ঢাকা ০২:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

থার্টিফার্স্ট উদযাপন উপলক্ষে পর্যটক বরণে প্রস্তুত কক্সবাজার

প্রতি বছরের মতো এবারও থার্টিফার্স্ট নাইট উদযাপনে সব প্রস্তুতি নিয়েছেন কক্সবাজারের স্থানীয় প্রশাসন ও হোটেল মালিকরা। তবে রাজনৈতিক অস্থিরতা, থার্টি ফার্স্ট নাইটের অনুষ্ঠানে বিধি-নিষেধসহ নানা কারণে হতাশ পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। বিপুলসংখ্যক পর্যটকের পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। কয়েকদিন ধরে পর্যটকরা থার্টিফার্স্ট নাইট উদযাপনে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে আসছেন।

২০২৫ সালকে বিদায়, ২০২৬ সালকে স্বাগত জানাতে লাখো পর্যটক কক্সবাজার ভ্রমণে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে সবকটি হোটেল ও মোটেল আগাম বুকিং হয়েছে। তবে নিষেধাজ্ঞা থাকায় ফার্স্ট নাইট উদযাপনে উন্মুক্ত স্থানে কোনও ধরনের আয়োজন না থাকায় হতাশ ব্যবসায়ীরা।

ইংরেজি নববর্ষ উপলক্ষে ব্যাপক পর্যটক সমাগমের আশায় থাকা সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, এখন পর্যটন মৌসুম। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অনুষ্ঠানের উপর বিধি-নিষেধ আরোপ করায় পর্যটকদের বিমুখ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পর্যটকদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিয়ে আউটডোর অনুষ্ঠানসহ নানা উদ্যোগ নিলে পর্যটন শিল্পখাতে ব্যাপক আয়ের সুযোগ রয়েছে।

পর্যটকদের বরণে হোটেল মালিকরা যাবতীয় প্রস্তুতি নিয়েছেনপর্যটকদের বরণে হোটেল মালিকরা যাবতীয় প্রস্তুতি নিয়েছেন কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের কিটকট ব্যবসায়ী রাফিউল আলম বলেন, ‘বিপুল পরিমাণ পর্যটকে ভরে গেছে কক্সবাজার সৈকত। আগামী এক সপ্তাহে আরও পর্যটকের সমাগম হবে। এতে আমরা ভালো ব্যবসা করতে পারবো। প্রতি মাসে এই রকম পর্যটক আগামন ঘটলে ব্যবসা আরও জমে উঠতো।’

ইনানী বিচ বাংলা ট্যুরিজমের ‘বিচ কায়াকিং’-এর ম্যানেজার মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, ‘কয়েক মাস আগেও তেমন ব্যবসা হয়নি। কিন্তু, গত সপ্তাহ ধরে ইনানী সৈকতে অনেক পর্যটক আসায় ব্যবসায় আলোর মুখ দেখা যাচ্ছে। রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলে আগামী জানুয়ারি মাসেও ব্যবসা ভালো হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।’

কক্সবাজার হোটেল মোটেল মালিকরা বলছেন, ইতোমধ্যে বেশকিছু পর্যটক কক্সবাজারে সমাগম হয়েছে। তাদের বরণে হোটেল মালিকরা যাবতীয় প্রস্তুতি নিয়েছেন। কীভাবে তাদের পর্যাপ্ত সেবা দেওয়া যায় সে বিষয়টিকে প্রধান্য দেওয়া হচ্ছে।’

এ বিষয়ে হোটেল ব্যবসায়ী আবদুর রহমান বলেন, ‘ সৈকতে কোনও প্রকার ওপেন কনসার্টের ব্যবস্থা রাখেনি প্রশাসন। নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে থার্টিফার্স্ট নাইটের অনুষ্ঠান বন্ধ করা ঠিক হয়নি।’

কক্সবাজার কলাতলী মেরিন ড্রাইভ সড়ক হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মৌখিম খান বলেন, ‘যদি থার্টিফার্স্ট নাইটকে ঘিরে অবাধ অনুষ্ঠানমালার ব্যবস্থা থাকতো তাহলে পর্যটকের ব্যাপক সমাহার ঘটতো। বিষয়টি প্রশাসনের কেউ চিন্তা করেনি। বলতে গেলে পর্যটন শিল্প নিয়ে কারও মাথাব্যথা নেই।’

‘সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন সোহেল বাহাদুর বলেন, ‘কক্সবাজার ভ্রমণে আসা অধিকাংশ পর্যটকের সেন্টমাটিনে যেতে আগ্রহ রয়েছে। অথচ, সরকারিভাবে নানা বিধি-নিষেধ আরোপ করার কারণে সেন্টমার্টিন ভ্রমণে যেতে পারছেন না পর্যটকরা। সংশ্লিষ্টদের পর্যটকসেবার কথা মাথায় রেখে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।’

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, ‘থার্টিফার্স্ট নাইট উদযাপনে যেসব পর্যটক ইতোমধ্যে কক্সবাজার ভ্রমণে এসেছেন তাদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার বলয় তৈরি করেছে পুলিশ। বাড়ানো হয়েছে পুলিশ টিম, থাকছে সাদা পোশাকধারী পুলিশ, সিসি ক্যামরা ও ড্রোন ক্যামরার ব্যবস্থা।’

কক্সবাজারসহ দেশের পর্যটন জেলাগুলোতে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, বিধি-নিষেধ আরোপে শিথিলতা ও নানা সুযোগ সুবিধা বাড়ানো হলে পর্যটন শিল্পে বিকাশ ঘটবে, এমনটি মনে করছেন সচেতন মহল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বসাহিত্যের অনুবাদে অসংগতি: একই বইয়ের ভিড়ে উপেক্ষিত বিশ্বসেরারা

থার্টিফার্স্ট উদযাপন উপলক্ষে পর্যটক বরণে প্রস্তুত কক্সবাজার

আপডেট সময় : ০২:২৩:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫

প্রতি বছরের মতো এবারও থার্টিফার্স্ট নাইট উদযাপনে সব প্রস্তুতি নিয়েছেন কক্সবাজারের স্থানীয় প্রশাসন ও হোটেল মালিকরা। তবে রাজনৈতিক অস্থিরতা, থার্টি ফার্স্ট নাইটের অনুষ্ঠানে বিধি-নিষেধসহ নানা কারণে হতাশ পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। বিপুলসংখ্যক পর্যটকের পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। কয়েকদিন ধরে পর্যটকরা থার্টিফার্স্ট নাইট উদযাপনে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে আসছেন।

২০২৫ সালকে বিদায়, ২০২৬ সালকে স্বাগত জানাতে লাখো পর্যটক কক্সবাজার ভ্রমণে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে সবকটি হোটেল ও মোটেল আগাম বুকিং হয়েছে। তবে নিষেধাজ্ঞা থাকায় ফার্স্ট নাইট উদযাপনে উন্মুক্ত স্থানে কোনও ধরনের আয়োজন না থাকায় হতাশ ব্যবসায়ীরা।

ইংরেজি নববর্ষ উপলক্ষে ব্যাপক পর্যটক সমাগমের আশায় থাকা সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, এখন পর্যটন মৌসুম। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অনুষ্ঠানের উপর বিধি-নিষেধ আরোপ করায় পর্যটকদের বিমুখ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পর্যটকদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিয়ে আউটডোর অনুষ্ঠানসহ নানা উদ্যোগ নিলে পর্যটন শিল্পখাতে ব্যাপক আয়ের সুযোগ রয়েছে।

পর্যটকদের বরণে হোটেল মালিকরা যাবতীয় প্রস্তুতি নিয়েছেনপর্যটকদের বরণে হোটেল মালিকরা যাবতীয় প্রস্তুতি নিয়েছেন কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের কিটকট ব্যবসায়ী রাফিউল আলম বলেন, ‘বিপুল পরিমাণ পর্যটকে ভরে গেছে কক্সবাজার সৈকত। আগামী এক সপ্তাহে আরও পর্যটকের সমাগম হবে। এতে আমরা ভালো ব্যবসা করতে পারবো। প্রতি মাসে এই রকম পর্যটক আগামন ঘটলে ব্যবসা আরও জমে উঠতো।’

ইনানী বিচ বাংলা ট্যুরিজমের ‘বিচ কায়াকিং’-এর ম্যানেজার মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, ‘কয়েক মাস আগেও তেমন ব্যবসা হয়নি। কিন্তু, গত সপ্তাহ ধরে ইনানী সৈকতে অনেক পর্যটক আসায় ব্যবসায় আলোর মুখ দেখা যাচ্ছে। রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলে আগামী জানুয়ারি মাসেও ব্যবসা ভালো হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।’

কক্সবাজার হোটেল মোটেল মালিকরা বলছেন, ইতোমধ্যে বেশকিছু পর্যটক কক্সবাজারে সমাগম হয়েছে। তাদের বরণে হোটেল মালিকরা যাবতীয় প্রস্তুতি নিয়েছেন। কীভাবে তাদের পর্যাপ্ত সেবা দেওয়া যায় সে বিষয়টিকে প্রধান্য দেওয়া হচ্ছে।’

এ বিষয়ে হোটেল ব্যবসায়ী আবদুর রহমান বলেন, ‘ সৈকতে কোনও প্রকার ওপেন কনসার্টের ব্যবস্থা রাখেনি প্রশাসন। নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে থার্টিফার্স্ট নাইটের অনুষ্ঠান বন্ধ করা ঠিক হয়নি।’

কক্সবাজার কলাতলী মেরিন ড্রাইভ সড়ক হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মৌখিম খান বলেন, ‘যদি থার্টিফার্স্ট নাইটকে ঘিরে অবাধ অনুষ্ঠানমালার ব্যবস্থা থাকতো তাহলে পর্যটকের ব্যাপক সমাহার ঘটতো। বিষয়টি প্রশাসনের কেউ চিন্তা করেনি। বলতে গেলে পর্যটন শিল্প নিয়ে কারও মাথাব্যথা নেই।’

‘সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন সোহেল বাহাদুর বলেন, ‘কক্সবাজার ভ্রমণে আসা অধিকাংশ পর্যটকের সেন্টমাটিনে যেতে আগ্রহ রয়েছে। অথচ, সরকারিভাবে নানা বিধি-নিষেধ আরোপ করার কারণে সেন্টমার্টিন ভ্রমণে যেতে পারছেন না পর্যটকরা। সংশ্লিষ্টদের পর্যটকসেবার কথা মাথায় রেখে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।’

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, ‘থার্টিফার্স্ট নাইট উদযাপনে যেসব পর্যটক ইতোমধ্যে কক্সবাজার ভ্রমণে এসেছেন তাদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার বলয় তৈরি করেছে পুলিশ। বাড়ানো হয়েছে পুলিশ টিম, থাকছে সাদা পোশাকধারী পুলিশ, সিসি ক্যামরা ও ড্রোন ক্যামরার ব্যবস্থা।’

কক্সবাজারসহ দেশের পর্যটন জেলাগুলোতে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, বিধি-নিষেধ আরোপে শিথিলতা ও নানা সুযোগ সুবিধা বাড়ানো হলে পর্যটন শিল্পে বিকাশ ঘটবে, এমনটি মনে করছেন সচেতন মহল।