ঢাকা ১০:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬

ফতুল্লায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার কার্যালয়ে হামলা, গুলিবর্ষণ ও ভাঙচুর: মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের অভিযোগ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:১৬:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতার ব্যক্তিগত কার্যালয়ে হামলা, গুলিবর্ষণ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। গত শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ১১টা ১০ মিনিটে ফতুল্লার শিবুমার্কেট কায়েমপুর বটতলা এলাকায় এবিসি স্কুলের পাশে অবস্থিত ওই কার্যালয়ে দুর্বৃত্তরা এই তাণ্ডব চালায়। এ সময় কার্যালয়ের আসবাবপত্র, সিসি ক্যামেরা এবং বাইরে রাখা কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর করা হয়।

ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক এস কে শাহীনের ব্যক্তিগত কার্যালয় হিসেবে পরিচিত এই ভবনে হামলার ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কুতুব আইল এলাকার রবিন নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে এস কে শাহীনের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের জের ধরেই রবিনের নেতৃত্বে মিঠু, কিস্তি ওয়াসিম, খান, বাপ্পি, রোহান, সোহেল ও মুন্না সহ ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে কার্যালয়টিতে হামলা চালায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলার সময় অফিসটি তালাবদ্ধ ছিল। হামলাকারীরা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে চেয়ার-টেবিলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ও সিসি ক্যামেরা ভাঙচুর করে। ফিরে যাওয়ার সময় তারা কয়েক রাউন্ড গুলিও ছোড়ে। এ সময় অফিসের সামনে রাখা তিন থেকে চারটি ওষুধবাহী পিকআপ ভ্যান এবং একটি সিএনজি অটোরিকশাও ভাঙচুর করা হয়। হামলাকারীরা মাথা ও মুখ কাপড় দিয়ে ঢেকে রেখেছিল।

এস কে শাহীন অভিযোগ করেছেন, সন্ত্রাসীরা বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছে এবং তিনি বিএনপি জোট প্রার্থীর হয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। এই রাজনৈতিক বৈরিতার কারণেই তার অফিসে হামলা চালানো হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, হামলাকারীরা অফিসের টেবিলের ড্রয়ার ভেঙে টাকাও নিয়ে গেছে।

তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, এলাকায় সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পটপরিবর্তনের পর এস কে শাহীন শিবুমার্কেট কায়েমপুর বটতলা এলাকায় চাঁদাবাজি, জমি দখল এবং মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ শুরু করেন। এ নিয়ে কুতুব আইল এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজ মো. রবিনের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের বিরোধ চলে আসছিল। স্থানীয়দের দাবি, মূলত এই দ্বন্দ্বের জের ধরেই হামলার ঘটনা ঘটেছে।

এই ঘটনায় এস কে শাহীন অজ্ঞাতনামা ১৫ থেকে ২০ জনের বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ফতুল্লা থানা পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) আব্দুল মান্নান জানান, বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফতুল্লায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার কার্যালয়ে হামলা, গুলিবর্ষণ ও ভাঙচুর: মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৪:১৬:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতার ব্যক্তিগত কার্যালয়ে হামলা, গুলিবর্ষণ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। গত শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ১১টা ১০ মিনিটে ফতুল্লার শিবুমার্কেট কায়েমপুর বটতলা এলাকায় এবিসি স্কুলের পাশে অবস্থিত ওই কার্যালয়ে দুর্বৃত্তরা এই তাণ্ডব চালায়। এ সময় কার্যালয়ের আসবাবপত্র, সিসি ক্যামেরা এবং বাইরে রাখা কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর করা হয়।

ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক এস কে শাহীনের ব্যক্তিগত কার্যালয় হিসেবে পরিচিত এই ভবনে হামলার ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কুতুব আইল এলাকার রবিন নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে এস কে শাহীনের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের জের ধরেই রবিনের নেতৃত্বে মিঠু, কিস্তি ওয়াসিম, খান, বাপ্পি, রোহান, সোহেল ও মুন্না সহ ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে কার্যালয়টিতে হামলা চালায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলার সময় অফিসটি তালাবদ্ধ ছিল। হামলাকারীরা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে চেয়ার-টেবিলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ও সিসি ক্যামেরা ভাঙচুর করে। ফিরে যাওয়ার সময় তারা কয়েক রাউন্ড গুলিও ছোড়ে। এ সময় অফিসের সামনে রাখা তিন থেকে চারটি ওষুধবাহী পিকআপ ভ্যান এবং একটি সিএনজি অটোরিকশাও ভাঙচুর করা হয়। হামলাকারীরা মাথা ও মুখ কাপড় দিয়ে ঢেকে রেখেছিল।

এস কে শাহীন অভিযোগ করেছেন, সন্ত্রাসীরা বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছে এবং তিনি বিএনপি জোট প্রার্থীর হয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। এই রাজনৈতিক বৈরিতার কারণেই তার অফিসে হামলা চালানো হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, হামলাকারীরা অফিসের টেবিলের ড্রয়ার ভেঙে টাকাও নিয়ে গেছে।

তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, এলাকায় সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পটপরিবর্তনের পর এস কে শাহীন শিবুমার্কেট কায়েমপুর বটতলা এলাকায় চাঁদাবাজি, জমি দখল এবং মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ শুরু করেন। এ নিয়ে কুতুব আইল এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজ মো. রবিনের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের বিরোধ চলে আসছিল। স্থানীয়দের দাবি, মূলত এই দ্বন্দ্বের জের ধরেই হামলার ঘটনা ঘটেছে।

এই ঘটনায় এস কে শাহীন অজ্ঞাতনামা ১৫ থেকে ২০ জনের বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ফতুল্লা থানা পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) আব্দুল মান্নান জানান, বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।