বর্তমান যুগে শিশুদের মেধা ও মনন বিকাশে ডিজিটাল ডিভাইস এবং ইন্টারনেটের ব্যবহার অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে শিক্ষা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে প্রযুক্তির সংযুক্তি শিশুদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। তবে ইন্টারনেটের এই অবারিত সুযোগ যেমন উপকারি, তেমনি এর অতিরিক্ত ব্যবহার বা আসক্তি শিশুদের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। তাই প্রযুক্তির সুস্থ ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে শিশুর সুরক্ষা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
শিক্ষা ক্ষেত্রে ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রভাব এখন সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান। আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থায় ইন্টারনেটের ব্যবহার ব্যতিরেকে পূর্ণতা অর্জন প্রায় অসম্ভব। বর্তমানে শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই জুম বা গুগল মিটের মতো ভিডিও কনফারেন্সিং অ্যাপ ব্যবহার করে অনলাইন ক্লাসে অংশ নিতে পারছে। শুধু তাই নয়, ইন্টারনেটের কল্যাণে এখন পরীক্ষার ফলাফল জানা, বাড়ির কাজ জমা দেওয়া কিংবা প্রয়োজনীয় ই-বুক ডাউনলোড করা অনেক সহজ হয়ে গেছে। এনসিটিবি-র ওয়েবসাইটে প্রথম থেকে দশম শ্রেণির সব পাঠ্যবই পিডিএফ আকারে পাওয়া যায়, যা শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বড় সহায়ক মাধ্যম। এছাড়া বিভিন্ন অনলাইন লার্নিং প্ল্যাটফর্ম ও ইউটিউবের শিক্ষামূলক চ্যানেলগুলো ব্যবহার করে শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবইয়ের কঠিন বিষয়গুলো খুব সহজেই আয়ত্ত করতে পারছে।
পড়াশোনার পাশাপাশি শিশুদের সুস্থ বিনোদনের ক্ষেত্রেও ইন্টারনেট এক বিশাল মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে শিশুদের জন্য উপযোগী সিনেমা, নাটক এবং কার্টুন দেখার সুযোগ রয়েছে। তবে শিশুদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে সাধারণ ইউটিউবের পরিবর্তে ‘ইউটিউব কিডস’ ব্যবহার করা অনেক বেশি নিরাপদ। এটি মূলত শিশুদের উপযোগী কনটেন্ট দিয়েই সাজানো হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন সৃজনশীল ও শিশুতোষ চ্যানেল শিশুদের সুস্থ সংস্কৃতি চর্চায় উদ্বুদ্ধ করছে।
প্রযুক্তির এই যুগে শিশুকে ইন্টারনেট থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রাখা সম্ভব নয়, বরং তাকে সঠিক ব্যবহারের নিয়ম শেখানোই বুদ্ধিমানের কাজ। ডিজিটাল ডিভাইসের অতিরিক্ত ব্যবহার যেন আসক্তিতে রূপ না নেয়, সেদিকে অভিভাবকদের বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে। ইন্টারনেটের অবারিত দুনিয়ায় শিশুরা যেন কেবল শিক্ষণীয় ও ইতিবাচক বিষয়গুলো গ্রহণ করতে পারে, সেজন্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। সঠিক নির্দেশনার মাধ্যমে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কারিগর হিসেবে শিশুরা নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।
রিপোর্টারের নাম 























