নাম 


















