ঢাকা ০৫:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬

গোবরের লাকড়ি এখন আয়ের উৎস

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৫৯:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

জ্বালানি কাঠের দাম বাড়ায়, সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় গোবরের লাকড়ির চাহিদা এখন ব্যাপক হারে বেড়ে গেছে। গ্রামাঞ্চলের চায়ের দোকান থেকে শুরু করে রান্নাবান্নার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে এসব লাকড়ি। সেই সঙ্গে গোবরের লাকড়ি বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন অনেক অসহায় পরিবার। অনেকের আয়ের উৎস এখন গোবরের লাকড়ি তৈরি। উপজেলার সবত্রই কাঁচা-পাকা রাস্তার ধারে এখন শোভা পাচ্ছে এসব লাকড়ি শুকানোর দৃশ্য। কমবেশি সারা বছর এ ধারা অব্যাহত থাকলেও বিশেষ করে শীতকালে লাকড়ি তৈরির চাহিদা অনেক বেশি।

বিজ্ঞাপন

উপজেলার ১৫ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার আনাচে-কানাছে এবং গ্রামগঞ্জের রাস্তাগুলোতে গোবরের লাকড়ি তৈরি এবং শুকানোর দৃশ্য যেন চোখে পড়ার মতো। বিভিন্ন অসহায় পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গোচারণ ভূমিতে এখন আর গরু চড়ান না গরু মালিক ও খামারিরা। গ্রামের হাতেগোনা কিছু গরু মালিক রাস্তার ধারে গরু চড়ান। সেই গরুর গোরব সঙ্গে সঙ্গে আবাদি জমিতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দেন তারা। এখন বেশির ভাগ গরু গোয়ালঘরে লালনপালন করেন মালিকরা। সে কারণে অনেক অসহায় পরিবারের নারী ও পুরুষ শ্রমিকরা শ্রমের বিনিময়ে গোবর নিয়ে আসে বা সামান্য টাকা দিয়ে গোবর কিনে এনে লাকড়ি তৈরি করে তা বিক্রি করছেন এবং সেই সঙ্গে নিজে রান্নাবান্নার কাজে ব্যবহার করছেন।

দহবন্দ ইউনিয়নের দত্তপাড়া গ্রামের শুকলাল বালা বলেন, তিনি একজন গরু মালিকের বাড়ি থেকে শ্রমের বিনিময় গোবর নিয়ে এসে লাকড়ি তৈরি করে বাজারে বা চায়ের দোকানে বিক্রি করে সংসার চালান। সেই সঙ্গে নিজে রান্নার কাজে ব্যবহার করেন। তিনি আরো বলেন, পাটকাঠি, ভুট্টা ও বাঁশের কঞ্চির মধ্যে গোবরের আস্তর দিয়ে লাকড়ি তৈরি করা হয়। অনেকে কাঠের গুঁড়া মিশ্রিত করে লাকড়ি তৈরি করেন। প্রতিটি লাকড়ি তৈরি করতে প্রায় দুই টাকা খরচ হয়। বাজারে বা চায়ের দোকানে প্রতিটি লাঠি বিক্রি হয় চার হতে পাঁচ টাকায়।

কাপাসিয়া চরের রাশেদা খাতুন বলেন, তিনি তার নিজস্ব গরুর গোবর দিয়ে লাকড়ি তৈরি করেন। তাকে শুধু পাটকাঠি কিনে আনতে হয়। শীতকালে লাকড়ি শুকাতে অনেক সময় লাগে। তিনি বাজারে বিক্রি করেন না, বর্ষাকালে রান্নাবান্না করার জন্য খড়ি ঘরে মজুত করে রাখেন। এতে অনেক পরিশ্রম করতে হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দুবাইয়ে প্রতিরক্ষা মিসাইলের আঘাতে মৃত্যু, আন্তর্জাতিক উদ্বেগ

গোবরের লাকড়ি এখন আয়ের উৎস

আপডেট সময় : ১১:৫৯:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

জ্বালানি কাঠের দাম বাড়ায়, সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় গোবরের লাকড়ির চাহিদা এখন ব্যাপক হারে বেড়ে গেছে। গ্রামাঞ্চলের চায়ের দোকান থেকে শুরু করে রান্নাবান্নার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে এসব লাকড়ি। সেই সঙ্গে গোবরের লাকড়ি বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন অনেক অসহায় পরিবার। অনেকের আয়ের উৎস এখন গোবরের লাকড়ি তৈরি। উপজেলার সবত্রই কাঁচা-পাকা রাস্তার ধারে এখন শোভা পাচ্ছে এসব লাকড়ি শুকানোর দৃশ্য। কমবেশি সারা বছর এ ধারা অব্যাহত থাকলেও বিশেষ করে শীতকালে লাকড়ি তৈরির চাহিদা অনেক বেশি।

বিজ্ঞাপন

উপজেলার ১৫ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার আনাচে-কানাছে এবং গ্রামগঞ্জের রাস্তাগুলোতে গোবরের লাকড়ি তৈরি এবং শুকানোর দৃশ্য যেন চোখে পড়ার মতো। বিভিন্ন অসহায় পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গোচারণ ভূমিতে এখন আর গরু চড়ান না গরু মালিক ও খামারিরা। গ্রামের হাতেগোনা কিছু গরু মালিক রাস্তার ধারে গরু চড়ান। সেই গরুর গোরব সঙ্গে সঙ্গে আবাদি জমিতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দেন তারা। এখন বেশির ভাগ গরু গোয়ালঘরে লালনপালন করেন মালিকরা। সে কারণে অনেক অসহায় পরিবারের নারী ও পুরুষ শ্রমিকরা শ্রমের বিনিময়ে গোবর নিয়ে আসে বা সামান্য টাকা দিয়ে গোবর কিনে এনে লাকড়ি তৈরি করে তা বিক্রি করছেন এবং সেই সঙ্গে নিজে রান্নাবান্নার কাজে ব্যবহার করছেন।

দহবন্দ ইউনিয়নের দত্তপাড়া গ্রামের শুকলাল বালা বলেন, তিনি একজন গরু মালিকের বাড়ি থেকে শ্রমের বিনিময় গোবর নিয়ে এসে লাকড়ি তৈরি করে বাজারে বা চায়ের দোকানে বিক্রি করে সংসার চালান। সেই সঙ্গে নিজে রান্নার কাজে ব্যবহার করেন। তিনি আরো বলেন, পাটকাঠি, ভুট্টা ও বাঁশের কঞ্চির মধ্যে গোবরের আস্তর দিয়ে লাকড়ি তৈরি করা হয়। অনেকে কাঠের গুঁড়া মিশ্রিত করে লাকড়ি তৈরি করেন। প্রতিটি লাকড়ি তৈরি করতে প্রায় দুই টাকা খরচ হয়। বাজারে বা চায়ের দোকানে প্রতিটি লাঠি বিক্রি হয় চার হতে পাঁচ টাকায়।

কাপাসিয়া চরের রাশেদা খাতুন বলেন, তিনি তার নিজস্ব গরুর গোবর দিয়ে লাকড়ি তৈরি করেন। তাকে শুধু পাটকাঠি কিনে আনতে হয়। শীতকালে লাকড়ি শুকাতে অনেক সময় লাগে। তিনি বাজারে বিক্রি করেন না, বর্ষাকালে রান্নাবান্না করার জন্য খড়ি ঘরে মজুত করে রাখেন। এতে অনেক পরিশ্রম করতে হয়।