ঢাকা ০৩:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬

অনুমতি ছাড়াই দেশ ছাড়লেন রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৯ ভারতীয় কর্মকর্তা

বাগেরহাটের রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের (বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড-বিআইএফপিসিএল) গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত ৯ জন ভারতীয় কর্মকর্তা কর্তৃপক্ষের কোনো ধরনের পূর্বানুমতি ছাড়াই গোপনে দেশ ত্যাগ করেছেন। গত শনিবার (২৪ জানুয়ারি) ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে তারা ভারতে প্রবেশ করেন। অত্যন্ত স্পর্শকাতর এই বিদ্যুৎ প্রকল্পের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের এভাবে হঠাৎ চলে যাওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে প্ল্যান্ট কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শনিবার সকালে নিয়মিত প্রাতঃরাশের টেবিলে ওই কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতি দেখে কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হয়। এরপর খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তারা কাউকে কিছু না জানিয়েই কর্মস্থল থেকে বের হয়ে গেছেন। দুপুরের দিকে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, তারা সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে নিজ দেশে ফিরে গেছেন। পরবর্তীকালে প্রকল্প পরিচালক রামানাথ পুজারী সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা বাংলাদেশে ‘নিরাপত্তাহীনতার’ অজুহাত দেখিয়ে দেশ ছাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তবে বিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের এই অজুহাত একেবারেই ভিত্তিহীন। রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র এলাকায় সেনাবাহিনী, পুলিশ ও আনসারসহ চার স্তরের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিদ্যমান। এমন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে কর্মরত থাকাকালীন তারা কখনোই কোনো ধরনের শঙ্কা বা উদ্বেগের কথা কর্তৃপক্ষকে জানাননি। ফলে কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই তাদের এভাবে প্রস্থানকে রহস্যজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দেশ ত্যাগ করা কর্মকর্তারা সবাই ভারতের ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার কর্পোরেশন (এনটিপিসি) থেকে ডেপুটেশনে মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্লান্টে কর্মরত ছিলেন। তারা হলেন— জিএম সুজিত প্রতিম বর্মন, জিএম বিশ্বজিৎ মন্ডল, জিএম এন-সুরায়া প্রকাশ রায়, এজিএম কেশব পলাকী, ডিজেএম সূর্য কান্ত মন্দেকার, ডিজেএম সুরেন্দ্র লম্বা, এজিএম পাপ্পু লাল মিনা, ডিজেএম অনির্বাণ সাহা এবং সিএফও ইমানুয়েল পনরাজ দেবরাজ।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উপ-মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) আনোয়ারুল আজিম জানান, সকালে ডাইনিংয়ে তাদের না পেয়ে অনুসন্ধানে জানা যায় যে তারা অনুমতি ছাড়াই ভারতে চলে গেছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। কী কারণে এবং কেন তারা এমন আকস্মিক সিদ্ধান্ত নিলেন, তা গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উচ্চপর্যায়ের এই কর্মকর্তাদের এমন আচরণে প্রকল্পের প্রশাসনিক ও তদারকি কার্যক্রমে সাময়িক অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভেড়ামারায় বিএনপি কার্যালয়ে হামলা: গুলিবিদ্ধ এক চা বিক্রেতা, এলাকায় উত্তেজনা

অনুমতি ছাড়াই দেশ ছাড়লেন রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৯ ভারতীয় কর্মকর্তা

আপডেট সময় : ১০:৩৯:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

বাগেরহাটের রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের (বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড-বিআইএফপিসিএল) গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত ৯ জন ভারতীয় কর্মকর্তা কর্তৃপক্ষের কোনো ধরনের পূর্বানুমতি ছাড়াই গোপনে দেশ ত্যাগ করেছেন। গত শনিবার (২৪ জানুয়ারি) ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে তারা ভারতে প্রবেশ করেন। অত্যন্ত স্পর্শকাতর এই বিদ্যুৎ প্রকল্পের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের এভাবে হঠাৎ চলে যাওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে প্ল্যান্ট কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শনিবার সকালে নিয়মিত প্রাতঃরাশের টেবিলে ওই কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতি দেখে কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হয়। এরপর খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তারা কাউকে কিছু না জানিয়েই কর্মস্থল থেকে বের হয়ে গেছেন। দুপুরের দিকে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, তারা সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে নিজ দেশে ফিরে গেছেন। পরবর্তীকালে প্রকল্প পরিচালক রামানাথ পুজারী সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা বাংলাদেশে ‘নিরাপত্তাহীনতার’ অজুহাত দেখিয়ে দেশ ছাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তবে বিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের এই অজুহাত একেবারেই ভিত্তিহীন। রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র এলাকায় সেনাবাহিনী, পুলিশ ও আনসারসহ চার স্তরের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিদ্যমান। এমন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে কর্মরত থাকাকালীন তারা কখনোই কোনো ধরনের শঙ্কা বা উদ্বেগের কথা কর্তৃপক্ষকে জানাননি। ফলে কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই তাদের এভাবে প্রস্থানকে রহস্যজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দেশ ত্যাগ করা কর্মকর্তারা সবাই ভারতের ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার কর্পোরেশন (এনটিপিসি) থেকে ডেপুটেশনে মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্লান্টে কর্মরত ছিলেন। তারা হলেন— জিএম সুজিত প্রতিম বর্মন, জিএম বিশ্বজিৎ মন্ডল, জিএম এন-সুরায়া প্রকাশ রায়, এজিএম কেশব পলাকী, ডিজেএম সূর্য কান্ত মন্দেকার, ডিজেএম সুরেন্দ্র লম্বা, এজিএম পাপ্পু লাল মিনা, ডিজেএম অনির্বাণ সাহা এবং সিএফও ইমানুয়েল পনরাজ দেবরাজ।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উপ-মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) আনোয়ারুল আজিম জানান, সকালে ডাইনিংয়ে তাদের না পেয়ে অনুসন্ধানে জানা যায় যে তারা অনুমতি ছাড়াই ভারতে চলে গেছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। কী কারণে এবং কেন তারা এমন আকস্মিক সিদ্ধান্ত নিলেন, তা গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উচ্চপর্যায়ের এই কর্মকর্তাদের এমন আচরণে প্রকল্পের প্রশাসনিক ও তদারকি কার্যক্রমে সাময়িক অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।