ঢাকা ০৫:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ঐতিহাসিক ‘জুলাই সনদ’ স্বাক্ষর আজ, উপস্থিত থাকবেন প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ।

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৫৪:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৫
  • ৩৩ বার পড়া হয়েছে

বহুল আকাঙ্ক্ষিত জাতীয় ‘জুলাই সনদ’ আজ স্বাক্ষর হতে যাচ্ছে। শুক্রবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বিকেল ৪টায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সভাপতি এবং প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস উপস্থিত থাকবেন।

সেই সঙ্গে এ আয়োজনে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে সরকারের বেশ কয়েকজন উপদেষ্টা ও উচ্চ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তার। ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ স্বাক্ষর অনুষ্ঠান উপলক্ষে একটি বিশেষ বার্তা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে এ বার্তাটি প্রচার করা হয়।

ওই বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আমরা দেশের সব টেলিভিশন ও অনলাইন গণমাধ্যমকে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচারের আহ্বান জানাচ্ছি। দেশের প্রতিটি মানুষকে বলছি—আপনি যেখানেই থাকুন, ঘরে বা পথে, দোকানে, কারখানায়, মাঠে বা খেলাধুলার প্রাঙ্গণে—এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের অংশ হোন। রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা জাতিগত ভিন্নতা সত্ত্বেও আমরা সবাই এক ও অভিন্ন জাতি।”

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, “এটাই আমাদের একসঙ্গে উদ্যাপনের সময়—ঐক্যের শক্তি অনুভব করার সময়, গর্ব ও আশার এই ঐতিহাসিক দিন থেকে নতুন প্রেরণা পাওয়ার সময়।”

গত বছরের আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। প্রথম ধাপে গঠিত ৬টি সংস্কার কমিশনের (সংবিধান, নির্বাচনব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশ ও বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন) সংস্কার প্রস্তাবগুলো নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। প্রথম পর্বে ৩৩টি ও দ্বিতীয় পর্বে ৩০টি দলের সঙ্গে আলোচনা করে ঐকমত্য কমিশন।

গত ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সময়ে দুই পর্বের আলোচনায় মোট ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবে ঐকমত্য ও সিদ্ধান্ত হয়।

গত ১৬ আগস্ট রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে ‘জুলাই সনদের’ খসড়া পাঠায় জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। তবে ওই খসড়ায় কিছু ত্রুটি থাকায়, তা সংশোধন করে নির্ভুল খসড়াটি আবার পাঠানো হয়। এরপর গত ২০ আগস্ট ঐকমত্য কমিশনের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক দলগুলোকে খসড়াটির ওপর যেকোনো ধরনের মতামত দেওয়ার সময় ২২ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এরপরেও ‘জুলাই সনদের’ নানা বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। বিশেষজ্ঞদের সঙ্গেও কমিশনের আলোচনা হয়।

সব দলের মতামত পর্যালোচনা এবং নির্ভুল আকারে ‘জুলাই সনদ’ লিখিতভাবে চূড়ান্ত করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। গত মঙ্গলবার সনদের চূড়ান্ত কপিটি সব রাজনৈতিক দলের কাছে তুলে দেওয়া হয়।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জগন্নাথের বেদখল হল উদ্ধারে সব ধরনের আইনি সহায়তার আশ্বাস এমপি হামিদের

ঐতিহাসিক ‘জুলাই সনদ’ স্বাক্ষর আজ, উপস্থিত থাকবেন প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ।

আপডেট সময় : ১১:৫৪:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৫

বহুল আকাঙ্ক্ষিত জাতীয় ‘জুলাই সনদ’ আজ স্বাক্ষর হতে যাচ্ছে। শুক্রবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বিকেল ৪টায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সভাপতি এবং প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস উপস্থিত থাকবেন।

সেই সঙ্গে এ আয়োজনে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে সরকারের বেশ কয়েকজন উপদেষ্টা ও উচ্চ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তার। ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ স্বাক্ষর অনুষ্ঠান উপলক্ষে একটি বিশেষ বার্তা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে এ বার্তাটি প্রচার করা হয়।

ওই বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আমরা দেশের সব টেলিভিশন ও অনলাইন গণমাধ্যমকে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচারের আহ্বান জানাচ্ছি। দেশের প্রতিটি মানুষকে বলছি—আপনি যেখানেই থাকুন, ঘরে বা পথে, দোকানে, কারখানায়, মাঠে বা খেলাধুলার প্রাঙ্গণে—এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের অংশ হোন। রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা জাতিগত ভিন্নতা সত্ত্বেও আমরা সবাই এক ও অভিন্ন জাতি।”

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, “এটাই আমাদের একসঙ্গে উদ্যাপনের সময়—ঐক্যের শক্তি অনুভব করার সময়, গর্ব ও আশার এই ঐতিহাসিক দিন থেকে নতুন প্রেরণা পাওয়ার সময়।”

গত বছরের আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। প্রথম ধাপে গঠিত ৬টি সংস্কার কমিশনের (সংবিধান, নির্বাচনব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশ ও বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন) সংস্কার প্রস্তাবগুলো নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। প্রথম পর্বে ৩৩টি ও দ্বিতীয় পর্বে ৩০টি দলের সঙ্গে আলোচনা করে ঐকমত্য কমিশন।

গত ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সময়ে দুই পর্বের আলোচনায় মোট ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবে ঐকমত্য ও সিদ্ধান্ত হয়।

গত ১৬ আগস্ট রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে ‘জুলাই সনদের’ খসড়া পাঠায় জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। তবে ওই খসড়ায় কিছু ত্রুটি থাকায়, তা সংশোধন করে নির্ভুল খসড়াটি আবার পাঠানো হয়। এরপর গত ২০ আগস্ট ঐকমত্য কমিশনের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক দলগুলোকে খসড়াটির ওপর যেকোনো ধরনের মতামত দেওয়ার সময় ২২ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এরপরেও ‘জুলাই সনদের’ নানা বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। বিশেষজ্ঞদের সঙ্গেও কমিশনের আলোচনা হয়।

সব দলের মতামত পর্যালোচনা এবং নির্ভুল আকারে ‘জুলাই সনদ’ লিখিতভাবে চূড়ান্ত করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। গত মঙ্গলবার সনদের চূড়ান্ত কপিটি সব রাজনৈতিক দলের কাছে তুলে দেওয়া হয়।