বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান আগামী রোববার ফেনী আসছেন। ফেনী পাইলট স্কুল মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত এক জনসভায় তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন। এই জনসভায় তিনি ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় আওয়ামী লীগের হামলা ও গুলিতে নিহত আট শহীদের পরিবারের সদস্য এবং আহতদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এই সাক্ষাৎকালে শহীদ পরিবার ও আহতরা দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানাবেন বলে জানা গেছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের পরিবার ও জুলাই আন্দোলনের আহত যোদ্ধাদের সভাস্থলে আনা, নির্দিষ্ট আসনে বসানো, আপ্যায়ন এবং নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিএনপির পক্ষ থেকে একটি পৃথক দল কাজ করছে। ইতোমধ্যে শহীদ পরিবার ও আহতদের কাছে আমন্ত্রণপত্র ও সভাস্থলে প্রবেশের অনুমতিপত্র পাঠানো হয়েছে।
শহীদ ওয়াকিল আহমেদ শিহাবের মা মাহফুজা আক্তার জানিয়েছেন, তিনি তারেক রহমানের কাছে সন্তানসহ জুলাই বিপ্লবে শহীদদের হত্যাকারীদের দ্রুত বিচারের দাবি জানাবেন। একই সাথে, মামলার আসামীদের যেন অভিযোগপত্র (চার্জশিট) থেকে বাদ দেওয়া না হয়, সে বিষয়েও তিনি বার্তা দেবেন।
শহীদ ইশতিয়াক আহমেদ শ্রাবণের পিতা নেছার আহমেদ জানান, বিএনপি’র পক্ষ থেকে তারেক রহমানের সাথে সাক্ষাতের জন্য আমন্ত্রণ পেয়েছেন তিনি। জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতা হত্যার সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতে বিএনপি ক্ষমতায় এলে কী ভূমিকা নেবে, সে বিষয়টি তিনি জানতে চাইবেন।
শহীদ জাকির হোসেনের মা কহিনুর বেগম বলেন, বিএনপি ও তারেক রহমানের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যেই তার পরিবারকে নানাভাবে সহযোগিতা করা হয়েছে। এখন তিনি ছেলে হত্যার বিচার দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন এবং তারেক রহমানের কাছে সেই দাবিই জানাবেন।
দাগনভূঞার যুবদল নেতা নাছির উদ্দিন, যিনি এখনো বুলেটের আঘাত নিয়ে বেঁচে আছেন, বলেন যে তার মূল চাওয়া ন্যায়বিচার। তিনি প্রত্যাশা করেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে জুলাই আন্দোলনে হতাহতদের পরিবারকে যথাযথ মর্যাদা দেবে।
দাগনভূঞা উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা জামশেদ রহমান নামের আরেক আহত যোদ্ধা একই বক্তব্য দেন। তার শরীরে এখনো কয়েকটি বুলেট রয়ে গেছে এবং তিনি সঠিক বিচার দেখার অপেক্ষায় বেঁচে আছেন।
জুলাই অভ্যুত্থানের ঘটনায় আট হত্যাকাণ্ডসহ মোট ২২টি মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী মেজবাহ উদ্দিন ভূঁঞা জানান, সকল বাদীরই একটি অভিন্ন দাবি হলো সঠিক বিচার নিশ্চিত করা। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিভিন্ন সময়ে মামলা থেকে আসামীদের বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র হলেও বাদী ও প্রশাসনের সচেতনতার কারণে তা সফল হয়নি।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ফেনীর মহিপাল এলাকায় আওয়ামী লীগের হামলা ও গুলিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আটজন কর্মী নিহত হন। এই ঘটনায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী, পথচারী ও সাংবাদিকসহ শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছিলেন।
রিপোর্টারের নাম 



















