বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কারনি। গত আট বছরে এটি ছিল দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ, যা অটোয়া ও বেইজিংয়ের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করছে। বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে দুই নেতা উষ্ণ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
প্রায় এক দশক ধরে কানাডা ও চীনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে শীতলতা বিরাজ করছিল। বিশেষ করে ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে ভ্যাংকুভারে চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ের শীর্ষ এক কর্মকর্তার গ্রেপ্তারের ঘটনা দুই দেশের সম্পর্ককে চরম অবনতির দিকে ঠেলে দেয়। এর জেরে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে চীনে কানাডীয় নাগরিকদের আটকের ঘটনাও সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও বাড়িয়ে তোলে।
বেইজিংয়ে পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রী কারনি বুধবার সন্ধ্যায় চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গেও বৈঠক করেন। এরপর তিনি কাতারের আমিরের সঙ্গে আলোচনার জন্য দোহা যাবেন। বর্তমান চীন সফরকে কানাডার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে, যার লক্ষ্য দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনর্গঠন এবং নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ অন্বেষণ করা। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অর্থনৈতিক নির্ভরতা কমানোর কৌশলগত অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
উভয় দেশই অতীতের উত্তপ্ত অধ্যায় পেছনে ফেলে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। হুয়াওয়ের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তার গ্রেপ্তার এবং কানাডীয় নাগরিকদের আটকসংক্রান্ত ঘটনার প্রভাব কাটিয়ে ওঠা এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য। তবে সম্পর্কের এই পথে এখনো বহু সম্ভাব্য মতবিরোধ রয়ে গেছে। কানাডার নির্বাচনে চীনের হস্তক্ষেপের অভিযোগ, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং চীনে কানাডীয় সাংবাদিকদের সীমিত উপস্থিতি এখনো চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অতীত অভিজ্ঞতা কানাডার জন্য সতর্কবার্তা, কারণ বেইজিং অসন্তুষ্ট হলে তার প্রভাব স্পষ্টতই চোখে পড়ে। পশ্চিমা বিশ্বের মূল্যবোধের প্রতি কানাডার অঙ্গীকার প্রায়শই চীনের কৌশলগত উচ্চাকাঙ্ক্ষার সাথে সংঘাত তৈরি করে। দুই দেশের নেতাদের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে এমন একটি খাত খুঁজে বের করা, যেখানে উভয় পক্ষই অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারে।
বৈঠকের আগে কানাডার প্রধানমন্ত্রী কারনি বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে এসে দুই দেশের মধ্যে একটি “নতুন কৌশলগত অংশীদারত্বের” প্রশংসা করেন। তিনি প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে বলেন, “একসঙ্গে আমরা অতীতের সম্পর্কের সেরা দিকগুলো ব্যবহার করে একটি নতুন সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারি। কৃষি, শক্তি ও অর্থনীতি—এগুলো এমন খাত, যেখানে আমরা দ্রুত অগ্রগতি করতে পারি।” এই সফর বাণিজ্যবিরোধ নিষ্পত্তিতে বাস্তব চুক্তির পথ সুগম করতে পারে, তবে সংবেদনশীল বিষয়গুলো কীভাবে সামলানো হবে, সেটিই শেষ পর্যন্ত সম্পর্কের মূল পরীক্ষা হিসেবে রয়ে গেছে।
রিপোর্টারের নাম 



















