ঢাকা ০৫:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চলতি সপ্তাহেই বিএনপির চেয়ারম্যান পদের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে দলটির শীর্ষ পদটি বর্তমানে শূন্য রয়েছে। তবে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ইতিমধ্যেই ভারপ্রাপ্ত থেকে পূর্ণাঙ্গ চেয়ারম্যানের দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছেন। দলের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও, ৫ জানুয়ারি শোক সপ্তাহ শেষ হওয়ার পরপরই চলতি সপ্তাহে বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে। বিশেষ করে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী প্রচারণায় দলীয় প্রধানের ছবি ব্যবহারের আইনি জটিলতা নিরসনেই এই দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর দলটির নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক কাঠামোতে ঐতিহাসিক পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। দলীয় গঠনতন্ত্রের নিয়ম অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এখন থেকে দলের ‘চেয়ারম্যান’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। যদিও শোকাতুর পরিস্থিতির কারণে এবং দলের ঘোষিত সাত দিনের শোক পালন শেষ না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি বিএনপি।

বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭ (গ) ধারা অনুযায়ী, যেকোনো কারণে চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হলে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান বাকি মেয়াদের জন্য দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এই বিধানের কারণে তারেক রহমানের জন্য আলাদা কোনো নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রয়োজন নেই। ২০১৮ সালে খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর থেকেই তিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে সফলভাবে দল পরিচালনা করে আসছেন। এখন আইনি ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় তিনি পূর্ণাঙ্গ চেয়ারম্যান হিসেবে স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন।

তফসিল অনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী, প্রার্থীরা কেবল তাদের বর্তমান ‘দলীয় প্রধানের’ ছবি পোস্টার ও ব্যানারে ব্যবহার করতে পারবেন। এতদিন অধিকাংশ প্রার্থীর পোস্টারে খালেদা জিয়ার ছবি থাকলেও বর্তমান বাস্তবতায় তা পরিবর্তনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। এই আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুততম সময়ে তারেক রহমানকে দলীয় প্রধান বা চেয়ারম্যান হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেবে বিএনপি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, নির্বাচনী পোস্টারে দলীয় প্রধানের ছবি ছাপানোর বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে তারা সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা নেবেন এবং শিগগিরই কমিশনের সাথে বসবেন। ৫ জানুয়ারি দলের শোক সপ্তাহ শেষ হওয়ার পরেই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন বা বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঘোষণা আসতে পারে।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর ৪১ বছর ধরে বিএনপিকে নেতৃত্ব দিয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া। তার অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমান গত কয়েক বছর ধরে যেভাবে দলকে সুসংগঠিত রেখেছেন, তাতে তার চেয়ারম্যান হওয়াকে একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবেই দেখছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর এখন তার এই আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব গ্রহণ দলটির জন্য নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করবে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষকদের অন্য পেশায় যুক্ত হতে কর্তৃপক্ষের অনুমতি আবশ্যক: শিক্ষামন্ত্রী

চলতি সপ্তাহেই বিএনপির চেয়ারম্যান পদের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা

আপডেট সময় : ০১:০৩:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে দলটির শীর্ষ পদটি বর্তমানে শূন্য রয়েছে। তবে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ইতিমধ্যেই ভারপ্রাপ্ত থেকে পূর্ণাঙ্গ চেয়ারম্যানের দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছেন। দলের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও, ৫ জানুয়ারি শোক সপ্তাহ শেষ হওয়ার পরপরই চলতি সপ্তাহে বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে। বিশেষ করে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী প্রচারণায় দলীয় প্রধানের ছবি ব্যবহারের আইনি জটিলতা নিরসনেই এই দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর দলটির নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক কাঠামোতে ঐতিহাসিক পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। দলীয় গঠনতন্ত্রের নিয়ম অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এখন থেকে দলের ‘চেয়ারম্যান’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। যদিও শোকাতুর পরিস্থিতির কারণে এবং দলের ঘোষিত সাত দিনের শোক পালন শেষ না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি বিএনপি।

বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭ (গ) ধারা অনুযায়ী, যেকোনো কারণে চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হলে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান বাকি মেয়াদের জন্য দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এই বিধানের কারণে তারেক রহমানের জন্য আলাদা কোনো নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রয়োজন নেই। ২০১৮ সালে খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর থেকেই তিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে সফলভাবে দল পরিচালনা করে আসছেন। এখন আইনি ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় তিনি পূর্ণাঙ্গ চেয়ারম্যান হিসেবে স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন।

তফসিল অনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী, প্রার্থীরা কেবল তাদের বর্তমান ‘দলীয় প্রধানের’ ছবি পোস্টার ও ব্যানারে ব্যবহার করতে পারবেন। এতদিন অধিকাংশ প্রার্থীর পোস্টারে খালেদা জিয়ার ছবি থাকলেও বর্তমান বাস্তবতায় তা পরিবর্তনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। এই আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুততম সময়ে তারেক রহমানকে দলীয় প্রধান বা চেয়ারম্যান হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেবে বিএনপি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, নির্বাচনী পোস্টারে দলীয় প্রধানের ছবি ছাপানোর বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে তারা সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা নেবেন এবং শিগগিরই কমিশনের সাথে বসবেন। ৫ জানুয়ারি দলের শোক সপ্তাহ শেষ হওয়ার পরেই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন বা বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঘোষণা আসতে পারে।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর ৪১ বছর ধরে বিএনপিকে নেতৃত্ব দিয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া। তার অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমান গত কয়েক বছর ধরে যেভাবে দলকে সুসংগঠিত রেখেছেন, তাতে তার চেয়ারম্যান হওয়াকে একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবেই দেখছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর এখন তার এই আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব গ্রহণ দলটির জন্য নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করবে।