রাশিয়ার সর্বাত্মক আগ্রাসনের পর থেকে জারি থাকা সামরিক আইন সত্ত্বেও ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পরই তিনি এ কথা বলেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছিলেন, যুদ্ধকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে নির্বাচন এড়াচ্ছে ইউক্রেন। তবে জেলেনস্কি শনিবার সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচন নিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা অংশীদারদের সহযোগিতা চাইবেন। নিরাপত্তা নিশ্চিতে সহায়তা পেলে ৬০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যেই ভোট আয়োজন করা সম্ভব বলে জানান তিনি।
জেলেনস্কির পাঁচ বছরের প্রেসিডেন্ট মেয়াদ ২০২৪ সালের মে মাসে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রাশিয়া আগ্রাসনের পর সামরিক আইন জারি হওয়ায় দেশটিতে সব নির্বাচন স্থগিত রয়েছে।
তিনি বলেন, নির্বাচনের বিষয়টি প্রথমত আমাদের জনগণের ওপর নির্ভর করে। সম্মানের সঙ্গে বলছি, এটি ইউক্রেনের মানুষের প্রশ্ন, অন্য দেশের মানুষের নয়।
সম্প্রতি তিনি ক্ষমতায় আঁকড়ে আছেন, এ ধরনের ধারণাকে ‘অযৌক্তিক’ বলে উল্লেখ করেছেন।
রাশিয়া বরাবরই জেলেনস্কিকে অবৈধ নেতা আখ্যা দিয়ে নতুন নির্বাচনকে যুদ্ধবিরতির শর্ত হিসেবে তুলে ধরছে। ট্রাম্পও প্রায় কাছাকাছি বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, একসময় এসে আর গণতন্ত্র থাকে না। কোনও প্রমাণ ছাড়াই তিনি দাবি করেন, শান্তির পথে প্রধান বাধা জেলেনস্কিই।
যুদ্ধাবস্থায় নির্বাচন করার বাস্তব বাধাও রয়েছে। ফ্রন্টলাইনে থাকা সেনাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা, বিদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ৫৭ লাখ মানুষের অংশগ্রহণ, অনিরাপদ অঞ্চল এবং সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি মিলিয়ে সংকট আরও জটিল। ইউক্রেনীয় একজন বিরোধী দলীয় সাংসদ বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ফ্রন্টলাইনের সেনাসহ সব নাগরিককে ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখতে হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সামরিক আইন চলাকালে নির্বাচন না করার বিষয়ে রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজে দৃঢ় ঐকমত্য রয়েছে। পার্লামেন্টের পররাষ্ট্র কমিটির চেয়ারম্যান ওলেক্সান্দর মেরেজকো বলেন, নির্বাচনের কোনও সুযোগ নেই। তার মতে, এ ধারণাটিই পুতিন চাইবেন, কারণ নির্বাচনি প্রচার বিভাজন তৈরি করবে।
কিয়েভ ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব সোশ্যালজি (কেআইআইএস)-এর সেপ্টেম্বরের জরিপে দেখা গেছে, যুদ্ধবিরতির পর নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে নির্বাচন আয়োজন করা উচিত বলে ২২ শতাংশ মানুষ মত দিলেও অধিকাংশই মনে করেন, পূর্ণ সমাধানের পরই নির্বাচন সম্ভব। মার্চে এই হার ছিল মাত্র ৯ শতাংশ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাস্তবে নিরাপত্তার যেসব শর্ত জেলেনস্কি উল্লেখ করেছেন, তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত কঠিন। বিশেষ করে মুক্তাঞ্চল, শরণার্থী, সেনাদের অংশগ্রহণ এবং নিরাপদ ভোটকেন্দ্র সবই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় কোনও সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি ইউক্রেন। এর মধ্যেই জেলেনস্কি ইউরোপীয় সফরে রয়েছেন, যেখানে তিনি ন্যাটো ও ইউরোপীয় নেতাদের অনুরোধ করছেন যেন যুক্তরাষ্ট্র কোনও চাপ প্রয়োগ করে ইউক্রেনকে সমঝোতায় বাধ্য না করে। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, মস্কোর কাছে কোনও ভূখণ্ড ছাড় দেওয়া হবে না।
রিপোর্টারের নাম 



















