ঢাকা ০৬:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

নির্বাচনী সমীকরণে বিএনপির সম্ভাবনা: আলোচনায় আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ভোট

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৮:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ভোটে বিজয়ী হতে পারে— এমন একটি পর্যবেক্ষণ উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিষয়ক এক বিশ্লেষণে। সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক ম্যাগাজিনে প্রকাশিত নিবন্ধে দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সম্পাদক সুধা রামচন্দ্রন এই সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন।

নিবন্ধে বলা হয়েছে, সংসদের ৩০০টি আসন নিয়ে অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনে শুরু থেকেই বিএনপি সুবিধাজনক অবস্থানে ছিল। কয়েক দশক ধরে দলটির সমর্থনভিত্তি ৩০ থেকে ৪০ শতাংশের মধ্যেই ঘোরাফেরা করেছে। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিভিন্ন দমন-পীড়নের কারণে বিএনপি দুর্বল, হতাশ ও বিশৃঙ্খল হয়ে পড়েছিল। দলটির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দীর্ঘ সময় ধরে কারাগারে বন্দি ও অসুস্থ থাকায়, এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যুক্তরাজ্যে স্বেচ্ছানির্বাসনে থাকায় মাঠের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি হয়, যা দলকে আরও দুর্বল করে তোলে। তবে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যগত অবস্থা ও দীর্ঘ কারাবাস দলটির প্রতি সাধারণ মানুষের সহানুভূতি বাড়াতে পারে, যা আসন্ন নির্বাচনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে বিএনপির জন্য ক্ষমতায় আসার পথ সহজ হবে না, কারণ জামায়াতে ইসলামীও ধীরে ধীরে নিজেদের শক্তি বাড়াচ্ছে। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশ না নিলেও দলটির অনেক নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। কয়েক দশক ধরে আওয়ামী লীগের সমর্থন ভিত্তিও ৩০ থেকে ৪০ শতাংশের মধ্যে ছিল। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে এতে কিছুটা পরিবর্তন দেখা যেতে পারে, তবুও এই বিশাল ভোটব্যাংক নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, বিশেষ করে যদি প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হয়।

এছাড়া, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮ থেকে ১০ শতাংশ জুড়ে রয়েছে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। অতীতে তারা মূলত আওয়ামী লীগকে সমর্থন করলেও, এবার বিএনপি ও জামায়াত উভয় দলই তাদের ভোটব্যাংকের দিকে নজর দিয়েছে। সংখ্যালঘু ভোটারদের অনেকে জানিয়েছেন, উভয় দলের পক্ষ থেকেই তারা ‘ভয়ভীতি ও চাপের’ সম্মুখীন হচ্ছেন। নেতৃত্ব পর্যায়ে বিএনপি ও জামায়াত— দুই দলই আওয়ামী লীগ সমর্থকদের আকৃষ্ট করতে নিজেদের ভাবমূর্তি পরিবর্তনের চেষ্টা করছে।

আওয়ামী লীগ সমর্থক ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা বিএনপি নাকি জামায়াতকে ভোট দেবেন, তা নির্ভর করবে তারা অতীত ভুলে যেতে রাজি কিনা তার ওপর। জামায়াত এখন দাবি করছে যে, তারা সংখ্যালঘু বা নারী-বিরোধী নয়। বিএনপির ক্ষেত্রে তারেক রহমান এখন অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মধ্যপন্থী রাজনীতির কথা বললেও, অতীতে তার উদ্যোগেই বিএনপির জামায়াতের সঙ্গে জোট হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। সে সময় খালেদা জিয়া ও মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া অন্যান্য জ্যেষ্ঠ বিএনপি নেতারা নাকি এই জোট নিয়ে ‘অস্বস্তিতে’ ছিলেন। এছাড়া, বিএনপি এবার মাত্র দুজন হিন্দু প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে। আওয়ামী লীগ সমর্থকরা এটাও বিবেচনা করবেন যে, ভবিষ্যতের জন্য বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে কে তুলনামূলক ভালো বিকল্প। বিএনপির ‘নতুন ভিশন’ তাদের কিছুটা এগিয়ে রাখছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের সঙ্গে কয়েক দশকের বৈরিতা কি তারা ভুলতে পারবেন— এই প্রশ্নটিও রয়ে যাচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশ্বাসের পরও দেশে মবের ঘটনা অব্যাহত: সংসদে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা

নির্বাচনী সমীকরণে বিএনপির সম্ভাবনা: আলোচনায় আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ভোট

আপডেট সময় : ০৭:৩৮:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ভোটে বিজয়ী হতে পারে— এমন একটি পর্যবেক্ষণ উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিষয়ক এক বিশ্লেষণে। সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক ম্যাগাজিনে প্রকাশিত নিবন্ধে দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সম্পাদক সুধা রামচন্দ্রন এই সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন।

নিবন্ধে বলা হয়েছে, সংসদের ৩০০টি আসন নিয়ে অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনে শুরু থেকেই বিএনপি সুবিধাজনক অবস্থানে ছিল। কয়েক দশক ধরে দলটির সমর্থনভিত্তি ৩০ থেকে ৪০ শতাংশের মধ্যেই ঘোরাফেরা করেছে। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিভিন্ন দমন-পীড়নের কারণে বিএনপি দুর্বল, হতাশ ও বিশৃঙ্খল হয়ে পড়েছিল। দলটির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দীর্ঘ সময় ধরে কারাগারে বন্দি ও অসুস্থ থাকায়, এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যুক্তরাজ্যে স্বেচ্ছানির্বাসনে থাকায় মাঠের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি হয়, যা দলকে আরও দুর্বল করে তোলে। তবে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যগত অবস্থা ও দীর্ঘ কারাবাস দলটির প্রতি সাধারণ মানুষের সহানুভূতি বাড়াতে পারে, যা আসন্ন নির্বাচনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে বিএনপির জন্য ক্ষমতায় আসার পথ সহজ হবে না, কারণ জামায়াতে ইসলামীও ধীরে ধীরে নিজেদের শক্তি বাড়াচ্ছে। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশ না নিলেও দলটির অনেক নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। কয়েক দশক ধরে আওয়ামী লীগের সমর্থন ভিত্তিও ৩০ থেকে ৪০ শতাংশের মধ্যে ছিল। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে এতে কিছুটা পরিবর্তন দেখা যেতে পারে, তবুও এই বিশাল ভোটব্যাংক নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, বিশেষ করে যদি প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হয়।

এছাড়া, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮ থেকে ১০ শতাংশ জুড়ে রয়েছে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। অতীতে তারা মূলত আওয়ামী লীগকে সমর্থন করলেও, এবার বিএনপি ও জামায়াত উভয় দলই তাদের ভোটব্যাংকের দিকে নজর দিয়েছে। সংখ্যালঘু ভোটারদের অনেকে জানিয়েছেন, উভয় দলের পক্ষ থেকেই তারা ‘ভয়ভীতি ও চাপের’ সম্মুখীন হচ্ছেন। নেতৃত্ব পর্যায়ে বিএনপি ও জামায়াত— দুই দলই আওয়ামী লীগ সমর্থকদের আকৃষ্ট করতে নিজেদের ভাবমূর্তি পরিবর্তনের চেষ্টা করছে।

আওয়ামী লীগ সমর্থক ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা বিএনপি নাকি জামায়াতকে ভোট দেবেন, তা নির্ভর করবে তারা অতীত ভুলে যেতে রাজি কিনা তার ওপর। জামায়াত এখন দাবি করছে যে, তারা সংখ্যালঘু বা নারী-বিরোধী নয়। বিএনপির ক্ষেত্রে তারেক রহমান এখন অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মধ্যপন্থী রাজনীতির কথা বললেও, অতীতে তার উদ্যোগেই বিএনপির জামায়াতের সঙ্গে জোট হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। সে সময় খালেদা জিয়া ও মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া অন্যান্য জ্যেষ্ঠ বিএনপি নেতারা নাকি এই জোট নিয়ে ‘অস্বস্তিতে’ ছিলেন। এছাড়া, বিএনপি এবার মাত্র দুজন হিন্দু প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে। আওয়ামী লীগ সমর্থকরা এটাও বিবেচনা করবেন যে, ভবিষ্যতের জন্য বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে কে তুলনামূলক ভালো বিকল্প। বিএনপির ‘নতুন ভিশন’ তাদের কিছুটা এগিয়ে রাখছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের সঙ্গে কয়েক দশকের বৈরিতা কি তারা ভুলতে পারবেন— এই প্রশ্নটিও রয়ে যাচ্ছে।