পাকিস্তানের অশান্ত প্রদেশ বেলুচিস্তানে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর বিশেষ অভিযানে তিন জন সশস্ত্র বিদ্রোহী নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর একজন স্থানীয় কমান্ডারও রয়েছে। রোববার (২৬ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ দপ্তর (আইএসপিআর) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বিবৃতিতে জানানো হয়, বেলুচিস্তানের পাংজুর জেলায় বিদ্রোহীদের উপস্থিতির খবর পেয়ে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালে নিরাপত্তা বাহিনীর অবস্থান লক্ষ্য করে বিদ্রোহীরা গুলি ছুড়লে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র লড়াই শুরু হয়। গোলাগুলির একপর্যায়ে স্থানীয় কমান্ডার ফারুক ওরফে সোরোসহ আদিল ও ওয়াসিম নামের আরও দুই জন নিহত হয়। ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে সামরিক বাহিনী।
আইএসপিআরের দাবি অনুযায়ী, নিহতরা ‘ফিতনা আল হিন্দুস্তান’ নামক একটি সশস্ত্র সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিল। পাকিস্তান সরকার ও সামরিক বাহিনী এই সংগঠনটিকে বিদেশি মদতপুষ্ট ‘প্রক্সি বাহিনী’ হিসেবে অভিহিত করে আসছে। বর্তমানে ওই এলাকায় আর কোনো সন্দেহভাজন লুকিয়ে আছে কি না, তা নিশ্চিতে চিরুনি অভিযান (স্যানিটাইজেশন অপারেশন) অব্যাহত রেখেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশজুড়ে সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে গৃহীত ‘আজমে ইস্তেহকাম’ কৌশলের আওতায় এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে বিদেশি মদতপুষ্ট নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড কঠোর হাতে দমনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে সংস্থাটি।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে প্রতিবেশী দেশ আফগানিস্তানের ক্ষমতা তালেবানের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর থেকেই পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী খাইবার পাখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তান প্রদেশে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ও সশস্ত্র হামলা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে আইএসপিআরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী জানান, ২০২৫ সালে পাকিস্তানজুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোট ৭৫ হাজার ১৭৫টি গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযান পরিচালনা করেছে। এসব অভিযানে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৫৯৭ জন সশস্ত্র বিদ্রোহী নিহত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রিপোর্টারের নাম 





















