ঢাকা ০৬:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬

কিশোরগঞ্জ-২ আসনে পারিবারিক দ্বন্দ্বে সরগরম নির্বাচন, বাবা-ছেলে-ভাইয়ের ভিন্ন মেরুর লড়াই

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনে এক ব্যতিক্রমী রাজনৈতিক পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে। এই আসনে একই পরিবারের তিন সদস্য ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্ব করে ভোটারদের মধ্যে কৌতূহলের সৃষ্টি করেছেন। সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জনের বড় ছেলে শাহরিয়ার জামান বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্যদিকে, আখতারুজ্জামানের ছোট ভাই এবং সাবেক সংসদ সদস্য আনিসুজ্জামান খোকন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। আর মেজর আখতারুজ্জামান নিজেই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করে তারই দলের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মোড়লের জন্য নির্বাচনী প্রচারণায় সক্রিয় রয়েছেন। এই পারিবারিক মেরুকরণ আসনটিকে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত করেছে।

ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এমন ঘটনা বিরল। স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে এই পরিস্থিতি নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। তারা বলছেন, একই পরিবারের তিন সদস্যের তিনটি ভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্ব করা স্থানীয় রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

বিএনপি থেকে দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া আখতারুজ্জামান রঞ্জন সম্প্রতি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে তার এই দলবদল কিশোরগঞ্জ-২ আসনের রাজনীতিতে প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। অন্যদিকে, তার ছোট ভাই আনিসুজ্জামান খোকন একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। স্থানীয় পর্যায়ে তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামাজিক সম্পৃক্ততা তাকে ভোটারদের কাছে পরিচিত মুখ করে তুলেছে। তার স্বতন্ত্র অংশগ্রহণ ভোটের সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া, মেজর আখতারুজ্জামানের ছেলে শাহরিয়ার জামান বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন, যা এই আসনে পারিবারিক লড়াইকে আরও তীব্র করেছে।

ভোটারদের মধ্যে এই পরিস্থিতি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ এটিকে রাজনৈতিক স্বাধীনতার প্রকাশ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ পারিবারিক বিভেদের প্রতিফলন বলেও মন্তব্য করছেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থী আনিসুজ্জামান খোকন জানিয়েছেন, তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে ময়মনসিংহ-১৯ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে চলে গেলেও আমেরিকার নাগরিকত্ব গ্রহণ করেননি। আসন্ন সংসদ নির্বাচনে তিনি কিশোরগঞ্জ-২ এবং ঢাকা-১৭ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি আরও বলেন, তার বড় ভাই আখতারুজ্জামান তার ১২ বছর পর বিএনপিতে যোগ দিয়ে দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং বর্তমানে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন। তিনি নিজে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন এবং প্রকৃত ইতিহাস সম্পর্কে অবগত আছেন।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী শাহরিয়ার জামান জানিয়েছেন, তিনি দল থেকে কিশোরগঞ্জ-২ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন এবং নতুন প্রজন্মকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী। তিনি দলের সিদ্ধান্ত মেনে চলবেন বলে জানান। তার চাচা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতে কোনো সমস্যা দেখছেন না এবং ভোটাররা যার পক্ষে রায় দেবেন, তা মেনে নেবেন।

বিএনপি থেকে জামায়াতে যোগদানকারী আখতারুজ্জামান বলেছেন, গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে যে কেউ নির্বাচন করতে পারে এবং তার ছেলে ও ভাই নির্বাচন করছে এতে কোনো দোষ নেই। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, জামায়াতের সঙ্গে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জোটের কারণে তার ছেলে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে পারে। তবে ভাইয়ের বিষয়ে তিনি কিছু বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন এবং বলেন যে, তিনি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচন করতে পারেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মার্কিন সেনা আটকের ইরানি দাবি ‘মিথ্যাচার’, কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান সেন্টকমের

কিশোরগঞ্জ-২ আসনে পারিবারিক দ্বন্দ্বে সরগরম নির্বাচন, বাবা-ছেলে-ভাইয়ের ভিন্ন মেরুর লড়াই

আপডেট সময় : ০২:৪৫:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনে এক ব্যতিক্রমী রাজনৈতিক পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে। এই আসনে একই পরিবারের তিন সদস্য ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্ব করে ভোটারদের মধ্যে কৌতূহলের সৃষ্টি করেছেন। সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জনের বড় ছেলে শাহরিয়ার জামান বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্যদিকে, আখতারুজ্জামানের ছোট ভাই এবং সাবেক সংসদ সদস্য আনিসুজ্জামান খোকন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। আর মেজর আখতারুজ্জামান নিজেই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করে তারই দলের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মোড়লের জন্য নির্বাচনী প্রচারণায় সক্রিয় রয়েছেন। এই পারিবারিক মেরুকরণ আসনটিকে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত করেছে।

ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এমন ঘটনা বিরল। স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে এই পরিস্থিতি নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। তারা বলছেন, একই পরিবারের তিন সদস্যের তিনটি ভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্ব করা স্থানীয় রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

বিএনপি থেকে দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া আখতারুজ্জামান রঞ্জন সম্প্রতি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে তার এই দলবদল কিশোরগঞ্জ-২ আসনের রাজনীতিতে প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। অন্যদিকে, তার ছোট ভাই আনিসুজ্জামান খোকন একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। স্থানীয় পর্যায়ে তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামাজিক সম্পৃক্ততা তাকে ভোটারদের কাছে পরিচিত মুখ করে তুলেছে। তার স্বতন্ত্র অংশগ্রহণ ভোটের সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া, মেজর আখতারুজ্জামানের ছেলে শাহরিয়ার জামান বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন, যা এই আসনে পারিবারিক লড়াইকে আরও তীব্র করেছে।

ভোটারদের মধ্যে এই পরিস্থিতি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ এটিকে রাজনৈতিক স্বাধীনতার প্রকাশ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ পারিবারিক বিভেদের প্রতিফলন বলেও মন্তব্য করছেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থী আনিসুজ্জামান খোকন জানিয়েছেন, তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে ময়মনসিংহ-১৯ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে চলে গেলেও আমেরিকার নাগরিকত্ব গ্রহণ করেননি। আসন্ন সংসদ নির্বাচনে তিনি কিশোরগঞ্জ-২ এবং ঢাকা-১৭ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি আরও বলেন, তার বড় ভাই আখতারুজ্জামান তার ১২ বছর পর বিএনপিতে যোগ দিয়ে দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং বর্তমানে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন। তিনি নিজে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন এবং প্রকৃত ইতিহাস সম্পর্কে অবগত আছেন।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী শাহরিয়ার জামান জানিয়েছেন, তিনি দল থেকে কিশোরগঞ্জ-২ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন এবং নতুন প্রজন্মকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী। তিনি দলের সিদ্ধান্ত মেনে চলবেন বলে জানান। তার চাচা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতে কোনো সমস্যা দেখছেন না এবং ভোটাররা যার পক্ষে রায় দেবেন, তা মেনে নেবেন।

বিএনপি থেকে জামায়াতে যোগদানকারী আখতারুজ্জামান বলেছেন, গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে যে কেউ নির্বাচন করতে পারে এবং তার ছেলে ও ভাই নির্বাচন করছে এতে কোনো দোষ নেই। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, জামায়াতের সঙ্গে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জোটের কারণে তার ছেলে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে পারে। তবে ভাইয়ের বিষয়ে তিনি কিছু বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন এবং বলেন যে, তিনি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচন করতে পারেন।