আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সুনামগঞ্জ-১ (ধর্মপাশা, মধ্যনগর, তাহিরপুর ও জামালগঞ্জ) আসনে দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিভেদ মিটিয়ে নির্বাচনী ঐক্যে পৌঁছেছে বিএনপি। দলের চূড়ান্ত মনোনীত প্রার্থী কামরুজ্জামান কামরুলের পক্ষে একাত্মতা ঘোষণা করেছেন অপর শক্তিশালী মনোনয়নপ্রত্যাশী আনিসুল হকসহ অন্যান্য নেতারা। দুই শীর্ষ নেতার এই ঐক্যের ফলে নির্বাচনী এলাকায় দলটির নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য ও স্বস্তি ফিরে এসেছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জ-১ আসনে ধানের শীষের মনোনয়ন পেতে একধিক নেতা তৎপর ছিলেন। এদের মধ্যে ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আব্দুল মোতালিব খান, সালমা নজির, আনিসুল হক, কামরুজ্জামান কামরুল, ব্যারিস্টার হামিদুল হক আফিন্দি লিটন, মাহবুবুর রহমান সরকার এবং নিজাম উদ্দিন। প্রাথমিক পর্যায়ে গত ৩ নভেম্বর আনিসুল হককে দলের পক্ষ থেকে সবুজ সংকেত দেওয়া হলেও পরবর্তীতে কামরুজ্জামান কামরুলের সমর্থক ও নেতা-কর্মীদের ব্যাপক দাবির মুখে গত ২৭ ডিসেম্বর তাকে চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
মনোনয়ন নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে এই আসনে কামরুজ্জামান কামরুল ও আনিসুল হকের সমর্থকদের মধ্যে পৃথক বলয় ও টানাপোড়েন বিদ্যমান ছিল। বিশেষ করে কামরুলকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়ার পর অন্য পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে কিছুটা হতাশা দেখা দিয়েছিল। তবে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে গতকাল শনিবার আনিসুল হকের ধুতমা গ্রামের বাড়িতে এক বিশেষ সভার আয়োজন করা হয়। সেখানে একই মঞ্চে উপস্থিত হয়ে দুই নেতা ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার অঙ্গীকার করেন।
এ সময় হাজারো নেতা-কর্মীর উপস্থিতিতে আনিসুল হক বলেন, “দলের বৃহত্তর স্বার্থে আমরা সব বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। কামরুজ্জামান কামরুলকে দল মনোনয়ন দিয়েছে, আমরা সবাই মিলে ধানের শীষের জয় নিশ্চিত করব।” অন্যদিকে কামরুজ্জামান কামরুল তার বক্তব্যে বলেন, “দলে একাধিক যোগ্য প্রার্থী থাকা স্বাভাবিক। তবে এখন আমাদের লক্ষ্য একটাই—বিজয়। আমি সবাইকে নিয়ে একসাথেই নির্বাচনী লড়াইয়ে নামব এবং ভবিষ্যতেও সবাইকে সাথে নিয়ে চলব।”
স্থানীয় বিএনপি নেতাদের মতে, নির্বাচনের এই ক্রান্তিলগ্নে দুই নেতার এক হওয়া দলের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক। জামালগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুম মাহমুদ তালুকদার এবং তাহিরপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী হাসান উজ্জ্বল জানান, এই ঐক্যের ফলে তৃণমূলের কর্মীরা দারুণভাবে উজ্জীবিত। তারা মনে করেন, সুনামগঞ্জ-১ আসনে ধানের শীষের জয় পেতে এই সংহতি অপরিহার্য ছিল।
মধ্যনগর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবে হায়াত বলেন, কামরুল ও আনিসুল হক—উভয়ই দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা। তারা একসঙ্গে মাঠে নামলে দল আরও সুসংগঠিত হবে এবং নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া সহজ হবে। মূলত এই দুই নেতার হাত মেলানোর মধ্য দিয়ে সুনামগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির নির্বাচনী সমীকরণ অনেকখানি মজবুত হলো বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
রিপোর্টারের নাম 



















