ঢাকা ০৫:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জুলাই যোদ্ধা’দের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ, এলাকা থেকে বিতাড়িত বিক্ষোভকারীরা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৫৫:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৫
  • ৭২ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে ‘জুলাই সনদ’ সই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ‘জুলাই যোদ্ধা’ নামে একটি সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে এই উত্তেজনা চলার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের এলাকা থেকে সরিয়ে দিতে সক্ষম হন।

আজ, শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) বেলা পৌনে ২টার দিকে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে থেকে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। সংঘর্ষের পর পুলিশ সদস্যরা ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ ধাওয়া করে সড়কের দুপাশে—খামারবাড়ি, ফার্মগেট এবং ধানমন্ডি-৩২ নম্বরের দিকে সরিয়ে দেয়।

এই সময় উত্তেজিত ‘জুলাই যোদ্ধারা’ পুলিশের দিকে ইট-পাটকেল ছুঁড়তে থাকলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একাধিক সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল ব্যবহার করে। সংঘর্ষে পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি ‘জুলাই যোদ্ধা’ এবং কয়েকজন সংবাদকর্মীও আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

এর আগে সকাল ১০টার দিকেই কয়েকশ ‘জুলাই যোদ্ধা’ সংসদ ভবনের সীমানা পেরিয়ে মূল অনুষ্ঠানস্থলে ঢুকে পড়ে এবং অতিথিদের জন্য নির্ধারিত আসনে বসে যায়। পুলিশ সদস্যরা তাদের সরিয়ে দিতে গেলে প্রথমে উভয়পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও পরে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।

এরপর বেলা পৌনে ১টার দিকে তারা সংসদ ভবনের ২ ও ৩ নম্বর গেট খুলে বাইরে অপেক্ষারত আরও লোকজনকে ভেতরে নিয়ে আসে, যার ফলে পরিস্থিতি দ্রুতই উত্তপ্ত হতে শুরু করে। পুলিশ তাদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে তুমুল সংঘর্ষ বেঁধে যায়।

সংঘর্ষ চলাকালে বিক্ষোভকারীরা মূল মঞ্চের চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করে এবং কয়েকটি স্থানে আগুন ধরিয়ে দেয়। একইসঙ্গে পুলিশের অস্থায়ী ক্যাম্প ও তাঁবুতেও অগ্নিসংযোগ করা হয়। পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে।

ঘটনাস্থলে পরবর্তীতে পুলিশ, সেনাবাহিনী, র‌্যাব ও বিজিবির সদস্যরা উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ একাংশকে খামারবাড়ি ও ফার্মগেটের দিকে এবং অপর অংশকে আসাদগেট, ধানমন্ডি ২৭ ও ৩২ নম্বরের দিকে ধাওয়া করে সরিয়ে দেয়।

জুমার নামাজের পর থেকে বিকেল পর্যন্ত মানিক মিয়া এভিনিউ এলাকায় উত্তেজনা বিরাজমান ছিল। বিকেল ৩টার দিকে ওই এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

বর্তমানেও আসাদগেট ও ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় পুলিশের টহল জোরদার রাখা হয়েছে।

এই ঘটনা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার তালিবুর রহমান বলেছিলেন, ‘জুলাই সনদ সই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকায় পর্যাপ্ত সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জগন্নাথের বেদখল হল উদ্ধারে সব ধরনের আইনি সহায়তার আশ্বাস এমপি হামিদের

জুলাই যোদ্ধা’দের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ, এলাকা থেকে বিতাড়িত বিক্ষোভকারীরা

আপডেট সময় : ০৩:৫৫:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৫

রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে ‘জুলাই সনদ’ সই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ‘জুলাই যোদ্ধা’ নামে একটি সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে এই উত্তেজনা চলার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের এলাকা থেকে সরিয়ে দিতে সক্ষম হন।

আজ, শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) বেলা পৌনে ২টার দিকে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে থেকে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। সংঘর্ষের পর পুলিশ সদস্যরা ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ ধাওয়া করে সড়কের দুপাশে—খামারবাড়ি, ফার্মগেট এবং ধানমন্ডি-৩২ নম্বরের দিকে সরিয়ে দেয়।

এই সময় উত্তেজিত ‘জুলাই যোদ্ধারা’ পুলিশের দিকে ইট-পাটকেল ছুঁড়তে থাকলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একাধিক সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল ব্যবহার করে। সংঘর্ষে পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি ‘জুলাই যোদ্ধা’ এবং কয়েকজন সংবাদকর্মীও আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

এর আগে সকাল ১০টার দিকেই কয়েকশ ‘জুলাই যোদ্ধা’ সংসদ ভবনের সীমানা পেরিয়ে মূল অনুষ্ঠানস্থলে ঢুকে পড়ে এবং অতিথিদের জন্য নির্ধারিত আসনে বসে যায়। পুলিশ সদস্যরা তাদের সরিয়ে দিতে গেলে প্রথমে উভয়পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও পরে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।

এরপর বেলা পৌনে ১টার দিকে তারা সংসদ ভবনের ২ ও ৩ নম্বর গেট খুলে বাইরে অপেক্ষারত আরও লোকজনকে ভেতরে নিয়ে আসে, যার ফলে পরিস্থিতি দ্রুতই উত্তপ্ত হতে শুরু করে। পুলিশ তাদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে তুমুল সংঘর্ষ বেঁধে যায়।

সংঘর্ষ চলাকালে বিক্ষোভকারীরা মূল মঞ্চের চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করে এবং কয়েকটি স্থানে আগুন ধরিয়ে দেয়। একইসঙ্গে পুলিশের অস্থায়ী ক্যাম্প ও তাঁবুতেও অগ্নিসংযোগ করা হয়। পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে।

ঘটনাস্থলে পরবর্তীতে পুলিশ, সেনাবাহিনী, র‌্যাব ও বিজিবির সদস্যরা উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ একাংশকে খামারবাড়ি ও ফার্মগেটের দিকে এবং অপর অংশকে আসাদগেট, ধানমন্ডি ২৭ ও ৩২ নম্বরের দিকে ধাওয়া করে সরিয়ে দেয়।

জুমার নামাজের পর থেকে বিকেল পর্যন্ত মানিক মিয়া এভিনিউ এলাকায় উত্তেজনা বিরাজমান ছিল। বিকেল ৩টার দিকে ওই এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

বর্তমানেও আসাদগেট ও ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় পুলিশের টহল জোরদার রাখা হয়েছে।

এই ঘটনা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার তালিবুর রহমান বলেছিলেন, ‘জুলাই সনদ সই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকায় পর্যাপ্ত সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’