ঢাকা ০৪:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬

কাপাসিয়ায় যুবলীগ নেতার আস্তানা থেকে বিপুল ঘোড়ার মাংস ও ১১ জীবন্ত ঘোড়া উদ্ধার; জনরোষে গাড়ি ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় এক যুবলীগ নেতার বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ জবাই করা ঘোড়ার মাংস এবং ১১টি জীবন্ত ঘোড়া উদ্ধার করেছে প্রশাসন। অবৈধভাবে ঘোড়ার মাংসের ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগে স্থানীয়দের বিক্ষোভ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের পর শুক্রবার রাতে অভিযান চালিয়ে এসব জব্দ করা হয়। অভিযুক্ত ওই যুবলীগ নেতার নাম জাহাঙ্গীর আলম, যিনি উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।

উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের মাসক গ্রামের মৃত আলাউদ্দিনের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ করে আসছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, নির্জন এলাকায় গরুর খামারের আড়ালে তিনি ঘোড়ার মাংসের এই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত ১০টার দিকে জাহাঙ্গীর আলমের বাড়িতে সন্দেহজনকভাবে লোকজনের আনাগোনা বেড়ে যায়। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তারা একত্রিত হয়ে ঘটনাস্থলে যান। এ সময় ঘোড়া জবাইয়ের কাজে জড়িত ব্যক্তিরা স্থানীয়দের উপস্থিতি টের পেয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিক্ষুব্ধ জনতা একটি পিকআপ ভ্যান (ঢাকা মেট্রো-ন-১১-৩৬৬৫) ভাঙচুর করে এবং আরেকটি কভার্ড ভ্যান (ঢাকা মেট্রো-ন-১৭-১৭৬৫)-এ আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এলাকাবাসী আরও জানান, জাহাঙ্গীর আলম পূর্ববর্তী সময়ে বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সরকার পরিবর্তনের পর তিনি কিছুদিন আত্মগোপনে থাকলেও স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি পুনরায় এলাকায় ফিরে আসেন।

গাজীপুরের সহকারী কমিশনার (স্থানীয় সরকার শাখা ও ট্রেজারি) এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আচরণবিধির দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ ফয়সাল জানান, অভিযানের সময় মাটি চাপা দেওয়া অবস্থায় আটটি জবাই করা ঘোড়ার মাংস উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া, জীবিত ১১টি ঘোড়া দুর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের জিম্মায় রাখা হয়েছে। জব্দ করা পিকআপ ও কভার্ড ভ্যান দুটি পুলিশের হেফাজতে দেওয়া হয়েছে।

অভিযানের সময় উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. একেএম আতিকুর রহমান, ভেটেরিনারি সার্জন ডা. আবদুল্লাহ আল মামুন, দুর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ ওহাব খান খোকা এবং কাপাসিয়া থানার উপ-পরিদর্শক জিহাদুল হকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভেড়ামারায় বিএনপি কার্যালয়ে হামলা: গুলিবিদ্ধ এক চা বিক্রেতা, এলাকায় উত্তেজনা

কাপাসিয়ায় যুবলীগ নেতার আস্তানা থেকে বিপুল ঘোড়ার মাংস ও ১১ জীবন্ত ঘোড়া উদ্ধার; জনরোষে গাড়ি ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ

আপডেট সময় : ১১:২২:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় এক যুবলীগ নেতার বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ জবাই করা ঘোড়ার মাংস এবং ১১টি জীবন্ত ঘোড়া উদ্ধার করেছে প্রশাসন। অবৈধভাবে ঘোড়ার মাংসের ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগে স্থানীয়দের বিক্ষোভ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের পর শুক্রবার রাতে অভিযান চালিয়ে এসব জব্দ করা হয়। অভিযুক্ত ওই যুবলীগ নেতার নাম জাহাঙ্গীর আলম, যিনি উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।

উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের মাসক গ্রামের মৃত আলাউদ্দিনের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ করে আসছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, নির্জন এলাকায় গরুর খামারের আড়ালে তিনি ঘোড়ার মাংসের এই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত ১০টার দিকে জাহাঙ্গীর আলমের বাড়িতে সন্দেহজনকভাবে লোকজনের আনাগোনা বেড়ে যায়। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তারা একত্রিত হয়ে ঘটনাস্থলে যান। এ সময় ঘোড়া জবাইয়ের কাজে জড়িত ব্যক্তিরা স্থানীয়দের উপস্থিতি টের পেয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিক্ষুব্ধ জনতা একটি পিকআপ ভ্যান (ঢাকা মেট্রো-ন-১১-৩৬৬৫) ভাঙচুর করে এবং আরেকটি কভার্ড ভ্যান (ঢাকা মেট্রো-ন-১৭-১৭৬৫)-এ আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এলাকাবাসী আরও জানান, জাহাঙ্গীর আলম পূর্ববর্তী সময়ে বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সরকার পরিবর্তনের পর তিনি কিছুদিন আত্মগোপনে থাকলেও স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি পুনরায় এলাকায় ফিরে আসেন।

গাজীপুরের সহকারী কমিশনার (স্থানীয় সরকার শাখা ও ট্রেজারি) এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আচরণবিধির দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ ফয়সাল জানান, অভিযানের সময় মাটি চাপা দেওয়া অবস্থায় আটটি জবাই করা ঘোড়ার মাংস উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া, জীবিত ১১টি ঘোড়া দুর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের জিম্মায় রাখা হয়েছে। জব্দ করা পিকআপ ও কভার্ড ভ্যান দুটি পুলিশের হেফাজতে দেওয়া হয়েছে।

অভিযানের সময় উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. একেএম আতিকুর রহমান, ভেটেরিনারি সার্জন ডা. আবদুল্লাহ আল মামুন, দুর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ ওহাব খান খোকা এবং কাপাসিয়া থানার উপ-পরিদর্শক জিহাদুল হকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।