ঢাকা ০৬:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬

ভরাট খালে সেচ সংকট, বোরহানউদ্দিনের ৬০০ কৃষক দিশেহারা

ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার পক্ষীয়া ইউনিয়নের নয়মীয়ার খালের নাব্যতা সংকট এক দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রায় ৬০০ কৃষকের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে ফেলেছে। মেঘনা নদীর সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় এবং পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়ায় খালের সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন দুই ইউনিয়নের প্রায় ৪০০ হেক্টর জমির বোরো ধান চাষিরা। পানির অভাবে অনেক কৃষক তাদের উপার্জনের প্রধান উৎস ফসলি জমি পরিত্যক্ত রাখতে বাধ্য হচ্ছেন, যা খাদ্য উৎপাদন ও স্থানীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, একসময় এই খালটি ছিল এলাকার কৃষকদের জন্য আশীর্বাদ। কিন্তু বিগত প্রায় দুই দশক ধরে খালটি খনন না হওয়ায় এটি মরা নালায় পরিণত হয়েছে। স্থানীয় কৃষক নূর ইসলাম ফরাজী জানান, “কিশোর বয়স থেকে এই খালের পানি দিয়েই আমরা বোরো ধান চাষ করে আসছি। কিন্তু এখন আর সেচের জন্য পানি পাওয়া যায় না। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় অনেক জমি ফেলে রাখতে হচ্ছে।” তার মতো শত শত কৃষক একই ধরনের সমস্যার সম্মুখীন। কেউ কেউ সম্পূর্ণ জমি পতিত রাখছেন, আবার কেউ কেউ কম পানি লাগে এমন বিকল্প ফসল, যেমন – গম, ভুট্টা, খেসারি ডাল ও আলু চাষ করে কোনোমতে সংসার চালানোর চেষ্টা করছেন।

স্থানীয় কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ ২০০৫ সালে খালটি খনন করা হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ২০ বছরে প্রয়োজনীয় খনন কাজ না হওয়ায় এবং উপকূলীয় এলাকায় হওয়ায় বর্ষাকালে নদীর পলি জমে খালটি ভরাট হয়ে গেছে। এর ফলে শুধু সেচ ব্যবস্থার অবনতিই হয়নি, বর্ষাকালে অনেক এলাকায় কৃত্রিম বন্যারও সৃষ্টি হচ্ছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন।

খালটির অকার্যকারিতা বোরো ধান ও চাল উৎপাদনে সংকট তৈরি করেছে। এর পাশাপাশি গবাদিপশুর লালন-পালন এবং দুধ উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। দুধ উৎপাদন কমে যাওয়ায় স্থানীয় শিশু-কিশোররা পুষ্টিহীনতায় ভুগছে বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী কৃষকরা দ্রুত খালটি খননের দাবি জানিয়েছেন। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) পরিচালক হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, নতুন অর্থবছরের বাজেটে খালটি খননের জন্য তালিকাভুক্ত করা হবে। অন্যদিকে, বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোরঞ্জন বর্মণ জানিয়েছেন, বিএডিসি-র তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না থাকায় বর্তমান অর্থবছরে সরাসরি কিছু করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে কৃষকদের পক্ষ থেকে একটি দরখাস্ত পেলে সরকারি দপ্তর থেকে খালটি খননের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। কৃষকরা আশা করছেন, দ্রুততম সময়ে খালটি খনন করা হলে তারা আবার তাদের ঐতিহ্যবাহী বোরো ধান চাষে ফিরতে পারবেন এবং এলাকার খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মার্কিন সেনা আটকের ইরানি দাবি ‘মিথ্যাচার’, কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান সেন্টকমের

ভরাট খালে সেচ সংকট, বোরহানউদ্দিনের ৬০০ কৃষক দিশেহারা

আপডেট সময় : ০২:৪৬:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার পক্ষীয়া ইউনিয়নের নয়মীয়ার খালের নাব্যতা সংকট এক দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রায় ৬০০ কৃষকের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে ফেলেছে। মেঘনা নদীর সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় এবং পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়ায় খালের সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন দুই ইউনিয়নের প্রায় ৪০০ হেক্টর জমির বোরো ধান চাষিরা। পানির অভাবে অনেক কৃষক তাদের উপার্জনের প্রধান উৎস ফসলি জমি পরিত্যক্ত রাখতে বাধ্য হচ্ছেন, যা খাদ্য উৎপাদন ও স্থানীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, একসময় এই খালটি ছিল এলাকার কৃষকদের জন্য আশীর্বাদ। কিন্তু বিগত প্রায় দুই দশক ধরে খালটি খনন না হওয়ায় এটি মরা নালায় পরিণত হয়েছে। স্থানীয় কৃষক নূর ইসলাম ফরাজী জানান, “কিশোর বয়স থেকে এই খালের পানি দিয়েই আমরা বোরো ধান চাষ করে আসছি। কিন্তু এখন আর সেচের জন্য পানি পাওয়া যায় না। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় অনেক জমি ফেলে রাখতে হচ্ছে।” তার মতো শত শত কৃষক একই ধরনের সমস্যার সম্মুখীন। কেউ কেউ সম্পূর্ণ জমি পতিত রাখছেন, আবার কেউ কেউ কম পানি লাগে এমন বিকল্প ফসল, যেমন – গম, ভুট্টা, খেসারি ডাল ও আলু চাষ করে কোনোমতে সংসার চালানোর চেষ্টা করছেন।

স্থানীয় কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ ২০০৫ সালে খালটি খনন করা হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ২০ বছরে প্রয়োজনীয় খনন কাজ না হওয়ায় এবং উপকূলীয় এলাকায় হওয়ায় বর্ষাকালে নদীর পলি জমে খালটি ভরাট হয়ে গেছে। এর ফলে শুধু সেচ ব্যবস্থার অবনতিই হয়নি, বর্ষাকালে অনেক এলাকায় কৃত্রিম বন্যারও সৃষ্টি হচ্ছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন।

খালটির অকার্যকারিতা বোরো ধান ও চাল উৎপাদনে সংকট তৈরি করেছে। এর পাশাপাশি গবাদিপশুর লালন-পালন এবং দুধ উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। দুধ উৎপাদন কমে যাওয়ায় স্থানীয় শিশু-কিশোররা পুষ্টিহীনতায় ভুগছে বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী কৃষকরা দ্রুত খালটি খননের দাবি জানিয়েছেন। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) পরিচালক হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, নতুন অর্থবছরের বাজেটে খালটি খননের জন্য তালিকাভুক্ত করা হবে। অন্যদিকে, বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোরঞ্জন বর্মণ জানিয়েছেন, বিএডিসি-র তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না থাকায় বর্তমান অর্থবছরে সরাসরি কিছু করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে কৃষকদের পক্ষ থেকে একটি দরখাস্ত পেলে সরকারি দপ্তর থেকে খালটি খননের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। কৃষকরা আশা করছেন, দ্রুততম সময়ে খালটি খনন করা হলে তারা আবার তাদের ঐতিহ্যবাহী বোরো ধান চাষে ফিরতে পারবেন এবং এলাকার খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত হবে।