আসন্ন ক্রিকেট বিশ্বকাপ আয়োজন ঘিরে গুরুতর অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ভারতের কঠোর ভিসা নীতি এবং বাংলাদেশের নিরাপত্তা উদ্বেগ টুর্নামেন্টের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি করেছে। অংশগ্রহণকারী বেশ কয়েকটি দেশের ক্রিকেটাররা ভিসা জটিলতায় পড়েছেন, অন্যদিকে বাংলাদেশ নিজেদের ম্যাচগুলো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে অনড়। বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র তিন সপ্তাহ বাকি থাকলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি।
নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ভারতের মাটিতে খেলতে অনীহা প্রকাশ করেছে। তারা নিজেদের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার জন্য আইসিসির কাছে জোরালো দাবি জানিয়েছে। এই দাবি নিয়ে আইসিসির সঙ্গে টানাপোড়েন এখনো চলছে এবং বিষয়টি অমীমাংসিত রয়েছে।
একই সময়ে, ভারতের কঠোর ভিসা নীতি টুর্নামেন্টের আয়োজনকে আরও জটিল করে তুলেছে। মূলত পাকিস্তানে জন্মগ্রহণকারী যেকোনো ব্যক্তির জন্য ভিসা পেতে সমস্যা হচ্ছে, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে। এই নীতি শুধু ক্রিকেটারদের জন্য নয়, পাকিস্তানে জন্ম নেওয়া যেকোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য বলে জানা গেছে।
এই কঠোর নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় দলের চারজন ক্রিকেটার ভিসা জটিলতায় পড়েছেন। তাদের মধ্যে দলের অন্যতম প্রধান পেসার আলি খানও রয়েছেন, যিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিসা না পাওয়ার হতাশা প্রকাশ করেছেন। শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, ওমান, কানাডা, নেদারল্যান্ডসসহ আরও বেশ কয়েকটি দলের পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ক্রিকেটাররা একই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে পারেন। ধারণা করা হচ্ছে, ২০টিরও বেশি পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ক্রিকেটার এই ভিসা জটিলতার কারণে বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারবেন না।
এমন পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) জন্য এক বড় পরীক্ষা। এটি কেবল এক বা দুটি দেশের সমস্যা নয়, অংশগ্রহণকারী প্রায় এক-চতুর্থাংশ দলকেই প্রভাবিত করছে। যেহেতু এটি একটি দেশের অভ্যন্তরীণ নীতি, তাই আইসিসি কীভাবে এর সমাধান করবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র তিন সপ্তাহ বাকি থাকলেও আইসিসি এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে পারেনি।
এর আগে ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের আয়োজন এবং ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ভারতের পাকিস্তানে খেলতে না চাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে আইসিসি ‘হাইব্রিড মডেল’ গ্রহণ করেছিল। সে সময় ভারতের অংশগ্রহণের নিশ্চয়তা দিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভারতের ম্যাচগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। এমন প্রেক্ষাপটে, যখন এতগুলো দল এবং প্রায় অর্ধেক অংশগ্রহণকারী দেশ ভিসা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যার মুখোমুখি, তখন আইসিসি-র ভূমিকা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
যদি দলগুলো তাদের পূর্ণ শক্তির স্কোয়াড নিয়ে বিশ্বকাপে অংশ নিতে না পারে, তাহলে টুর্নামেন্টের মান এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কোনো দলই তাদের সেরা খেলোয়াড়দের বাদ দিতে বাধ্য হতে চায় না। বাংলাদেশের নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং অন্যান্য দেশের ভিসা জটিলতা—এ দুটি বড় কারণ টুর্নামেন্টের সময়সূচি পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ভেন্যুতে সরিয়ে নেওয়া উচিত কিনা, সে প্রশ্নও উঠছে। ক্রিকেটপ্রেমীরা মাঠের বাইরের এই অপ্রয়োজনীয় জটিলতা থেকে মুক্তি পেয়ে একটি সুষ্ঠু ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ বিশ্বকাপ দেখতে চান।
রিপোর্টারের নাম 























