বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর গত সাত বছরে আয় দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। একই সময়ে তার স্ত্রী তাহেরা আলমের আয়, নগদ অর্থ ও স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের পরিমাণেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে।
চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নির্বাচন কমিশনে আয়-ব্যয়ের হলফনামা জমা দিয়েছেন। হলফনামায় তার ও তার স্ত্রীর আয়, সম্পদ ও মামলা সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে একসময় মোট ৩৫টি মামলা ছিল। এর মধ্যে একটি মামলা বর্তমানে ঢাকার বিশেষ দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। বাকি ৩৪টি মামলা অব্যাহতি, খালাস অথবা প্রত্যাহার করা হয়েছে। হলফনামায় আরও উল্লেখ করা হয়, পেশায় তিনি একজন ব্যবসায়ী এবং তার স্ত্রী তাহেরা আলমও একজন ব্যবসায়ী।
২০২৫ সালে জমা দেওয়া হলফনামায় আমির খসরু তার বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন এক কোটি ৫৯ লাখ ৬৩ হাজার ৪২৪ টাকা। অথচ ২০১৮ সালের নির্বাচনে জমা দেওয়া হলফনামায় তার বার্ষিক আয় ছিল ৭৩ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। অর্থাৎ সাত বছরের ব্যবধানে তার আয় দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে।
একই সময়ে বেড়েছে তার স্ত্রীর আয়ও। ২০১৮ সালে তাহেরা আলমের বার্ষিক আয় ছিল ৯ লাখ টাকা, যা বর্তমানে বেড়ে প্রায় ৩৮ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
সর্বশেষ হলফনামা অনুযায়ী, আমির খসরুর আয়ের খাতগুলোর মধ্যে কৃষিখাত থেকে ৪৫ হাজার টাকা, বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট ও বাণিজ্যিক স্থাপনা ভাড়া থেকে ৬ লাখ ৪ হাজার ৬০০ টাকা, শেয়ার, বন্ড ও ব্যাংক আমানত থেকে ৩৬ লাখ ২৯ হাজার ৮২৪ টাকা এবং আলফা সিকিউরিটিজের শেয়ার থেকে ৩৬ লাখ ৮৪ হাজার টাকা আয় দেখানো হয়েছে। এর পাশাপাশি একটি বিল্ডার্স কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির সাইনিং মানি হিসেবে তার আয় হয়েছে ৮০ লাখ টাকা।
হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর কাছে নগদ টাকা রয়েছে এক কোটি ৮৭ লাখ ৮৫ হাজার ৫৫০ টাকা। তার স্ত্রী তাহেরা আলমের কাছে নগদ টাকা রয়েছে এক কোটি ৩২ লাখ ৫০ হাজার ২৮৭ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আমির খসরুর জমা আছে ১৪ লাখ ৭০ হাজার ১০৮ টাকা এবং তার স্ত্রীর নামে জমা আছে ৩৪ লাখ ৫১ হাজার ৫৯১ টাকা।
শেয়ার ও বন্ড খাতে আমির খসরুর সম্পদের পরিমাণ এক কোটি ৯৮ লাখ ৫১ হাজার ৭৫৬ টাকা। তার স্ত্রীর নামে রয়েছে ৯৮ লাখ ৬০ হাজার টাকার শেয়ার ও বন্ড। সঞ্চয়পত্র ও স্থায়ী আমানতে আমির খসরুর রয়েছে এক কোটি ৯৮ লাখ ৫১ হাজার ৭৫৬ টাকা এবং তাহেরা আলমের নামে রয়েছে ৪৬ লাখ ৫৭ হাজার ৯৬৮ টাকা।
যানবাহনের তালিকায় আমির খসরুর নামে একটি জিপ রয়েছে, যার মূল্য ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তার স্ত্রীর নামে আরেকটি জিপ রয়েছে, যার বাজারমূল্য ৪০ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এ ছাড়া স্বর্ণালংকার রয়েছে ৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকার এবং আসবাবপত্রের মূল্য দেখানো হয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
হলফনামায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নিজ নামে থাকা অকৃষি জমির অর্জনকালীন আর্থিক মূল্য ২৩ লাখ ৯ হাজার ৪ টাকা। নিজ নামে চারটি আবাসিক বা বাণিজ্যিক ভবনের অধিগ্রহণকালীন মূল্য দেখানো হয়েছে এক কোটি এক লাখ ৮৪ হাজার ৪১ টাকা। তার স্ত্রীর নামে থাকা দুটি বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্টের অধিগ্রহণকালীন মূল্য এক কোটি ৩৬ লাখ ২২ হাজার চার টাকা।
রিপোর্টারের নাম 
























