ঢাকা ০১:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

মিয়ানমার সীমান্তে নির্বিচার গুলিবর্ষণের প্রতিবাদে টেকনাফে জনতা সোচ্চার

মিয়ানমার সীমান্ত থেকে আসা গুলিতে স্কুলছাত্রী হুজাইফা সুলতানা আফরান গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যংয়ের স্থানীয় বাসিন্দারা। সীমান্তজুড়ে নির্বিচার গুলিবর্ষণ বন্ধ এবং আহত শিক্ষার্থীর উন্নত চিকিৎসার দাবিতে তারা এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকালে হোয়াইক্যংয়ের তেচ্ছিব্রিজ হাইওয়ে সড়কে অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীরা মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে বাংলাদেশে গুলিবর্ষণের তীব্র নিন্দা জানান এবং অবিলম্বে জিরো পয়েন্টে সকল প্রকার সংঘর্ষ বন্ধের দাবি তোলেন।

মানববন্ধনে বক্তারা উল্লেখ করেন যে, সীমান্তের ওপার থেকে ছোড়া গুলিতে একটি নিরীহ শিশু শিক্ষার্থীর আহত হওয়া চরম মানবতাবিরোধী অপরাধ। আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরকান আর্মির এমন কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা আহত শিক্ষার্থীর উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে কোনো নিরীহ মানুষ এমন হামলার শিকার না হয়, সে জন্য সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী মানুষ প্রতিদিন চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। শিশু ও নারীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে সীমান্তে স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

বক্তারা জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাত যেন বাংলাদেশে এসে নিরীহ মানুষের জীবন বিপন্ন না করে, সে জন্য আন্তর্জাতিকভাবে চাপ সৃষ্টি করা প্রয়োজন।

এদিকে, আহত শিক্ষার্থী হুজাইফার পিতা জসিম উদ্দিন কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, রবিবার খেলার সময় মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলি তার মেয়ের মাথায় লাগে। বর্তমানে সে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে রয়েছে। তিনি তার মেয়ের সু-চিকিৎসার জন্য সরকারের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মিয়ানমার সীমান্তে নির্বিচার গুলিবর্ষণের প্রতিবাদে টেকনাফে জনতা সোচ্চার

আপডেট সময় : ০৯:২৪:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

মিয়ানমার সীমান্ত থেকে আসা গুলিতে স্কুলছাত্রী হুজাইফা সুলতানা আফরান গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যংয়ের স্থানীয় বাসিন্দারা। সীমান্তজুড়ে নির্বিচার গুলিবর্ষণ বন্ধ এবং আহত শিক্ষার্থীর উন্নত চিকিৎসার দাবিতে তারা এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকালে হোয়াইক্যংয়ের তেচ্ছিব্রিজ হাইওয়ে সড়কে অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীরা মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে বাংলাদেশে গুলিবর্ষণের তীব্র নিন্দা জানান এবং অবিলম্বে জিরো পয়েন্টে সকল প্রকার সংঘর্ষ বন্ধের দাবি তোলেন।

মানববন্ধনে বক্তারা উল্লেখ করেন যে, সীমান্তের ওপার থেকে ছোড়া গুলিতে একটি নিরীহ শিশু শিক্ষার্থীর আহত হওয়া চরম মানবতাবিরোধী অপরাধ। আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরকান আর্মির এমন কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা আহত শিক্ষার্থীর উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে কোনো নিরীহ মানুষ এমন হামলার শিকার না হয়, সে জন্য সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী মানুষ প্রতিদিন চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। শিশু ও নারীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে সীমান্তে স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

বক্তারা জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাত যেন বাংলাদেশে এসে নিরীহ মানুষের জীবন বিপন্ন না করে, সে জন্য আন্তর্জাতিকভাবে চাপ সৃষ্টি করা প্রয়োজন।

এদিকে, আহত শিক্ষার্থী হুজাইফার পিতা জসিম উদ্দিন কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, রবিবার খেলার সময় মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলি তার মেয়ের মাথায় লাগে। বর্তমানে সে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে রয়েছে। তিনি তার মেয়ের সু-চিকিৎসার জন্য সরকারের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।