কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলের মাঠে পুরুষের সঙ্গে সম্মিলিতভাবে কাজ করছেন নারীরা। বিশেষ করে বাদামের মৌসুম এলেই চোখে পড়ে বিভিন্ন চরে পুরুষের সঙ্গে নারী শ্রমিকদের কর্মব্যস্ততা। তাদের এ শ্রমে যেমন সচল থাকে চরের কৃষিনির্ভর অর্থনীতি, তেমনি টিকে থাকে দরিদ্র ও অসহায় অনেক পরিবারের সংসার।
জেলার চিলমারী উপজেলার নয়ারহাট ইউনিয়নের বিভিন্ন চরে দেখা যায়, সংসারের অভাব দূর করার জন্য কিংবা একটু স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপনের জন্য পুরুষের সঙ্গে নারীরা বাদাম তোলার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
কথা হয় আছিরন বেগমের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী শারীরিক প্রতিবন্ধী। চার ছেলেমেয়েকে নিয়ে আমার সংসার। বিভিন্ন মৌসুমে অন্যের ক্ষেতে কামলা দিয়ে যা আয় করি তাই দিয়ে সংসার চালাই। আমার রোজগারের টাকা দিয়েই গরু-ছাগল কিনেছি। আলহামদুলিল্লাহ, ছেলেমেয়েদের নিয়ে আমরা ভালো আছি।
বুলবুলি বেগম বলেন, আমার স্বামী একজন দিনমজুর। তার সঙ্গে আমিও পেঁয়াজের সিজনে পেঁয়াজ তোলা এবং বাদামের সিজনে বাদাম তোলার কাজ করি। একজনের আয় দিয়ে সংসার চললেও বাড়তি কিছু করার জন্য আমিও অন্যের জমিতে কাজ করি। দুজনের আয়ে আমাদের সংসার এখন খুব ভালো চলছে। দুই ছেলেমেয়েকে লেখাপড়ার পাশাপাশি সাতটি গরুও কিনেছি।
শুধু নয়ারহাট চর নয়, কুড়িগ্রামের প্রায় ৪০০টি চরের চিত্রই এখন এমন। আছিরন, বুলবুলিদের মতো শত শত নারী এখন নিজেদের জমি চাষাবাদ কিংবা অন্যের জমিতে ফসল তোলার কাজ করে আয় করছেন, যা তাদের সংসারে বাড়তি অর্থের জোগান হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তবে চরাঞ্চলের নারী শ্রমিকদের বিভিন্ন প্রতিকূল পরিবেশ ও স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্য দিয়ে কাজ করতে হয়। এছাড়া পুরুষের সমপরিমাণ কাজ করেও মজুরি কম পান বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় নারী উন্নয়নকর্মী সাইদা ইয়াসমিন বলেন, কুড়িগ্রামের নারীরা যে কৃষিতে ভূমিকা রাখতে পারেন, এটা তাদের জানা ছিল না। কৃষিক্ষেত্রে পুরুষের পাশাপাশি নারীরা সম্পৃক্ত হয়ে লাভবান হচ্ছেন এবং সংসারে তারা ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারছেন। তাদের আয়ের টাকা দিয়ে ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার খরচ জোগানোর পাশাপাশি পরিবারে সচ্ছলতা নিয়ে আসছে, যা দেশের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কৃষিক্ষেত্রে নারীদের মূল্যায়ন ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে অর্থনীতিতে তারা বড় ধরনের ভূমিকা রাখতে পারবেন।
রিপোর্টারের নাম 
























