ঢাকা ০১:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

বিসিবি পরিচালকের অপেশাদার মন্তব্য ও বিপিএলে অচলাবস্থা: সংকটে দেশের ক্রিকেট

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৯:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ঢাকা পর্বের শুরুতেই এক নজিরবিহীন সংকটের মুখে পড়েছে দেশের ক্রিকেট। বিসিবি পরিচালক নাজমুল ইসলামের কুরুচিপূর্ণ ও অপেশাদার মন্তব্যের প্রতিবাদে ক্রিকেটাররা ম্যাচ বয়কট করায় টুর্নামেন্টের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে। মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নির্ধারিত ম্যাচগুলো মাঠে না গড়ানোয় ক্রিকেট অনুরাগীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

ঘটনার সূত্রপাত বিসিবি পরিচালক নাজমুল ইসলামের সাম্প্রতিক কিছু বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। গত বুধবার গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁদের আর্থিক সংহতি ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে চরম অবমাননাকর বক্তব্য প্রদান করেন। ক্রিকেটারদের পেছনে বোর্ডের খরচের হিসাব টেনে তিনি মন্তব্য করেন যে, কোনো বৈশ্বিক শিরোপা জিততে না পারলে ক্রিকেটারদের উচিত বোর্ড থেকে নেওয়া অর্থ ফেরত দেওয়া। একজন দায়িত্বশীল পদে থেকে ক্রিকেটারদের ‘চাকর-বাকর’ সুলভ মানসিকতায় বিচার করার এই বিষয়টি খেলোয়াড়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।

এর আগেও নাজমুল ইসলাম জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন। বিসিবির মতো একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠানের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে থেকে একজন ক্রিকেটারের ব্যক্তিগত মর্যাদা এবং জাতীয় পর্যায়ে তাঁদের অবদানকে এভাবে তুচ্ছজ্ঞান করার বিষয়টি ক্রীড়াঙ্গনে বড় ধরনের নৈতিক স্খলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গতকাল মিরপুর স্টেডিয়ামে যখন বিপিএলের প্রথম ম্যাচের টস হওয়ার কথা ছিল, তখন মাঠ ছিল সম্পূর্ণ জনশূন্য। বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলামকে একা মাঠে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেলেও কোনো ক্রিকেটার বা দলের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি। বোর্ডের অন্যান্য পরিচালকদের এই সংকটময় মুহূর্তে সভাপতির পাশে না থাকা এবং মাঠের ক্রিকেটের চেয়ে ব্যক্তিগত বিবাদে লিপ্ত হওয়া দেশের ক্রিকেট প্রশাসনের ভঙ্গুর চিত্রকেই ফুটিয়ে তুলছে।

অভিযোগ উঠেছে যে, বর্তমান ক্রিকেট বোর্ডে এমন কিছু অদক্ষ ও অযোগ্য সংগঠকের অনুপ্রবেশ ঘটেছে যারা ক্রিকেটের উন্নয়নের চেয়ে ব্যক্তিগত প্রচার ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে বেশি আগ্রহী। বিশেষ করে ই-ব্যালটের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত বিতর্কিত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আসা এই পরিচালকদের অনেকেরই ক্রিকেটীয় জ্ঞান বা খেলোয়াড়দের প্রতি ন্যূনতম শ্রদ্ধাবোধ নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বোর্ডের অর্থায়নে বিলাসবহুল জীবনযাপন এবং বিদেশ ভ্রমণ করলেও ক্রিকেটারদের প্রাপ্য সম্মান দিতে তারা ব্যর্থ হচ্ছেন।

বিসিবির অন্য কয়েকজন পরিচালক নাজমুল ইসলামের এই ব্যক্তিগত মন্তব্য থেকে নিজেদের সরিয়ে নিলেও ক্রিকেটারদের ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি। খেলোয়াড়দের দাবি, এই ধরনের কুরুচিপূর্ণ মানসিকতাসম্পন্ন ব্যক্তিকে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা থেকে অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে। ক্রিকেটের মর্যাদা ও খেলোয়াড়দের আত্মসম্মান বজায় রাখতে নাজমুল ইসলামের মতো বিতর্কিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি।

দেশের ক্রিকেট কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়; এটি কোটি মানুষের আবেগ ও ভালোবাসার জায়গা। এই সংকটের দ্রুত সমাধান না হলে এবং পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করা না গেলে বাংলাদেশের ক্রিকেট আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বড় ধরনের ভাবমূর্তি সংকটে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আমরা আশা করি, বিসিবি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে ক্রিকেটের সুন্দর পরিবেশ ফিরিয়ে আনবে এবং মাঠের লড়াই আবারও শুরু হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কুয়েতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সতর্কতা মার্কিন দূতাবাসের

বিসিবি পরিচালকের অপেশাদার মন্তব্য ও বিপিএলে অচলাবস্থা: সংকটে দেশের ক্রিকেট

আপডেট সময় : ০৯:৪৯:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ঢাকা পর্বের শুরুতেই এক নজিরবিহীন সংকটের মুখে পড়েছে দেশের ক্রিকেট। বিসিবি পরিচালক নাজমুল ইসলামের কুরুচিপূর্ণ ও অপেশাদার মন্তব্যের প্রতিবাদে ক্রিকেটাররা ম্যাচ বয়কট করায় টুর্নামেন্টের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে। মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নির্ধারিত ম্যাচগুলো মাঠে না গড়ানোয় ক্রিকেট অনুরাগীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

ঘটনার সূত্রপাত বিসিবি পরিচালক নাজমুল ইসলামের সাম্প্রতিক কিছু বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। গত বুধবার গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁদের আর্থিক সংহতি ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে চরম অবমাননাকর বক্তব্য প্রদান করেন। ক্রিকেটারদের পেছনে বোর্ডের খরচের হিসাব টেনে তিনি মন্তব্য করেন যে, কোনো বৈশ্বিক শিরোপা জিততে না পারলে ক্রিকেটারদের উচিত বোর্ড থেকে নেওয়া অর্থ ফেরত দেওয়া। একজন দায়িত্বশীল পদে থেকে ক্রিকেটারদের ‘চাকর-বাকর’ সুলভ মানসিকতায় বিচার করার এই বিষয়টি খেলোয়াড়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।

এর আগেও নাজমুল ইসলাম জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন। বিসিবির মতো একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠানের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে থেকে একজন ক্রিকেটারের ব্যক্তিগত মর্যাদা এবং জাতীয় পর্যায়ে তাঁদের অবদানকে এভাবে তুচ্ছজ্ঞান করার বিষয়টি ক্রীড়াঙ্গনে বড় ধরনের নৈতিক স্খলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গতকাল মিরপুর স্টেডিয়ামে যখন বিপিএলের প্রথম ম্যাচের টস হওয়ার কথা ছিল, তখন মাঠ ছিল সম্পূর্ণ জনশূন্য। বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলামকে একা মাঠে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেলেও কোনো ক্রিকেটার বা দলের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি। বোর্ডের অন্যান্য পরিচালকদের এই সংকটময় মুহূর্তে সভাপতির পাশে না থাকা এবং মাঠের ক্রিকেটের চেয়ে ব্যক্তিগত বিবাদে লিপ্ত হওয়া দেশের ক্রিকেট প্রশাসনের ভঙ্গুর চিত্রকেই ফুটিয়ে তুলছে।

অভিযোগ উঠেছে যে, বর্তমান ক্রিকেট বোর্ডে এমন কিছু অদক্ষ ও অযোগ্য সংগঠকের অনুপ্রবেশ ঘটেছে যারা ক্রিকেটের উন্নয়নের চেয়ে ব্যক্তিগত প্রচার ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে বেশি আগ্রহী। বিশেষ করে ই-ব্যালটের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত বিতর্কিত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আসা এই পরিচালকদের অনেকেরই ক্রিকেটীয় জ্ঞান বা খেলোয়াড়দের প্রতি ন্যূনতম শ্রদ্ধাবোধ নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বোর্ডের অর্থায়নে বিলাসবহুল জীবনযাপন এবং বিদেশ ভ্রমণ করলেও ক্রিকেটারদের প্রাপ্য সম্মান দিতে তারা ব্যর্থ হচ্ছেন।

বিসিবির অন্য কয়েকজন পরিচালক নাজমুল ইসলামের এই ব্যক্তিগত মন্তব্য থেকে নিজেদের সরিয়ে নিলেও ক্রিকেটারদের ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি। খেলোয়াড়দের দাবি, এই ধরনের কুরুচিপূর্ণ মানসিকতাসম্পন্ন ব্যক্তিকে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা থেকে অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে। ক্রিকেটের মর্যাদা ও খেলোয়াড়দের আত্মসম্মান বজায় রাখতে নাজমুল ইসলামের মতো বিতর্কিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি।

দেশের ক্রিকেট কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়; এটি কোটি মানুষের আবেগ ও ভালোবাসার জায়গা। এই সংকটের দ্রুত সমাধান না হলে এবং পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করা না গেলে বাংলাদেশের ক্রিকেট আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বড় ধরনের ভাবমূর্তি সংকটে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আমরা আশা করি, বিসিবি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে ক্রিকেটের সুন্দর পরিবেশ ফিরিয়ে আনবে এবং মাঠের লড়াই আবারও শুরু হবে।