মাদারীপুর সদর উপজেলার পেয়ারপুর এলাকায় এক মালয়েশিয়া প্রবাসীর বাড়িতে গভীর রাতে সংঘবদ্ধ ডাকাতদল হানা দেয়। গৃহকর্তার অদম্য সাহস ও পরিবারের সদস্যদের চিৎকারে ডাকাতদল পিছু হটতে বাধ্য হয়। তবে পালিয়ে যাওয়ার সময় তারা একাধিক হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র নিরাপত্তাহীনতা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক সোয়া ৩টার দিকে পেয়ারপুর গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী মনিরুজ্জামান রাজা মিয়া খালাসির বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। প্রবাসীর বাড়ির সবাই তখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন। প্রাথমিকভাবে ৮ থেকে ১০ জনের একটি মুখোশধারী দল বাড়ির পেছনের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করে। এতে ব্যর্থ হয়ে তারা সামনের মূল দরজা ভাঙতে শুরু করে।
দরজা ভাঙার শব্দে গৃহকর্তা মনিরুজ্জামান রাজার ঘুম ভেঙে যায়। বিপদ আঁচ করতে পেরে তিনি সাহসিকতার সঙ্গে ডাকাতদের প্রতিরোধে এগিয়ে আসেন। একই সময়ে পরিবারের অন্য সদস্যরাও উচ্চস্বরে চিৎকার শুরু করলে আশপাশের প্রতিবেশীরাও জেগে ওঠেন। প্রবাসীর দৃঢ় প্রতিরোধের মুখে ডাকাতদল সুবিধা করতে না পেরে পিছু হটতে বাধ্য হয়।
তবে পালিয়ে যাওয়ার সময় তারা বেশ কয়েকটি শক্তিশালী হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। বোমার বিকট শব্দে পুরো এলাকা প্রকম্পিত হয়ে ওঠে এবং প্রতিবেশীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।
ভুক্তভোগী প্রবাসী মনিরুজ্জামান রাজা মিয়া খালাসি ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, “দরজা ভাঙার শব্দ পেয়ে আমি দ্রুত প্রস্তুতি নিয়ে তাদের বাধা দিই। আমার প্রতিরোধের কারণেই তারা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়, কিন্তু যাওয়ার সময় বোমা ফাটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক ছড়ায়। বর্তমানে আমি ও আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
স্থানীয় বাসিন্দা নুরজামাল মোল্লা ও প্রতিবেশী খাইরুল বাশার খালাসি এই ধরনের সশস্ত্র হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, “গভীর রাতে এভাবে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলার ঘটনা স্তম্ভিত হওয়ার মতো। আমরা অবিলম্বে এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার এবং এই মুখোশধারী চক্রটিকে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।”
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জানান, “খবর পাওয়ার পর থেকেই পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে। অপরাধীদের ধরতে থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) সহ একাধিক দল মাঠে নিবিড়ভাবে কাজ করছে। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।”
উল্লেখ্য, গত বছরও মাদারীপুর অঞ্চলে কয়েকটি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছিল। এর মধ্যে গত বছরের ১ জানুয়ারি শিবচর পৌরসভাধীন থানা রোডের বিআরবি ক্যাবলের শোরুমে ডাকাতি করে ডাকাতদল প্রায় ৬০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এরপর ২৯ এপ্রিল রাজৈরের সুতারকান্দি গ্রামের ধান ব্যবসায়ী আব্দুল আলিম ফকিরের বাড়িতেও ডাকাতির ঘটনা ঘটে, যেখানে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট হয়। এই ঘটনাগুলো এলাকার মানুষের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
রিপোর্টারের নাম 






















