বরিশালের ফিলিং স্টেশনগুলোতে হঠাৎ করেই পেট্রোল ও অকটেনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। নগরী ও এর আশপাশসহ জেলার কোথাও মিলছে না এই জ্বালানি তেল। গত শুক্রবার গভীর রাত থেকেই মূলত পেট্রোল ও অকটেন মিলছে না বরিশালের ফিলিং স্টেশনগুলোতে। ফলে অনেকটা বাধ্য হয়েই খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে যানবাহনের চালকদের।
গ্রাহকদের অভিযোগ অধিক মুনাফার আশায় পেট্রোল ও অকটন মজুত করছেন ফিলিং স্টেশনের মালিকরা। তবে স্টেশনের মালিকদের দাবি গাড়ির মালিক ও চালকরা প্রয়োজনের তুলনায় অধিক পরিমাণ পেট্রোল ও অকটেন সংগ্রহ করায় তাদের মজুত শেষ হয়ে গেছে। এ নিয়ে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন বিভিন্ন যানবাহন চালকরা। অনেকেই পাম্পগুলোর কর্মচারীদের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়ছেন।
গতকাল শনিবার দুপুরে নগরীর নতুন বাজার, নথুল্লাবাদ, কাশিপুর, রূপাতলীসহ বিভিন্ন এলাকার পেট্রোল পাম্প ঘুরে দেখা গেছে- এসব এলাকার ফিলিং স্টেশনগুলোতে কোনো পেট্রোল ও অকটেন নেই। পাম্পগুলোর সামনে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে এখানে ‘পেট্রোল ও অকটেন নেই’ লেখা সাইনবোর্ড। দুয়েকটি স্টেশনে সামান্য পেট্রোল থাকলেও সেখানে দেখা গেছে দীর্ঘ লাইন। সকাল থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে তাদের পেট্রোল সংগ্রহ করতে দেখা গেছে। তবে কিছুক্ষণ পরই জানিয়ে দেওয়া হয় এখানে আর পেট্রোল নেই। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন দীর্ঘ সময়ে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা যানবাহন চালকরা।
বরিশালের একাধিক ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আমেরিকা-ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের কারণে পুরো মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের আশঙ্কা করছেন ক্রেতারা। এই আতঙ্ক থেকে অনেক চালক আগেভাগেই তাদের যানবাহনের ফুয়েল ট্যাংক পূর্ণ করে রাখতে চাইছেন। অনেক চালক প্রয়োজনের তুলনায় তিন থেকে চারগুণ পেট্রোল ও অকটেন সংগ্রহ করেছেন। যে কারণে চাহিদাও কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।
নগরীর নতুন বাজার এলাকার একটি ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, অনেক মোটরসাইকেল চালক লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন পেট্রোল সংগ্রহ করার জন্য। কিন্তু দুই-চারজনকে দেওয়ার পর জানানো হয় এখানে আর পেট্রোল নেই। ফলে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা প্রায় অর্ধশত মোটরবাইক চালক বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।
মনির হাওলাদার নামের এক মোটরবাইক চালক বলেন, তার বাইকে চলাচলের জন্য কোনো জ্বালানি নেই। তাই তিনি এখানে এসেছেন। প্রায় ২০ মিনিট ধরে অপেক্ষার পর জানিয়ে দেওয়া হয় কোনো পেট্রোল নেই। যেটুকু পেট্রোল রয়েছে তা দিয়ে তিনি বাসায় ফিরতে পারবেন কি না সন্দেহ।
তবে একই পাম্পে তেল নিতে আসা সরওয়ার হাওলাদার নামের আরেক বাইকচালক বলেন, তার বাইকে কমপক্ষে ৫শ টাকার পেট্রোল রয়েছে। শুনেছেন পেট্রোল ও অকটেনের সংকট রয়েছে তাই আতঙ্কগ্রস্ত হয়েই তিনি মোটরসাইকেলের ট্যাংক পূর্ণ করার জন্যই এখানে এসেছেন।
নতুন বাজার এলাকার ইসরাইল তালুকদার ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, এখানে কোনো পেট্রোল ও অকটেন নেই। গত বৃহস্পতিবার রাতে অকটেন শেষ হয়েছে। পেট্রোল শেষ হয়েছে শুক্রবার রাতে। এখন শুধু ডিজেল রয়েছে এ ফিলিং স্টেশনে।
এখানে জ্বালানি নিতে আসা প্রাইভেটকার চালক জাহিদুর রহমান বলেন, অকটেন না পেয়ে তিনটি স্টেশনে গিয়ে খালি হাতে ফিরেছেন। এখন বাসায় ফেরা কঠিন।
নতুন বাজার এলাকার ইসরাইল ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার আব্দুর রব সিকদার আমার দেশকে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তেলের পর্যাপ্ত আমদানি নেই। দুদিন আগেই তাদের স্টেশনে অকটেন শেষ হয়ে গেছে। শুক্রবার রাতে শেষ হয়েছে পেট্রোল। যানবাহন চালকরা অনেকটা আতঙ্কিত হয়েই প্রয়োজনের তুলনায় তিন চারগুণ পেট্রোল ও অকটেন সংগ্রহ করেছে।
আব্দুর রব সিকদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পেট্রোল ও অকটন সংকটকে পুঁজি করে অতিরিক্ত মুনাফার জন্য পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছি এমন অভিযোগ শুনতে হচ্ছে চালকদের কাছ থেকে। এমনকি তারা অনেকটা মারমুখী হয়ে উঠছেন। তিনি বলেন, পদ্মা, যমুনা ও মেঘনা অয়েল ডিপো থেকে সরবরাহ না পেলে কী করে বিক্রি করব। তবে আগামী রোববার কিংবা সোমবার জাহাজ পৌঁছালে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে জানান তিনি।
সুরভী ফিলিং স্টেশনের সহকারী ম্যানেজার রাফি বলেন, গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকেই অকটেন নেই। আর পেট্রোলের চাহিদাও কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় শনিবার সকাল থেকেই মজুত শেষ হয়েছে। তাই এ স্টেশন থেকে পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।
এ বিষয়ে মেঘনা পেট্রোলিয়াম বরিশালের ডিপো ইনচার্জ মো. শাহ আলম জানান, প্রয়োজনের অধিক সংগ্রহ করায় কিছুটা সংকট তৈরি হয়েছে। তবে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। দুয়েক দিনের মধ্যে সংকটের সমাধান হবে।
রিপোর্টারের নাম 























