ফেনীর দাগনভূঞায় মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক দুটি খুনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে পারিবারিক কলহের জেরে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। অন্য ঘটনায়, অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে চালককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এই দুটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকালে দাগনভূঞা উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের বাইতুল শরীফ মসজিদ কোয়ার্টারে পারিবারিক কলহের জেরে সাবিনা আক্তার (৪০) নামে এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ ওঠে তার স্বামী মোহাম্মদ ফয়সলের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় সাবিনাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত সাবিনা কুমিল্লার বুড়িচং থানার ইছাপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামের মো. মোমেন ও লুতফা বেগমের মেয়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
এর আগের দিন, অর্থাৎ রোববার (১১ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে একই উপজেলার দক্ষিণ করিমপুর মুহুরী বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় সমীর কুমার দাস (২৮) নামের এক অটোরিকশাচালককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নিহত সমীর মাতুভূঞা ইউনিয়নের রামানন্দপুর গ্রামের জেলে বাড়ির কার্তিক কুমার দাসের ছেলে। তিনি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, রোববার রাতে সমীর বাড়ি না ফেরায় স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ শুরু করেন এবং পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন। পরে রাত আনুমানিক ২টার দিকে দক্ষিণ করিমপুর মুহুরী বাড়ির পাশে তার রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই তাকে হত্যা করা হয়েছে।
দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফয়জুল আজিম জানান, গৃহবধূ হত্যার ঘটনায় প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং অভিযুক্ত স্বামীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অটোরিকশাচালক হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তিনি বলেন, এটি ছিনতাইয়ের উদ্দেশে নাকি অন্য কোনো কারণে সংঘটিত হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতদের পরিবার দুটি হত্যাকাণ্ডেরই সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 























