একটি আন্তর্জাতিক ম্যাগাজিনের সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি যদি আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ভোট টানতে পারে, তাহলে তাদের জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত ওই নিবন্ধে সংসদের ৩০০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়টি উল্লেখ করে দলটির উত্থান-পতনের নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে।
নিবন্ধ অনুযায়ী, ঐতিহাসিকভাবে বিএনপির সমর্থন ভিত্তি ৩০ থেকে ৪০ শতাংশের মধ্যে থাকলেও, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দমন-পীড়ন, দলীয় কোন্দল ও হতাশার কারণে দলটি দুর্বল হয়ে পড়েছিল। তৎকালীন চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে অসুস্থ ছিলেন এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যুক্তরাজ্যে স্বেচ্ছা নির্বাসনে থাকায় মাঠের কর্মীদের থেকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন ছিলেন।
তবে নিবন্ধে এক কাল্পনিক পরিস্থিতিতে বলা হয়েছে, তারেক রহমান দেশে ফিরলে তার মা খালেদা জিয়ার সম্ভাব্য মৃত্যু তারেক রহমান ও বিএনপির প্রতি জনমনে সহানুভূতির ঢেউ তৈরি করতে পারে, যা আসন্ন নির্বাচনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তবে জামায়াতে ইসলামীর শক্তি বৃদ্ধিও বিএনপির ক্ষমতার পথে একটি বড় বাধা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ দলগতভাবে নির্বাচনে অংশ না নিলেও দলটির বেশ কিছু নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। কয়েক দশক ধরে আওয়ামী লীগের সমর্থন ভিত্তিও ৩০ থেকে ৪০ শতাংশের মধ্যে ছিল। নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতি সমর্থন কিছুটা কমতে পারে, তবুও তাদের একটি বড় ভোটব্যাংক এখনও বিদ্যমান। এই ভোটারদের সিদ্ধান্তই নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, বিশেষ করে যদি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হাড্ডাহাড্ডি হয়।
মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৮ থেকে ১০ শতাংশ ধর্মীয় সংখ্যালঘু। অতীতে তারা সাধারণত আওয়ামী লীগকে ভোট দিলেও, এবার বিএনপি ও জামায়াত উভয় দলই এই ভোটব্যাংকের দিকে নজর দিয়েছে। হিন্দু ভোটারদের অভিযোগ, উভয় দল থেকেই তারা ‘ভয়ভীতি ও চাপের’ মুখে পড়ছেন।
নেতৃত্ব পর্যায়ে বিএনপি ও জামায়াত উভয় দলই আওয়ামী লীগ সমর্থকদের টানতে নিজেদের ভাবমূর্তি বদলানোর চেষ্টা করছে। জামায়াত এখন দাবি করছে, তারা সংখ্যালঘু বা নারী-বিরোধী নয়। বিএনপির ক্ষেত্রে, তারেক রহমান এখন অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মধ্যপন্থি রাজনীতির কথা বললেও, অতীতে তার উদ্যোগেই জামায়াতের সঙ্গে জোট হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়, যা খালেদা জিয়া ও মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য জ্যেষ্ঠ বিএনপি নেতাদের কাছে ‘অস্বস্তিকর’ ছিল। এছাড়া, বিএনপি এবার মাত্র দুজন হিন্দু প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে।
আওয়ামী লীগ সমর্থক ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা বিএনপি না জামায়াত— কাকে ভোট দেবেন, তা নির্ভর করবে তারা অতীত ভুলে যেতে রাজি কি না তার ওপর। আওয়ামী লীগ সমর্থকেরা ভবিষ্যতের জন্য বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে কে তুলনামূলক ভালো বিকল্প, তাও বিবেচনা করবেন। বিএনপির ‘নতুন ভিশন’ তাদের কিছুটা এগিয়ে রাখলেও, আওয়ামী লীগের সঙ্গে কয়েক দশকের বৈরিতা তারা ভুলতে পারবে কি না, তা-ই বড় প্রশ্ন।
রিপোর্টারের নাম 






















