ঢাকা ০৭:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

রাষ্ট্র সংস্কার ও আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তারেক রহমানের নতুন রূপরেখা

বাংলাদেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আগামীর রাষ্ট্রকাঠামো এবং বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এক নতুন রাজনৈতিক দর্শনের বার্তা দিচ্ছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা দলটিকে সুসংগঠিত করার পাশাপাশি রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা রূপরেখা নিয়ে জনমত তৈরিতে মনোনিবেশ করেছেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের বর্তমান কৌশলের মূলে রয়েছে জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং দলের ভেতর ও বাইরের শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা।

তারেক রহমানের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ধারা পুনরুদ্ধার করা। এই লক্ষ্য অর্জনে তিনি কেবল রাজপথের আন্দোলন নয়, বরং মেধা ও মননভিত্তিক রাজনীতির ওপর জোর দিচ্ছেন। তিনি বারবার উল্লেখ করছেন যে, শুধু ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং রাষ্ট্রের গুণগত পরিবর্তনই বিএনপির মূল লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে তিনি দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ, নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতার মতো মৌলিক বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।

দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষা করাকে তারেক রহমান বর্তমান সময়ের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেছেন। সম্প্রতি বিভিন্ন স্থানে দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে অনেক নেতার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, যা তৃণমূল পর্যায়ে একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, জনগণের আস্থা নষ্ট হয় এমন কোনো কাজ বরদাশত করা হবে না।

অর্থনৈতিক সংকট ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি মোকাবিলায় তারেক রহমান একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার কথা বলছেন। তিনি মনে করেন, দুর্নীতি ও লুটপাট বন্ধ করা গেলে দেশের অর্থনীতিকে পুনরায় সচল করা সম্ভব। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে প্রণোদনা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে যুবসমাজকে মূলধারার অর্থনীতিতে সম্পৃক্ত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেছেন। তার এই অর্থনৈতিক দর্শন মূলত উৎপাদনমুখী ও জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।

এ ছাড়া আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা এবং বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখাও তার পরিকল্পনার একটি বড় অংশ। তিনি বিশ্ববাসীকে এই বার্তা দিতে চাইছেন যে, বিএনপি একটি উদার ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল, যারা উগ্রবাদ ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে বিশ্বাসী।

সামগ্রিকভাবে, তারেক রহমান আগামীর চ্যালেঞ্জগুলোকে কেবল রাজনৈতিক বাধা হিসেবে দেখছেন না, বরং এগুলোকে রাষ্ট্র সংস্কারের সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করতে চান। জনমানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণই তার আগামীর রাজনীতির মূল চালিকাশক্তি। জনগণের আস্থা অর্জন এবং টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার এই যাত্রায় তিনি এখন অনেক বেশি পরিণত ও কৌশলী ভূমিকা পালন করছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানে সহিংসতায় প্রাণহানি: দেশজুড়ে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা

রাষ্ট্র সংস্কার ও আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তারেক রহমানের নতুন রূপরেখা

আপডেট সময় : ০২:০৪:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আগামীর রাষ্ট্রকাঠামো এবং বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এক নতুন রাজনৈতিক দর্শনের বার্তা দিচ্ছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা দলটিকে সুসংগঠিত করার পাশাপাশি রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা রূপরেখা নিয়ে জনমত তৈরিতে মনোনিবেশ করেছেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের বর্তমান কৌশলের মূলে রয়েছে জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং দলের ভেতর ও বাইরের শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা।

তারেক রহমানের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ধারা পুনরুদ্ধার করা। এই লক্ষ্য অর্জনে তিনি কেবল রাজপথের আন্দোলন নয়, বরং মেধা ও মননভিত্তিক রাজনীতির ওপর জোর দিচ্ছেন। তিনি বারবার উল্লেখ করছেন যে, শুধু ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং রাষ্ট্রের গুণগত পরিবর্তনই বিএনপির মূল লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে তিনি দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ, নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতার মতো মৌলিক বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।

দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষা করাকে তারেক রহমান বর্তমান সময়ের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেছেন। সম্প্রতি বিভিন্ন স্থানে দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে অনেক নেতার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, যা তৃণমূল পর্যায়ে একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, জনগণের আস্থা নষ্ট হয় এমন কোনো কাজ বরদাশত করা হবে না।

অর্থনৈতিক সংকট ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি মোকাবিলায় তারেক রহমান একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার কথা বলছেন। তিনি মনে করেন, দুর্নীতি ও লুটপাট বন্ধ করা গেলে দেশের অর্থনীতিকে পুনরায় সচল করা সম্ভব। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে প্রণোদনা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে যুবসমাজকে মূলধারার অর্থনীতিতে সম্পৃক্ত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেছেন। তার এই অর্থনৈতিক দর্শন মূলত উৎপাদনমুখী ও জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।

এ ছাড়া আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা এবং বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখাও তার পরিকল্পনার একটি বড় অংশ। তিনি বিশ্ববাসীকে এই বার্তা দিতে চাইছেন যে, বিএনপি একটি উদার ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল, যারা উগ্রবাদ ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে বিশ্বাসী।

সামগ্রিকভাবে, তারেক রহমান আগামীর চ্যালেঞ্জগুলোকে কেবল রাজনৈতিক বাধা হিসেবে দেখছেন না, বরং এগুলোকে রাষ্ট্র সংস্কারের সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করতে চান। জনমানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণই তার আগামীর রাজনীতির মূল চালিকাশক্তি। জনগণের আস্থা অর্জন এবং টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার এই যাত্রায় তিনি এখন অনেক বেশি পরিণত ও কৌশলী ভূমিকা পালন করছেন।