ঢাকা ০৯:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬

দেশভাগে খুলনার অন্তর্ভুক্তি ও উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় খান এ সবুরের অবদান অনস্বীকার্য: খুলনায় স্মরণসভা

প্রখ্যাত পার্লামেন্টারিয়ান, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও বৃহত্তর খুলনার উন্নয়নের রূপকার খান এ সবুরের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে রবিবার সকালে নগরীর সার্কিট হাউজ সংলগ্ন সবুর লজে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে খান এ সবুর স্মৃতি সংসদ। অনুষ্ঠানে বক্তারা এই কীর্তিমান রাজনীতিবিদের বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবন ও খুলনার ইতিহাসে তাঁর অনন্য ভূমিকার কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।

স্মরণসভায় বক্তারা বলেন, ১৯৪৭ সালের দেশভাগের সময় মানচিত্র অনুযায়ী খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা অঞ্চল ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। সে সময় জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে সীমানা নির্ধারণী কমিশনের (বাউন্ডারি কমিশন) কাছে আইনি লড়াই চালিয়েছিলেন খান এ সবুর। তাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ও সফল আপিলের মাধ্যমেই খুলনা অঞ্চল তৎকালীন পাকিস্তানের মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত হয়। বক্তারা উল্লেখ করেন, এই অঞ্চলের মানুষের ত্যাগ ও আন্দোলনের প্রতি সম্মান জানিয়েই তিনি খুলনাকে ছিনিয়ে এনেছিলেন। যার ফলে সারাদেশে ১৪ আগস্ট স্বাধীনতার পতাকা উড়লেও খুলনায় তা উড়েছিল ১৭ আগস্ট।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ট্রেজারার অধ্যক্ষ মাজহারুল হান্নান বলেন, খান এ সবুর যেমন একজন সফল ছাত্রনেতা ছিলেন, তেমনি জাতীয় রাজনীতিতেও ছিলেন অত্যন্ত প্রভাবশালী। ১৯৬২ সালে যোগাযোগমন্ত্রী থাকাকালে তিনি খুলনার শিল্পায়ন ও বন্দর উন্নয়নে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনেন। তাঁর হাত ধরেই এই জনপদে অসংখ্য কলকারখানা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নির্মিত হয়েছিল, যা এই অঞ্চলের অর্থনীতিকে শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়েছিল। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিগত সরকার উদ্দেশ্যমূলকভাবে ইতিহাস থেকে খান এ সবুরের নাম মুছে ফেলার অপচেষ্টা চালিয়েছে। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী দেয়, যারা জনকল্যাণে কাজ করেন, তাদের মানুষের মন থেকে মুছে ফেলা সম্ভব নয়।

স্মৃতি সংসদের সহ-সভাপতি শেখ জাহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুসলিম লীগের কেন্দ্রীয় সিনিয়র নেতা আতিকুল ইসলাম খোকন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল আজিজ ও সিনিয়র সাংবাদিক শেখ দিদারুল আলম।

এছাড়া অন্যান্যের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সহকারী মহাসচিব এহতেশামুল হক শাওন, সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু তৈয়ব, সরকারি বিএল কলেজের সাবেক ভিপি অ্যাডভোকেট শেখ জাকিরুল ইসলাম, শিক্ষাবিদ এ এইচ এম জামালউদ্দিন, অধ্যক্ষ এ এস এম সাইফুদ্দোহা, বৃহত্তর আমরা খুলনাবাসীর সভাপতি মাহবুবুর রহমান খোকন, মোল্লা মাকসুদুর রহমান ও মো. নুর আলম।

হাফেজ মাওলানা আল আমিনের কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অ্যাডভোকেট আখতার জাহান রুকু ও সিরাজউদ্দিন সেন্টু। আলোচনা শেষে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশভাগে খুলনার অন্তর্ভুক্তি ও উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় খান এ সবুরের অবদান অনস্বীকার্য: খুলনায় স্মরণসভা

আপডেট সময় : ১১:২৩:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

প্রখ্যাত পার্লামেন্টারিয়ান, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও বৃহত্তর খুলনার উন্নয়নের রূপকার খান এ সবুরের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে রবিবার সকালে নগরীর সার্কিট হাউজ সংলগ্ন সবুর লজে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে খান এ সবুর স্মৃতি সংসদ। অনুষ্ঠানে বক্তারা এই কীর্তিমান রাজনীতিবিদের বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবন ও খুলনার ইতিহাসে তাঁর অনন্য ভূমিকার কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।

স্মরণসভায় বক্তারা বলেন, ১৯৪৭ সালের দেশভাগের সময় মানচিত্র অনুযায়ী খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা অঞ্চল ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। সে সময় জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে সীমানা নির্ধারণী কমিশনের (বাউন্ডারি কমিশন) কাছে আইনি লড়াই চালিয়েছিলেন খান এ সবুর। তাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ও সফল আপিলের মাধ্যমেই খুলনা অঞ্চল তৎকালীন পাকিস্তানের মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত হয়। বক্তারা উল্লেখ করেন, এই অঞ্চলের মানুষের ত্যাগ ও আন্দোলনের প্রতি সম্মান জানিয়েই তিনি খুলনাকে ছিনিয়ে এনেছিলেন। যার ফলে সারাদেশে ১৪ আগস্ট স্বাধীনতার পতাকা উড়লেও খুলনায় তা উড়েছিল ১৭ আগস্ট।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ট্রেজারার অধ্যক্ষ মাজহারুল হান্নান বলেন, খান এ সবুর যেমন একজন সফল ছাত্রনেতা ছিলেন, তেমনি জাতীয় রাজনীতিতেও ছিলেন অত্যন্ত প্রভাবশালী। ১৯৬২ সালে যোগাযোগমন্ত্রী থাকাকালে তিনি খুলনার শিল্পায়ন ও বন্দর উন্নয়নে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনেন। তাঁর হাত ধরেই এই জনপদে অসংখ্য কলকারখানা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নির্মিত হয়েছিল, যা এই অঞ্চলের অর্থনীতিকে শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়েছিল। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিগত সরকার উদ্দেশ্যমূলকভাবে ইতিহাস থেকে খান এ সবুরের নাম মুছে ফেলার অপচেষ্টা চালিয়েছে। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী দেয়, যারা জনকল্যাণে কাজ করেন, তাদের মানুষের মন থেকে মুছে ফেলা সম্ভব নয়।

স্মৃতি সংসদের সহ-সভাপতি শেখ জাহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুসলিম লীগের কেন্দ্রীয় সিনিয়র নেতা আতিকুল ইসলাম খোকন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল আজিজ ও সিনিয়র সাংবাদিক শেখ দিদারুল আলম।

এছাড়া অন্যান্যের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সহকারী মহাসচিব এহতেশামুল হক শাওন, সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু তৈয়ব, সরকারি বিএল কলেজের সাবেক ভিপি অ্যাডভোকেট শেখ জাকিরুল ইসলাম, শিক্ষাবিদ এ এইচ এম জামালউদ্দিন, অধ্যক্ষ এ এস এম সাইফুদ্দোহা, বৃহত্তর আমরা খুলনাবাসীর সভাপতি মাহবুবুর রহমান খোকন, মোল্লা মাকসুদুর রহমান ও মো. নুর আলম।

হাফেজ মাওলানা আল আমিনের কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অ্যাডভোকেট আখতার জাহান রুকু ও সিরাজউদ্দিন সেন্টু। আলোচনা শেষে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।