দক্ষিণ কোরিয়ার আকাশসীমার প্রতিরক্ষা শনাক্তকরণ অঞ্চলে (কাডিজ) চীন ও রাশিয়ার যুদ্ধবিমান প্রবেশের ঘটনায় দুই দেশের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানিয়েছে সিউল। মঙ্গলবার সংঘটিত এই ঘটনায় দক্ষিণ কোরিয়া জরুরি পরিস্থিতির প্রস্তুতি হিসেবে নিজস্ব যুদ্ধবিমানও উড়িয়েছিল। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
সিউলের অভিযোগ, সাতটি রুশ ও দুটি চীনা সামরিক বিমান সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য কাডিজে প্রবেশ করেছিল। তবে তারা দক্ষিণ কোরিয়ার সার্বভৌম আকাশসীমা লঙ্ঘন করেনি। আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে প্রতিরক্ষা শনাক্তকরণ অঞ্চল কোনও দেশের সার্বভৌম আকাশসীমার অংশ নয়, তবে এই অঞ্চলে বিদেশি বিমানকে পরিচয় জানানোর নিয়ম রয়েছে।
চলতি বছরের মার্চেও একইভাবে রুশ যুদ্ধবিমান কাডিজে ঢুকলে সিউল যুদ্ধবিমান পাঠিয়েছিল। দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ বাহিনী সদর দফতরের এক কর্মকর্তার বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, এবার রুশ বিমান উল্লেং দ্বীপ ও ডকদো এলাকার কাছে এবং চীনা বিমান ইওদো অঞ্চলে প্রবেশ করে। পরে উভয় দেশের বিমান জাপানের তসুশিমা দ্বীপের নিকটবর্তী আকাশে আবার পুনরায় সংগঠিত হয়।
বুধবার অভিযোগ জানানোর সময় দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, আন্তর্জাতিক আইন মেনে কাডিজে প্রতিবেশী দেশের বিমান কার্যক্রমের বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে সাড়া দেওয়া হবে।
ডকদো দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা দাবি করে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও উত্তর কোরিয়া তিন দেশই। আর জেজু দ্বীপের দক্ষিণে অবস্থিত পানির নিচের শিলা ইওদো নিয়েও বিরোধ রয়েছে সিউল ও বেইজিংয়ের মধ্যে। দু’পক্ষই নিজেদের প্রতিরক্ষা অঞ্চলের মধ্যে এটিকে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
চীন বুধবার নিশ্চিত করেছে, তারা রাশিয়ার সঙ্গে পূর্ব চীন সাগর ও পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের আকাশে যৌথ টহল পরিচালনা করেছে। এটি বেইজিং ও মস্কোর বার্ষিক সহযোগিতা পরিকল্পনার অংশ, যা আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে পরিচালিত বলে দাবি করা হয়েছে।
এর আগেও একই ধরনের মহড়ার সময় একাধিকবার চীন ও রাশিয়ার বিমান দক্ষিণ কোরিয়ার কাডিজে আগাম বার্তা ছাড়াই প্রবেশ করেছে। রাশিয়া অবশ্য সিউলের এ প্রতিরক্ষা অঞ্চলকে একতরফাভাবে ঘোষিত বলে দাবি করে।
রিপোর্টারের নাম 



















